সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 বিনোদনবিনোদন

রুপালি পর্দা থেকে মসনদে বিজয়ঃ বাবার স্মৃতিচারণে তার শৈশব

১০৮ আসনে জিতেও ছিল টানাপোড়েন, অবশেষে সব জল্পনা কাটিয়ে চেন্নাইয়ের স্টেডিয়ামে শপথ নিলেন পর্দার এই মহাতারকা।

রুপালি পর্দা থেকে মসনদে বিজয়ঃ বাবার স্মৃতিচারণে তার শৈশব
ছবি -সংগৃহীত


সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানাল তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল। গত ৪ মে ফল প্রকাশের পর থেকেই ভারতের এই দক্ষিণী রাজ্যটিতে শুরু হয়েছিল তুমুল রাজনৈতিক উত্তেজনা। অভিনেতা থেকে রাজনীতিবিদ বনে যাওয়া থালাপতি বিজয়ের দল ‘তামিলাগা ভেট্রি কাজাগাম’ (টিভিকে) ১০৮টি আসন পেয়ে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেও ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে পারেনি। ফলে কয়েক দিন ধরে চলে সিনেমাটিক সব নাটকীয়তা। অবশেষে রোববার (১০ মে) সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন বিজয়।

২০২৪ সালে দল গঠনের পর প্রথম নির্বাচনে নেমেই যে বাজিমাত বিজয় দেখালেন, তাতে আজ দেশজুড়ে তাঁর জয়জয়কার। তবে এই সাফল্যের পথটা কিন্তু সবসময় মখমল বিছানো ছিল না।

সংগ্রামের দিনগুলো ভোলেননি বাবা

ছেলের এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে আবেগে ভাসছেন তাঁর বাবা, প্রখ্যাত দক্ষিণী পরিচালক এসএ চন্দ্রশেখর। তিনি মনে করিয়ে দিলেন বিজয়ের শৈশবের সেই কঠিন দিনগুলোর কথা। ১৯৭৩ সালে বিয়ের পর ১৯৭৪ সালে যখন বিজয়ের জন্ম হয়, তখন চন্দ্রশেখর ছিলেন একজন সাধারণ সহ-পরিচালক। একবেলা খাবারের জোগাড় করতেও তখন তাঁদের রীতিমতো লড়াই করতে হতো।

চন্দ্রশেখর জানান, দারিদ্র্যের সেই দিনগুলোতে তিনি স্বপ্ন দেখতেন ছেলে একদিন বড় মানুষ হয়ে আর্তমানবতার সেবায় নিজেকে সপে দেবে। আজ ছেলের শপথ গ্রহণ দেখে তাঁর চোখে জল চলে এসেছে। সোজা কথায়, কঠোর পরিশ্রম আর নিয়মানুবর্তিতার জোরেই রুপালি পর্দার নায়ক আজ বাস্তবের জননেতা হয়ে উঠেছেন।

মানুষের ভালোবাসায় রাজদণ্ড

বিজয় তাঁর অভিনয় জীবনের তুঙ্গস্পর্শী জনপ্রিয়তাকেই রাজনৈতিক পুঁজি করেছিলেন। তবে তাঁর বাবার মতে, দারিদ্র্যকে খুব কাছ থেকে দেখেছিলেন বলেই মানুষের প্রতি বিজয়ের এই টান ও ভালোবাসা সবসময় অটুট ছিল। চন্দ্রশেখর গর্ব করে বলেন, "ও আমার স্বপ্ন পূরণ করেছে। জীবনের সব প্রতিকূলতা জয় করে সে আজ যে জায়গায় পৌঁছেছে, একজন বাবার কাছে এর চেয়ে বড় আনন্দ আর কিছু হতে পারে না।"

 সিনেমা হলের পর্দা থেকে বেরিয়ে প্রশাসনিক সচিবালয়ের চেয়ারে বিজয় কতটা সফল হন, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছে পুরো তামিলনাড়ু। তবে তাঁর এই উত্থান বুঝিয়ে দিল—সদিচ্ছা থাকলে শূন্য থেকে শিখরে পৌঁছানো কেবল সিনেমার গল্প নয়, বাস্তবও হতে পারে।


বিষয় : টিভিকে তামিলনাড়ু নির্বাচন থালাপতি বিজয়

রুপালি পর্দা থেকে মসনদে বিজয়ঃ বাবার স্মৃতিচারণে তার শৈশব
0:00 0:00
1.0x
কাল মহাকাল

শনিবার, ৩০ মে ২০২৬


রুপালি পর্দা থেকে মসনদে বিজয়ঃ বাবার স্মৃতিচারণে তার শৈশব

প্রকাশের তারিখ : ১১ মে ২০২৬

featured Image


সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানাল তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল। গত ৪ মে ফল প্রকাশের পর থেকেই ভারতের এই দক্ষিণী রাজ্যটিতে শুরু হয়েছিল তুমুল রাজনৈতিক উত্তেজনা। অভিনেতা থেকে রাজনীতিবিদ বনে যাওয়া থালাপতি বিজয়ের দল ‘তামিলাগা ভেট্রি কাজাগাম’ (টিভিকে) ১০৮টি আসন পেয়ে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেও ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে পারেনি। ফলে কয়েক দিন ধরে চলে সিনেমাটিক সব নাটকীয়তা। অবশেষে রোববার (১০ মে) সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন বিজয়।

২০২৪ সালে দল গঠনের পর প্রথম নির্বাচনে নেমেই যে বাজিমাত বিজয় দেখালেন, তাতে আজ দেশজুড়ে তাঁর জয়জয়কার। তবে এই সাফল্যের পথটা কিন্তু সবসময় মখমল বিছানো ছিল না।

সংগ্রামের দিনগুলো ভোলেননি বাবা

ছেলের এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে আবেগে ভাসছেন তাঁর বাবা, প্রখ্যাত দক্ষিণী পরিচালক এসএ চন্দ্রশেখর। তিনি মনে করিয়ে দিলেন বিজয়ের শৈশবের সেই কঠিন দিনগুলোর কথা। ১৯৭৩ সালে বিয়ের পর ১৯৭৪ সালে যখন বিজয়ের জন্ম হয়, তখন চন্দ্রশেখর ছিলেন একজন সাধারণ সহ-পরিচালক। একবেলা খাবারের জোগাড় করতেও তখন তাঁদের রীতিমতো লড়াই করতে হতো।

চন্দ্রশেখর জানান, দারিদ্র্যের সেই দিনগুলোতে তিনি স্বপ্ন দেখতেন ছেলে একদিন বড় মানুষ হয়ে আর্তমানবতার সেবায় নিজেকে সপে দেবে। আজ ছেলের শপথ গ্রহণ দেখে তাঁর চোখে জল চলে এসেছে। সোজা কথায়, কঠোর পরিশ্রম আর নিয়মানুবর্তিতার জোরেই রুপালি পর্দার নায়ক আজ বাস্তবের জননেতা হয়ে উঠেছেন।

মানুষের ভালোবাসায় রাজদণ্ড

বিজয় তাঁর অভিনয় জীবনের তুঙ্গস্পর্শী জনপ্রিয়তাকেই রাজনৈতিক পুঁজি করেছিলেন। তবে তাঁর বাবার মতে, দারিদ্র্যকে খুব কাছ থেকে দেখেছিলেন বলেই মানুষের প্রতি বিজয়ের এই টান ও ভালোবাসা সবসময় অটুট ছিল। চন্দ্রশেখর গর্ব করে বলেন, "ও আমার স্বপ্ন পূরণ করেছে। জীবনের সব প্রতিকূলতা জয় করে সে আজ যে জায়গায় পৌঁছেছে, একজন বাবার কাছে এর চেয়ে বড় আনন্দ আর কিছু হতে পারে না।"

 সিনেমা হলের পর্দা থেকে বেরিয়ে প্রশাসনিক সচিবালয়ের চেয়ারে বিজয় কতটা সফল হন, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছে পুরো তামিলনাড়ু। তবে তাঁর এই উত্থান বুঝিয়ে দিল—সদিচ্ছা থাকলে শূন্য থেকে শিখরে পৌঁছানো কেবল সিনেমার গল্প নয়, বাস্তবও হতে পারে।



কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত