ঢাকা
রাজধানীর বকশীবাজারে ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার হলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। শনিবার হলে প্রবেশের চেষ্টা করা শিবিরের নেতা-কর্মীদের বকশীবাজার মোড়ে ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দেয় পুলিশ। পুলিশ বলছে, বৈধ শিক্ষার্থীদের প্রবেশে বাধা নেই; তবে দলবল নিয়ে হলে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।
শনিবার দুপুরে বকশীবাজার মোড়ে গিয়ে দেখা যায়, শিবিরের বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী আলিয়া মাদ্রাসার হলে প্রবেশের চেষ্টা করছেন। তাঁদের সামনে ব্যারিকেড দিয়ে অবস্থান নেয় পুলিশ। দুপুর ১২টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত সেখানে অপেক্ষা করেন তাঁরা। পরে শিবিরের নেতা-কর্মীরা সরে গেলে পুলিশও ব্যারিকেড সরিয়ে নেয়।
এর আগে গত বুধবারও হলে প্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন শিবিরের নেতা-কর্মীরা। সেদিনও পুলিশ তাঁদের আটকে দেয় বলে অভিযোগ সংগঠনটির।
সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি আবদুল আলীম অভিযোগ করেন, হলে ঢোকার ক্ষেত্রে প্রশাসন ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তাঁদের কোনো সহযোগিতা করছে না। তাঁর দাবি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতা-কর্মীরা অস্ত্র নিয়ে হলে অবস্থান করলেও তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। অথচ শিবিরের নেতা-কর্মীরা হলে ঢুকতে গেলেই পুলিশ বাধা দিচ্ছে।
আবদুল আলীম বলেন, শিক্ষার্থীদের থাকার উপযোগী করে হল প্রস্তুত করা প্রশাসনের দায়িত্ব। কিন্তু সেই দায়িত্বও পালন করা হচ্ছে না।
তবে পুলিশ বলছে, শিক্ষার্থীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা নেই। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) লালবাগ জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার আমিনুল কবির বলেন, যেসব শিক্ষার্থীর পরীক্ষা রয়েছে, তাঁরা প্রবেশপত্র দেখিয়ে হলে যেতে পারছেন। বৈধ শিক্ষার্থীরাও যেতে চাইলে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে। তবে দলবদ্ধভাবে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। এতে আবার বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে পুলিশ।
গত ৪ আগস্ট আল্লামা কাশগরী (রহ.) হলের একটি কক্ষে তালা দেওয়া নিয়ে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে প্রথমে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়। পরে তা সংঘর্ষে গড়ায়। একপর্যায়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্যসচিব রবিউল ইসলাম নয়নের নেতৃত্বে যুবদল ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা হলে প্রবেশ করেন। ওই সময় কয়েকটি কক্ষে ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে।
শিবিরের নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, হলে থাকা তাঁদের নেতা-কর্মীদের কক্ষগুলো ভাঙচুর করে ল্যাপটপ, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁদের দাবি, সংঘর্ষের পর থেকেই ছাত্রদল ও যুবদলের নেতা-কর্মীরা হলে অবস্থান করছেন।
অভিযোগ অস্বীকার করেছে ছাত্রদল। আলিয়া মাদ্রাসায় বর্তমানে ছাত্রদলের কোনো কমিটি নেই। তবে হলে অবস্থান করা ছাত্রদল কর্মী সাদ চৌধুরী দাবি করেন, ওই দিন শিবিরের নেতা-কর্মীরা বহিরাগতদের নিয়ে এসে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের কক্ষ ভাঙচুর করেন এবং টাকা-পয়সা নিয়ে যান। পরে তাঁরা হলে প্রবেশ করেন।
সাদ চৌধুরীর দাবি, বর্তমানে ৬০ থেকে ৭০ জন ছাত্রদল কর্মী হলে অবস্থান করছেন। তিনি বলেন, তাঁরা সহাবস্থানে বিশ্বাস করেন। শিবিরের নেতা-কর্মীরা হলে থাকতে চাইলে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে উঠতে পারবেন। তবে আগের মতো সব কক্ষ এককভাবে দখলে রাখার সুযোগ দেওয়া হবে না। আলোচনার মাধ্যমে কারা কতটি কক্ষে থাকবে, তা ঠিক করার কথা বলেন তিনি।
এদিকে আলিয়া মাদ্রাসার হলের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি। হলের প্রভোস্ট মো. মোস্তফা কামাল এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি। তিনি জানান, বিষয়টি এখন সহকারী অধ্যক্ষ দেখছেন। সহকারী অধ্যক্ষ মো. আশরাফুল করিব মুঠোফোনে কথা বলার সময় বৈঠকে থাকার কথা জানান। পরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি আর ফোন ধরেননি।
এর মধ্যে শনিবার বিকেলে আলিয়া মাদ্রাসার আল্লামা কাশগরী (রহ.) হলসংলগ্ন সড়ক থেকে কালো স্কচটেপে মোড়ানো একটি ককটেলসদৃশ বস্তু উদ্ধার করে পুলিশ। স্থানীয় লোকজন বিষয়টি পুলিশকে জানানোর পর ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা সেখানে যান। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁরা জানান, বস্তুটি তেমন বিপজ্জনক কিছু নয়। পরে সেটি নিষ্ক্রিয় করা হয়।
ডিএমপির লালবাগ জোনের উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, ৪ আগস্টের সংঘর্ষের জেরে শনিবার সকালেও এলাকায় কিছুটা উত্তেজনা ছিল। তবে বিকেলের দিকে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আসে। নিরাপত্তার জন্য সেখানে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
2.png)
শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ আগস্ট ২০২৬
রাজধানীর বকশীবাজারে ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার হলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। শনিবার হলে প্রবেশের চেষ্টা করা শিবিরের নেতা-কর্মীদের বকশীবাজার মোড়ে ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দেয় পুলিশ। পুলিশ বলছে, বৈধ শিক্ষার্থীদের প্রবেশে বাধা নেই; তবে দলবল নিয়ে হলে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।
শনিবার দুপুরে বকশীবাজার মোড়ে গিয়ে দেখা যায়, শিবিরের বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী আলিয়া মাদ্রাসার হলে প্রবেশের চেষ্টা করছেন। তাঁদের সামনে ব্যারিকেড দিয়ে অবস্থান নেয় পুলিশ। দুপুর ১২টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত সেখানে অপেক্ষা করেন তাঁরা। পরে শিবিরের নেতা-কর্মীরা সরে গেলে পুলিশও ব্যারিকেড সরিয়ে নেয়।
এর আগে গত বুধবারও হলে প্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন শিবিরের নেতা-কর্মীরা। সেদিনও পুলিশ তাঁদের আটকে দেয় বলে অভিযোগ সংগঠনটির।
সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি আবদুল আলীম অভিযোগ করেন, হলে ঢোকার ক্ষেত্রে প্রশাসন ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তাঁদের কোনো সহযোগিতা করছে না। তাঁর দাবি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতা-কর্মীরা অস্ত্র নিয়ে হলে অবস্থান করলেও তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। অথচ শিবিরের নেতা-কর্মীরা হলে ঢুকতে গেলেই পুলিশ বাধা দিচ্ছে।
আবদুল আলীম বলেন, শিক্ষার্থীদের থাকার উপযোগী করে হল প্রস্তুত করা প্রশাসনের দায়িত্ব। কিন্তু সেই দায়িত্বও পালন করা হচ্ছে না।
তবে পুলিশ বলছে, শিক্ষার্থীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা নেই। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) লালবাগ জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার আমিনুল কবির বলেন, যেসব শিক্ষার্থীর পরীক্ষা রয়েছে, তাঁরা প্রবেশপত্র দেখিয়ে হলে যেতে পারছেন। বৈধ শিক্ষার্থীরাও যেতে চাইলে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে। তবে দলবদ্ধভাবে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। এতে আবার বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে পুলিশ।
গত ৪ আগস্ট আল্লামা কাশগরী (রহ.) হলের একটি কক্ষে তালা দেওয়া নিয়ে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে প্রথমে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়। পরে তা সংঘর্ষে গড়ায়। একপর্যায়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্যসচিব রবিউল ইসলাম নয়নের নেতৃত্বে যুবদল ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা হলে প্রবেশ করেন। ওই সময় কয়েকটি কক্ষে ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে।
শিবিরের নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, হলে থাকা তাঁদের নেতা-কর্মীদের কক্ষগুলো ভাঙচুর করে ল্যাপটপ, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁদের দাবি, সংঘর্ষের পর থেকেই ছাত্রদল ও যুবদলের নেতা-কর্মীরা হলে অবস্থান করছেন।
অভিযোগ অস্বীকার করেছে ছাত্রদল। আলিয়া মাদ্রাসায় বর্তমানে ছাত্রদলের কোনো কমিটি নেই। তবে হলে অবস্থান করা ছাত্রদল কর্মী সাদ চৌধুরী দাবি করেন, ওই দিন শিবিরের নেতা-কর্মীরা বহিরাগতদের নিয়ে এসে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের কক্ষ ভাঙচুর করেন এবং টাকা-পয়সা নিয়ে যান। পরে তাঁরা হলে প্রবেশ করেন।
সাদ চৌধুরীর দাবি, বর্তমানে ৬০ থেকে ৭০ জন ছাত্রদল কর্মী হলে অবস্থান করছেন। তিনি বলেন, তাঁরা সহাবস্থানে বিশ্বাস করেন। শিবিরের নেতা-কর্মীরা হলে থাকতে চাইলে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে উঠতে পারবেন। তবে আগের মতো সব কক্ষ এককভাবে দখলে রাখার সুযোগ দেওয়া হবে না। আলোচনার মাধ্যমে কারা কতটি কক্ষে থাকবে, তা ঠিক করার কথা বলেন তিনি।
এদিকে আলিয়া মাদ্রাসার হলের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি। হলের প্রভোস্ট মো. মোস্তফা কামাল এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি। তিনি জানান, বিষয়টি এখন সহকারী অধ্যক্ষ দেখছেন। সহকারী অধ্যক্ষ মো. আশরাফুল করিব মুঠোফোনে কথা বলার সময় বৈঠকে থাকার কথা জানান। পরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি আর ফোন ধরেননি।
এর মধ্যে শনিবার বিকেলে আলিয়া মাদ্রাসার আল্লামা কাশগরী (রহ.) হলসংলগ্ন সড়ক থেকে কালো স্কচটেপে মোড়ানো একটি ককটেলসদৃশ বস্তু উদ্ধার করে পুলিশ। স্থানীয় লোকজন বিষয়টি পুলিশকে জানানোর পর ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা সেখানে যান। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁরা জানান, বস্তুটি তেমন বিপজ্জনক কিছু নয়। পরে সেটি নিষ্ক্রিয় করা হয়।
ডিএমপির লালবাগ জোনের উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, ৪ আগস্টের সংঘর্ষের জেরে শনিবার সকালেও এলাকায় কিছুটা উত্তেজনা ছিল। তবে বিকেলের দিকে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আসে। নিরাপত্তার জন্য সেখানে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
2.png)