শিক্ষাঙ্গন
দেশের বেসরকারি মাদ্রাসাগুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা আনতে বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তন এনেছে সরকার। এখন থেকে স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি ছাড়া কোনো ব্যক্তি দাখিল, আলিম ও ফাজিল স্তরের বেসরকারি মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হতে পারবেন না। পরিচালনা ব্যবস্থায় যোগ্য ও শিক্ষিত নেতৃত্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
গত ১৭ মে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মিয়া মো. নুরুল হক স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই আদেশ জারি করা হয়। মাদ্রাসা শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন, প্রশাসনিক জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার সাথে সামঞ্জস্য রেখে পরিচালনা পর্ষদকে শক্তিশালী করতেই এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং ভবিষ্যতে যেকোনো মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটি গঠন বা পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে এই নিয়ম কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, সভাপতি পদের জন্য মনোনয়ন বা নির্বাচনে অংশ নিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অবশ্যই তার স্নাতক বা সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ জমা দিতে হবে। শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি নৈতিক স্খলন কিংবা কোনো গুরুতর ফৌজদারি মামলা এবং দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এই পদের জন্য সম্পূর্ণ অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন বেসরকারি মাদ্রাসায় শিক্ষাগত যোগ্যতা ছাড়াই কেবল স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে অযোগ্য ব্যক্তিরা পরিচালনা কমিটির শীর্ষ পদে বসে যাচ্ছিলেন। এর ফলে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম, আর্থিক অপচয় এবং সামগ্রিক শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছিল। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এই ধরনের প্রশাসনিক অদক্ষতা ও বিশৃঙ্খলা দূর করতে সরকার এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞরা সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, মাদ্রাসা শিক্ষাকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করতে হলে প্রাতিষ্ঠানিক স্তরে শিক্ষিত ও দক্ষ নেতৃত্বের কোনো বিকল্প নেই। এই সিদ্ধান্তের ফলে মাদ্রাসার সার্বিক ব্যবস্থাপনায় যেমন পেশাদারিত্ব আসবে, তেমনি শিক্ষার মান নিশ্চিত করাও অনেক সহজ হবে।
বিষয় : মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড মাদ্রাসার সভাপতি যোগ্যতা, বেসরকারি মাদ্রাসা ম্যানেজিং কমিটি মাদ্রাসা প্রজ্ঞাপন ২০২৬
2.png)
শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ মে ২০২৬
দেশের বেসরকারি মাদ্রাসাগুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা আনতে বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তন এনেছে সরকার। এখন থেকে স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি ছাড়া কোনো ব্যক্তি দাখিল, আলিম ও ফাজিল স্তরের বেসরকারি মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হতে পারবেন না। পরিচালনা ব্যবস্থায় যোগ্য ও শিক্ষিত নেতৃত্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
গত ১৭ মে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মিয়া মো. নুরুল হক স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই আদেশ জারি করা হয়। মাদ্রাসা শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন, প্রশাসনিক জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার সাথে সামঞ্জস্য রেখে পরিচালনা পর্ষদকে শক্তিশালী করতেই এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং ভবিষ্যতে যেকোনো মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটি গঠন বা পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে এই নিয়ম কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, সভাপতি পদের জন্য মনোনয়ন বা নির্বাচনে অংশ নিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অবশ্যই তার স্নাতক বা সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ জমা দিতে হবে। শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি নৈতিক স্খলন কিংবা কোনো গুরুতর ফৌজদারি মামলা এবং দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এই পদের জন্য সম্পূর্ণ অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন বেসরকারি মাদ্রাসায় শিক্ষাগত যোগ্যতা ছাড়াই কেবল স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে অযোগ্য ব্যক্তিরা পরিচালনা কমিটির শীর্ষ পদে বসে যাচ্ছিলেন। এর ফলে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম, আর্থিক অপচয় এবং সামগ্রিক শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছিল। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এই ধরনের প্রশাসনিক অদক্ষতা ও বিশৃঙ্খলা দূর করতে সরকার এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞরা সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, মাদ্রাসা শিক্ষাকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করতে হলে প্রাতিষ্ঠানিক স্তরে শিক্ষিত ও দক্ষ নেতৃত্বের কোনো বিকল্প নেই। এই সিদ্ধান্তের ফলে মাদ্রাসার সার্বিক ব্যবস্থাপনায় যেমন পেশাদারিত্ব আসবে, তেমনি শিক্ষার মান নিশ্চিত করাও অনেক সহজ হবে।
2.png)