সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

  বানিজ্য বানিজ্য

শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ বাংলাদেশসহ অনেক দেশ। ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে ট্রাম্প

শ্রমিকদের জোরপূর্বক শ্রমে বাধ্য করার অভিযোগে বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশের ওপর বাড়তি শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। এই প্রস্তাব কার্যকর হলে বাংলাদেশের রপ্তানি খাতে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ বাংলাদেশসহ অনেক দেশ। ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে ট্রাম্প
ছবি -সংগৃহীত

বিশ্ববাজারে নিজেদের অবস্থান মজবুত রাখতে যখন লড়াই করছে বাংলাদেশ, ঠিক তখনই যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এল নতুন অশনিসংকেত। শ্রমিকদের জোরপূর্বক শ্রমে বাধ্য করার শর্ত পূরণে ব্যর্থতার অভিযোগে বাংলাদেশের ওপর ১০ শতাংশ বাড়তি শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি কার্যালয় (ইউএসটিআর)। শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের মোট ৬০টি অর্থনীতির ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের এই নতুন শুল্ক কাঠামো আরোপের পরিকল্পনা নিয়ে শুরু হয়েছে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক আলোচনা।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাণিজ্য বৈষম্য মোকাবিলায় ৩০১ ধারার ওপর ভিত্তি করে এই শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ইউএসটিআর-এর তথ্যমতে, জোরপূর্বক শ্রম বন্ধের আন্তর্জাতিক শর্ত মেনে চলতে ব্যর্থ দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ, কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যভুক্ত দেশগুলো, ভারত, চীন ও মেক্সিকোর মতো প্রভাবশালী বাণিজ্যিক অংশীদাররা। এর মধ্যে কিছু দেশের ওপর সাড়ে ১২ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসানোর চিন্তা করছে ওয়াশিংটন।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ মূলত তার পূর্বের জরুরি শুল্ক কাঠামোকে নতুন কৌশলে ফিরিয়ে আনার একটি প্রচেষ্টা। গত বছর ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পরপরই বিভিন্ন দেশের ওপর যে শুল্ক আরোপ করেছিলেন, তা দেশটির আদালতে অবৈধ হিসেবে গণ্য হয়েছিল। মার্কিন আদালত জানিয়েছিল, ১৯৭৭ সালের জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের দোহাই দিয়ে ঢালাওভাবে শুল্ক আরোপ করা সম্ভব নয়। আদালতের সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আপিল করেছিল ট্রাম্প সরকার। কিন্তু আইনি লড়াই দীর্ঘায়িত না করে এখন ইউএসটিআর-এর মাধ্যমে ভিন্ন কৌশলে শুল্ক আরোপের দিকে এগোচ্ছে হোয়াইট হাউস।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি কার্যালয়ের প্রতিনিধি জেমিসন গ্রি এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন, বিশ্বের বড় বড় বাণিজ্যিক অংশীদাররা যদি জোরপূর্বক শ্রম দিয়ে উৎপাদিত পণ্য বন্ধ করতে ব্যর্থ হয়, তবে মার্কিন শ্রমিকরা অসম প্রতিযোগিতার শিকার হবেন। এটি তাদের জন্য মেনে নেওয়া কঠিন।

তবে এই তালিকায় থাকা দেশগুলো মার্কিন প্রশাসনের আনা জোরপূর্বক শ্রমের এই অভিযোগ শুরু থেকেই অস্বীকার করে আসছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইউএসটিআর জানিয়েছে, প্রস্তাবিত শুল্ক ও প্রতিকারমূলক ব্যবস্থার বিষয়ে আগামী ৬ জুলাই পর্যন্ত সাধারণ মানুষের মতামত নেওয়া হবে। এরপর ৭ জুলাই রাখা হয়েছে গণশুনানির দিন। বাংলাদেশের মতো রপ্তানি প্রধান দেশগুলোর জন্য এই সময়টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন এই সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত প্রভাব কী হতে পারে এবং এর বিপরীতে সরকার কী কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেয়—সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছেন ব্যবসায়ীরা।

বিষয় : ট্রাম্পের শাসনকাল ও প্রবাসী ভারতীয় মার্কিন শুল্ক

শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ বাংলাদেশসহ অনেক দেশ। ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে ট্রাম্প
0:00 0:00
1.0x
কাল মহাকাল

বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬


শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ বাংলাদেশসহ অনেক দেশ। ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে ট্রাম্প

প্রকাশের তারিখ : ০৪ জুন ২০২৬

featured Image

বিশ্ববাজারে নিজেদের অবস্থান মজবুত রাখতে যখন লড়াই করছে বাংলাদেশ, ঠিক তখনই যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এল নতুন অশনিসংকেত। শ্রমিকদের জোরপূর্বক শ্রমে বাধ্য করার শর্ত পূরণে ব্যর্থতার অভিযোগে বাংলাদেশের ওপর ১০ শতাংশ বাড়তি শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি কার্যালয় (ইউএসটিআর)। শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের মোট ৬০টি অর্থনীতির ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের এই নতুন শুল্ক কাঠামো আরোপের পরিকল্পনা নিয়ে শুরু হয়েছে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক আলোচনা।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাণিজ্য বৈষম্য মোকাবিলায় ৩০১ ধারার ওপর ভিত্তি করে এই শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ইউএসটিআর-এর তথ্যমতে, জোরপূর্বক শ্রম বন্ধের আন্তর্জাতিক শর্ত মেনে চলতে ব্যর্থ দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ, কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যভুক্ত দেশগুলো, ভারত, চীন ও মেক্সিকোর মতো প্রভাবশালী বাণিজ্যিক অংশীদাররা। এর মধ্যে কিছু দেশের ওপর সাড়ে ১২ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসানোর চিন্তা করছে ওয়াশিংটন।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ মূলত তার পূর্বের জরুরি শুল্ক কাঠামোকে নতুন কৌশলে ফিরিয়ে আনার একটি প্রচেষ্টা। গত বছর ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পরপরই বিভিন্ন দেশের ওপর যে শুল্ক আরোপ করেছিলেন, তা দেশটির আদালতে অবৈধ হিসেবে গণ্য হয়েছিল। মার্কিন আদালত জানিয়েছিল, ১৯৭৭ সালের জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের দোহাই দিয়ে ঢালাওভাবে শুল্ক আরোপ করা সম্ভব নয়। আদালতের সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আপিল করেছিল ট্রাম্প সরকার। কিন্তু আইনি লড়াই দীর্ঘায়িত না করে এখন ইউএসটিআর-এর মাধ্যমে ভিন্ন কৌশলে শুল্ক আরোপের দিকে এগোচ্ছে হোয়াইট হাউস।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি কার্যালয়ের প্রতিনিধি জেমিসন গ্রি এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন, বিশ্বের বড় বড় বাণিজ্যিক অংশীদাররা যদি জোরপূর্বক শ্রম দিয়ে উৎপাদিত পণ্য বন্ধ করতে ব্যর্থ হয়, তবে মার্কিন শ্রমিকরা অসম প্রতিযোগিতার শিকার হবেন। এটি তাদের জন্য মেনে নেওয়া কঠিন।

তবে এই তালিকায় থাকা দেশগুলো মার্কিন প্রশাসনের আনা জোরপূর্বক শ্রমের এই অভিযোগ শুরু থেকেই অস্বীকার করে আসছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইউএসটিআর জানিয়েছে, প্রস্তাবিত শুল্ক ও প্রতিকারমূলক ব্যবস্থার বিষয়ে আগামী ৬ জুলাই পর্যন্ত সাধারণ মানুষের মতামত নেওয়া হবে। এরপর ৭ জুলাই রাখা হয়েছে গণশুনানির দিন। বাংলাদেশের মতো রপ্তানি প্রধান দেশগুলোর জন্য এই সময়টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন এই সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত প্রভাব কী হতে পারে এবং এর বিপরীতে সরকার কী কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেয়—সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছেন ব্যবসায়ীরা।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত