সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 বিনোদনবিনোদন

৮ কোটি ভিউয়ের ঝড়: ছকবাঁধা গল্পেও কেন বৈশ্বিক চার্টের শীর্ষে শার্লিজ থেরনের ‘অ্যাপেক্স’?

আইসল্যান্ডীয় নির্মাতা বালতাসার কোরমাকুরের পরিচালনায় নেটফ্লিক্সের নতুন সারভাইভ্যাল থ্রিলার; এক উন্মাদ সাইকোপ্যাথ শিকারির বিরুদ্ধে অ্যাকশন তারকা শার্লিজ থেরনের জীবন বাঁচানোর রুদ্ধশ্বাস লড়াই।

৮ কোটি ভিউয়ের ঝড়: ছকবাঁধা গল্পেও কেন বৈশ্বিক চার্টের শীর্ষে শার্লিজ থেরনের ‘অ্যাপেক্স’?
ছবি -সংগৃহীত


বর্তমান সময়ে হলিউডের বড় তারকাদের জন্য ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্সের ‘কর্তব্য’ পালন করা যেন এক অবধারিত নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। অস্কারজয়ী তারকা শার্লিজ থেরনও গত কয়েক বছর ধরে নিয়মিত এই কাজটি করে যাচ্ছেন। নেটফ্লিক্সের এই বিগ-বাজেট সিনেমাগুলো সাধারণত বেশ ঝাঁ-চকচকে হয়, তবে অনেক সময় ভেতরের গল্পে প্রাণের অভাব থাকে। গত ২৪ এপ্রিল মুক্তি পাওয়া সারভাইভ্যাল থ্রিলার ‘অ্যাপেক্স’ (Apex)-এর ক্ষেত্রেও এই কথাটি আংশিক সত্য। কিছু আশাজাগানিয়া মুহূর্ত বাদ দিলে এটি মোটাদাগে একটি চলনসই সিনেমা। কিন্তু তা সত্ত্বেও মুক্তির পর থেকেই বৈশ্বিক টপ চার্টের শীর্ষে রাজত্ব করেছে ছবিটি এবং প্রথম ১০ দিনেই ওটিটি প্ল্যাটফর্মে এটি বাগিয়ে নিয়েছে রেকর্ড ৮ কোটি (৮০ মিলিয়ন) ভিউ!

আইসল্যান্ডীয় নির্মাতা বালতাসার কোরমাকুরের এই সিনেমার নির্মাণশৈলী বেশ পুরোনো ধাঁচের। তবে ছবির শুরুর দৃশ্যটি এককথায় দুর্দান্ত, যা ১৯৯৩ সালের আলোচিত অ্যাকশন সিনেমা ‘ক্লিফহ্যাঙ্গার’-এর স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়। নরওয়ের ট্রল ওয়ালের এক সুউচ্চ খাড়া পাহাড় চূড়া আরোহণে ব্যস্ত সাশা (শার্লিজ থেরন) ও টমি (এরিক বানা)। কনকনে শীতের মাঝে প্রায় ৯০ ডিগ্রি খাড়া এক পাথুরে পাহাড়ের গায়ে ঝুলন্ত একটি তাঁবু থেকে যখন তারা মাথা বের করে, দর্শক তখন আবিষ্কার করে তাদের নিচে অপেক্ষা করছে অতল এক ভয়ংকর খাদ। প্রথম দৃশ্য থেকেই পরিচালক কোরমাকুর ও ‘জোকার’ খ্যাত চিত্রগ্রাহক লরেন্স শের এমন কিছু মাথা ঘুরিয়ে দেওয়া ড্রোন শট ব্যবহার করেছেন, যা পুরো ছবিজুড়েই এক তীব্র বিপদের আবহ ধরে রাখে। প্রতিকূল আবহাওয়া আর পা পিছলে যাওয়ার এক দুর্ঘটনার পর টমি সাশাকে বোঝায় যে, সে তার সহ্যক্ষমতার শেষ সীমায় পৌঁছে গেছে। এর পরদিনই নিরাপদে নিচে নামার চেষ্টায় এক আকস্মিক ট্র্যাজেডিতে সাশা হারায় টমিকে।

টমিকে হারানোর পাঁচ মাস পর শোক কাটাতে সাশা চলে আসে অস্ট্রেলিয়ার কাল্পনিক ‘ওয়ানডারা ন্যাশনাল পার্ক’-এ। উদ্দেশ্য—একাকী ক্যাম্পিং ও নির্জনতার খোঁজ। সেখানে পার্ক রেঞ্জার (অ্যারন পেডারসন) তাকে একা দুর্গম এলাকায় যেতে সতর্ক করেন এবং অফিসের দেয়ালে ঝুলানো অসংখ্য ‘নিখোঁজ ব্যক্তি’র পোস্টার বনের ভেতরের সুপ্ত বিপদের ইঙ্গিত দেয়।

শুরুতেই স্থানীয় এক ক্যাঙারু শিকারি ও তার মাতাল সঙ্গী সাশাকে বিরক্ত করলেও, আসল মোড় ঘোরে যখন দৃশ্যপটে হাজির হয় সদা হাস্যোজ্জ্বল স্থানীয় যুবক বেন (ট্যারন এগারটন)। পেট্রলপাম্পে সে সাশাকে মূল রাস্তা বাদ দিয়ে সুন্দর এক ঘুরপথে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। পরদিন সকালে সাশা যখন নদীতে কায়াকিং করতে নামে, তখন সেই দৃশ্যগুলো ‘দ্য রিভার ওয়াইল্ড’ সিনেমার রোমাঞ্চ মনে করিয়ে দেয়। পাথর আর তীব্র স্রোত পার হওয়ার পর যখন সাশার ব্যাগ চুরি হয়ে যায়, তখন আবারও উদ্ধারকর্তা সেজে হাজির হয় বেন। কিন্তু খুব দ্রুতই বেনের আসল ও ভয়ংকর রূপ উন্মোচিত হয়। জানা যায়, হাতের ক্রসবো (ধনুকবিশেষ) দিয়ে বেন আসলে কোনো বন্যপ্রাণী নয়, বরং সাশাকে শিকার করতে চায়! এরপরই শুরু হয় গহীন জঙ্গলে এক উন্মাদ বিকারগ্রস্ত শিকারি আর সাশার মধ্যকার ইঁদুর-বেড়াল দৌড়।

‘অ্যাপেক্স’ সিনেমার গল্প মূলত ‘উলফ ক্রিক’, ‘কিলিং গ্রাউন্ড’ বা ‘ওয়েক ইন ফ্রাইট’-এর মতো চেনা টেমপ্লেট মেনেই এগিয়েছে। তবে পরিচালক কোরমাকুর অস্ট্রেলিয়ার রুক্ষ পাহাড়ি প্রকৃতি ও ঘন জঙ্গলকে চমৎকারভাবে থ্রিল তৈরির উপাদান হিসেবে ব্যবহার করেছেন।

অভিনয়ের দিক থেকে বিকারগ্রস্ত সাইকোপ্যাথ বেনের চরিত্রে ট্যারন এগারটন এক দুর্দান্ত শীতল ও ভয়ংকর আবহ তৈরি করেছেন। কখনো অদ্ভুত শিশুসুলভ আচরণ, আবার কখনো তীব্র ক্রোধ—অস্ট্রেলিয়ান উচ্চারণে বেনের মানসিক বিকারগ্রস্ততাকে তিনি পর্দায় দারুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। অন্যদিকে, সাশা চরিত্রে শার্লিজ থেরন নিজেকে কোনো অপরাজেয় ‘সুপারহিরো’ হিসেবে উপস্থাপন করেননি। তিনি এখানে এক সত্যিকারের আতঙ্কিত, বিধ্বস্ত কিন্তু মানসিকভাবে ভীষণ দৃঢ় এক নারী। বেনের উন্মাদ চিৎকারের বিপরীতে থেরনের সংযত লড়াই এবং সহনশীলতা ছবিটির মূল আকর্ষণ। বিশেষ করে সরু গিরিখাতে আটকে পড়ার পর সাশার পাহাড় চড়ার দক্ষতা যখন তাকে বাঁচিয়ে দেয়, তখন দর্শকের রোমাঞ্চের পারদ তুঙ্গে ওঠে। অ্যাকশন চরিত্রে থেরনের শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই, তবে এই চরিত্রে তিনি নিজেকে নতুন কোনো চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেননি। মনে হতে পারে, তিনি এখনো তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা চরিত্র ‘ফিউরিওসা’র ছায়াই বয়ে বেড়াচ্ছেন।


১ ঘণ্টা ৩৫ মিনিটের এই সিনেমার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো—এটি চরিত্রের গভীরে প্রবেশ করতে চায় না, কেবল বর্তমানের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ওপর নির্ভর করে। ফলে কিছু অংশ পুনরাবৃত্তিমূলক মনে হতে পারে। এ ছাড়া সাশার মতো একজন অভিজ্ঞ ও বুদ্ধিমান ট্র্যাকার কেন চেনা পথ ছেড়ে একেবারে অচেনা এক যুবকের কথায় জনবিরল বিপজ্জনক পথে পা বাড়াল, সেই চিত্রনাট্যের ফাঁক খটকা তৈরি করে।

গল্পের দিক থেকে খুব বেশি নতুনত্ব না থাকলেও, দুর্দান্ত সিনেমাটোগ্রাফি, টানটান আবহ সংগীত আর দুই প্রধান তারকার চমৎকার অভিনয়ের কারণে উইকএন্ডে কাটানোর মতো একটি উপভোগ্য সারভাইভ্যাল থ্রিলার হয়ে উঠেছে ‘অ্যাপেক্স’।


বিষয় : অ্যাপেক্স_সিনেমা শার্লিজ_থেরন. ট্যারন_এগারটন নেটফ্লিক্স_থ্রিলার সারভাইভ্যাল_ড্রামা

৮ কোটি ভিউয়ের ঝড়: ছকবাঁধা গল্পেও কেন বৈশ্বিক চার্টের শীর্ষে শার্লিজ থেরনের ‘অ্যাপেক্স’?
0:00 0:00
1.0x
কাল মহাকাল

শনিবার, ৩০ মে ২০২৬


৮ কোটি ভিউয়ের ঝড়: ছকবাঁধা গল্পেও কেন বৈশ্বিক চার্টের শীর্ষে শার্লিজ থেরনের ‘অ্যাপেক্স’?

প্রকাশের তারিখ : ১৭ মে ২০২৬

featured Image


বর্তমান সময়ে হলিউডের বড় তারকাদের জন্য ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্সের ‘কর্তব্য’ পালন করা যেন এক অবধারিত নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। অস্কারজয়ী তারকা শার্লিজ থেরনও গত কয়েক বছর ধরে নিয়মিত এই কাজটি করে যাচ্ছেন। নেটফ্লিক্সের এই বিগ-বাজেট সিনেমাগুলো সাধারণত বেশ ঝাঁ-চকচকে হয়, তবে অনেক সময় ভেতরের গল্পে প্রাণের অভাব থাকে। গত ২৪ এপ্রিল মুক্তি পাওয়া সারভাইভ্যাল থ্রিলার ‘অ্যাপেক্স’ (Apex)-এর ক্ষেত্রেও এই কথাটি আংশিক সত্য। কিছু আশাজাগানিয়া মুহূর্ত বাদ দিলে এটি মোটাদাগে একটি চলনসই সিনেমা। কিন্তু তা সত্ত্বেও মুক্তির পর থেকেই বৈশ্বিক টপ চার্টের শীর্ষে রাজত্ব করেছে ছবিটি এবং প্রথম ১০ দিনেই ওটিটি প্ল্যাটফর্মে এটি বাগিয়ে নিয়েছে রেকর্ড ৮ কোটি (৮০ মিলিয়ন) ভিউ!

আইসল্যান্ডীয় নির্মাতা বালতাসার কোরমাকুরের এই সিনেমার নির্মাণশৈলী বেশ পুরোনো ধাঁচের। তবে ছবির শুরুর দৃশ্যটি এককথায় দুর্দান্ত, যা ১৯৯৩ সালের আলোচিত অ্যাকশন সিনেমা ‘ক্লিফহ্যাঙ্গার’-এর স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়। নরওয়ের ট্রল ওয়ালের এক সুউচ্চ খাড়া পাহাড় চূড়া আরোহণে ব্যস্ত সাশা (শার্লিজ থেরন) ও টমি (এরিক বানা)। কনকনে শীতের মাঝে প্রায় ৯০ ডিগ্রি খাড়া এক পাথুরে পাহাড়ের গায়ে ঝুলন্ত একটি তাঁবু থেকে যখন তারা মাথা বের করে, দর্শক তখন আবিষ্কার করে তাদের নিচে অপেক্ষা করছে অতল এক ভয়ংকর খাদ। প্রথম দৃশ্য থেকেই পরিচালক কোরমাকুর ও ‘জোকার’ খ্যাত চিত্রগ্রাহক লরেন্স শের এমন কিছু মাথা ঘুরিয়ে দেওয়া ড্রোন শট ব্যবহার করেছেন, যা পুরো ছবিজুড়েই এক তীব্র বিপদের আবহ ধরে রাখে। প্রতিকূল আবহাওয়া আর পা পিছলে যাওয়ার এক দুর্ঘটনার পর টমি সাশাকে বোঝায় যে, সে তার সহ্যক্ষমতার শেষ সীমায় পৌঁছে গেছে। এর পরদিনই নিরাপদে নিচে নামার চেষ্টায় এক আকস্মিক ট্র্যাজেডিতে সাশা হারায় টমিকে।

টমিকে হারানোর পাঁচ মাস পর শোক কাটাতে সাশা চলে আসে অস্ট্রেলিয়ার কাল্পনিক ‘ওয়ানডারা ন্যাশনাল পার্ক’-এ। উদ্দেশ্য—একাকী ক্যাম্পিং ও নির্জনতার খোঁজ। সেখানে পার্ক রেঞ্জার (অ্যারন পেডারসন) তাকে একা দুর্গম এলাকায় যেতে সতর্ক করেন এবং অফিসের দেয়ালে ঝুলানো অসংখ্য ‘নিখোঁজ ব্যক্তি’র পোস্টার বনের ভেতরের সুপ্ত বিপদের ইঙ্গিত দেয়।

শুরুতেই স্থানীয় এক ক্যাঙারু শিকারি ও তার মাতাল সঙ্গী সাশাকে বিরক্ত করলেও, আসল মোড় ঘোরে যখন দৃশ্যপটে হাজির হয় সদা হাস্যোজ্জ্বল স্থানীয় যুবক বেন (ট্যারন এগারটন)। পেট্রলপাম্পে সে সাশাকে মূল রাস্তা বাদ দিয়ে সুন্দর এক ঘুরপথে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। পরদিন সকালে সাশা যখন নদীতে কায়াকিং করতে নামে, তখন সেই দৃশ্যগুলো ‘দ্য রিভার ওয়াইল্ড’ সিনেমার রোমাঞ্চ মনে করিয়ে দেয়। পাথর আর তীব্র স্রোত পার হওয়ার পর যখন সাশার ব্যাগ চুরি হয়ে যায়, তখন আবারও উদ্ধারকর্তা সেজে হাজির হয় বেন। কিন্তু খুব দ্রুতই বেনের আসল ও ভয়ংকর রূপ উন্মোচিত হয়। জানা যায়, হাতের ক্রসবো (ধনুকবিশেষ) দিয়ে বেন আসলে কোনো বন্যপ্রাণী নয়, বরং সাশাকে শিকার করতে চায়! এরপরই শুরু হয় গহীন জঙ্গলে এক উন্মাদ বিকারগ্রস্ত শিকারি আর সাশার মধ্যকার ইঁদুর-বেড়াল দৌড়।

‘অ্যাপেক্স’ সিনেমার গল্প মূলত ‘উলফ ক্রিক’, ‘কিলিং গ্রাউন্ড’ বা ‘ওয়েক ইন ফ্রাইট’-এর মতো চেনা টেমপ্লেট মেনেই এগিয়েছে। তবে পরিচালক কোরমাকুর অস্ট্রেলিয়ার রুক্ষ পাহাড়ি প্রকৃতি ও ঘন জঙ্গলকে চমৎকারভাবে থ্রিল তৈরির উপাদান হিসেবে ব্যবহার করেছেন।

অভিনয়ের দিক থেকে বিকারগ্রস্ত সাইকোপ্যাথ বেনের চরিত্রে ট্যারন এগারটন এক দুর্দান্ত শীতল ও ভয়ংকর আবহ তৈরি করেছেন। কখনো অদ্ভুত শিশুসুলভ আচরণ, আবার কখনো তীব্র ক্রোধ—অস্ট্রেলিয়ান উচ্চারণে বেনের মানসিক বিকারগ্রস্ততাকে তিনি পর্দায় দারুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। অন্যদিকে, সাশা চরিত্রে শার্লিজ থেরন নিজেকে কোনো অপরাজেয় ‘সুপারহিরো’ হিসেবে উপস্থাপন করেননি। তিনি এখানে এক সত্যিকারের আতঙ্কিত, বিধ্বস্ত কিন্তু মানসিকভাবে ভীষণ দৃঢ় এক নারী। বেনের উন্মাদ চিৎকারের বিপরীতে থেরনের সংযত লড়াই এবং সহনশীলতা ছবিটির মূল আকর্ষণ। বিশেষ করে সরু গিরিখাতে আটকে পড়ার পর সাশার পাহাড় চড়ার দক্ষতা যখন তাকে বাঁচিয়ে দেয়, তখন দর্শকের রোমাঞ্চের পারদ তুঙ্গে ওঠে। অ্যাকশন চরিত্রে থেরনের শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই, তবে এই চরিত্রে তিনি নিজেকে নতুন কোনো চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেননি। মনে হতে পারে, তিনি এখনো তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা চরিত্র ‘ফিউরিওসা’র ছায়াই বয়ে বেড়াচ্ছেন।


১ ঘণ্টা ৩৫ মিনিটের এই সিনেমার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো—এটি চরিত্রের গভীরে প্রবেশ করতে চায় না, কেবল বর্তমানের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ওপর নির্ভর করে। ফলে কিছু অংশ পুনরাবৃত্তিমূলক মনে হতে পারে। এ ছাড়া সাশার মতো একজন অভিজ্ঞ ও বুদ্ধিমান ট্র্যাকার কেন চেনা পথ ছেড়ে একেবারে অচেনা এক যুবকের কথায় জনবিরল বিপজ্জনক পথে পা বাড়াল, সেই চিত্রনাট্যের ফাঁক খটকা তৈরি করে।

গল্পের দিক থেকে খুব বেশি নতুনত্ব না থাকলেও, দুর্দান্ত সিনেমাটোগ্রাফি, টানটান আবহ সংগীত আর দুই প্রধান তারকার চমৎকার অভিনয়ের কারণে উইকএন্ডে কাটানোর মতো একটি উপভোগ্য সারভাইভ্যাল থ্রিলার হয়ে উঠেছে ‘অ্যাপেক্স’।



কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত