প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান
রাজনীতি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নবনির্বাচিত ৪৯ জন সদস্য আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করেছেন। আজ রোববার এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তাঁদের শপথবাক্য পাঠ করান। এই শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের পূর্ণাঙ্গ যাত্রার পথে আরও এক ধাপ অগ্রগতি সাধিত হলো।
সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাত ৯টার দিকে জাতীয় সংসদের শপথকক্ষে এই শপথ অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম নবনির্বাচিত নারী সদস্যদের সংবিধানের প্রতি আনুগত্যের শপথ পড়ান। শপথ গ্রহণ শেষে তাঁরা ঐতিহ্যবাহী রীতি অনুযায়ী সংসদ সচিবের কক্ষে রক্ষিত শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংসদ সচিবালয়ের সচিব মো. গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়া।
শপথ নেওয়া ৪৯ জন সদস্যের মধ্যে দলীয় ও জোটগত সমীকরণ নিম্নরূপ:
বিএনপি জোট: ৩৬ জন সদস্য।
জামায়াতে ইসলামী জোট: ১২ জন সদস্য।
স্বতন্ত্র জোট: ১ জন সদস্য।
জাতীয় সংসদে নারীদের প্রতিনিধিত্ব এবং তাঁদের সংরক্ষিত আসনের এই বণ্টন ত্রয়োদশ সংসদের রাজনৈতিক ভারসাম্য ও দলীয় শক্তির চিত্র ফুটিয়ে তুলেছে।
সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানটি দেশের রাজনৈতিক ও নির্বাহী বিভাগের শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতিতে এক ভিন্ন মাত্রা পায়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল এবং চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গও উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন মোট ৫০টি। এর মধ্যে জামায়াতে ইসলামী জোটের অনুকূলে ১৩টি আসন বণ্টিত হয়েছিল। তবে আজ ৪৯ জন সদস্য শপথ নেওয়ায় একটি আসন এখনো শূন্য রয়ে গেছে। এই শূন্য আসনটিকে ঘিরে বর্তমানে আইনি জটিলতা চলছে।
সংসদ সচিবালয় জানায়, জামায়াত জোটের একজন প্রার্থী মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সময় রিটার্নিং কর্মকর্তা কর্তৃক বাতিল হয়। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি উচ্চ আদালতে রিট দায়ের করেছেন, যা এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। অন্যদিকে, জামায়াত জোটের আরেক প্রার্থী নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র নির্ধারিত সময়ের পরে জমা দেওয়ায় রিটার্নিং কর্মকর্তা গ্রহণ করেননি। পরে আদালতের নির্দেশে তাঁর মনোনয়নপত্র গৃহীত হয় এবং বাছাইয়ে বৈধ হিসেবে ঘোষিত হয়। তবে আদালতের চূড়ান্ত নির্দেশনা ও গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তাঁকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে 'নির্বাচিত' ঘোষণা না করায় তিনি আজ শপথ নিতে পারেননি। মনিরা শারমিনের রিট আবেদনটি নিষ্পত্তির পরই ৫০তম আসনটির ভাগ্য নির্ধারিত হবে বলে জানা গেছে।
বিষয় : বাংলাদেশ শপথ নারী আসন, সংসদ

সোমবার, ০৪ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ মে ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নবনির্বাচিত ৪৯ জন সদস্য আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করেছেন। আজ রোববার এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তাঁদের শপথবাক্য পাঠ করান। এই শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের পূর্ণাঙ্গ যাত্রার পথে আরও এক ধাপ অগ্রগতি সাধিত হলো।
সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাত ৯টার দিকে জাতীয় সংসদের শপথকক্ষে এই শপথ অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম নবনির্বাচিত নারী সদস্যদের সংবিধানের প্রতি আনুগত্যের শপথ পড়ান। শপথ গ্রহণ শেষে তাঁরা ঐতিহ্যবাহী রীতি অনুযায়ী সংসদ সচিবের কক্ষে রক্ষিত শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংসদ সচিবালয়ের সচিব মো. গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়া।
শপথ নেওয়া ৪৯ জন সদস্যের মধ্যে দলীয় ও জোটগত সমীকরণ নিম্নরূপ:
বিএনপি জোট: ৩৬ জন সদস্য।
জামায়াতে ইসলামী জোট: ১২ জন সদস্য।
স্বতন্ত্র জোট: ১ জন সদস্য।
জাতীয় সংসদে নারীদের প্রতিনিধিত্ব এবং তাঁদের সংরক্ষিত আসনের এই বণ্টন ত্রয়োদশ সংসদের রাজনৈতিক ভারসাম্য ও দলীয় শক্তির চিত্র ফুটিয়ে তুলেছে।
সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানটি দেশের রাজনৈতিক ও নির্বাহী বিভাগের শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতিতে এক ভিন্ন মাত্রা পায়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল এবং চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গও উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন মোট ৫০টি। এর মধ্যে জামায়াতে ইসলামী জোটের অনুকূলে ১৩টি আসন বণ্টিত হয়েছিল। তবে আজ ৪৯ জন সদস্য শপথ নেওয়ায় একটি আসন এখনো শূন্য রয়ে গেছে। এই শূন্য আসনটিকে ঘিরে বর্তমানে আইনি জটিলতা চলছে।
সংসদ সচিবালয় জানায়, জামায়াত জোটের একজন প্রার্থী মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সময় রিটার্নিং কর্মকর্তা কর্তৃক বাতিল হয়। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি উচ্চ আদালতে রিট দায়ের করেছেন, যা এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। অন্যদিকে, জামায়াত জোটের আরেক প্রার্থী নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র নির্ধারিত সময়ের পরে জমা দেওয়ায় রিটার্নিং কর্মকর্তা গ্রহণ করেননি। পরে আদালতের নির্দেশে তাঁর মনোনয়নপত্র গৃহীত হয় এবং বাছাইয়ে বৈধ হিসেবে ঘোষিত হয়। তবে আদালতের চূড়ান্ত নির্দেশনা ও গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তাঁকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে 'নির্বাচিত' ঘোষণা না করায় তিনি আজ শপথ নিতে পারেননি। মনিরা শারমিনের রিট আবেদনটি নিষ্পত্তির পরই ৫০তম আসনটির ভাগ্য নির্ধারিত হবে বলে জানা গেছে।
