বানিজ্য বানিজ্য

রাত ৯ টা পর্যন্ত শপিং মল খোলা রাখার দাবি ব্যবসায়িদের: সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি সাশ্রয়ে সন্ধ্যা ৭টায় দোকান বন্ধের সিদ্ধান্তে লোকসানের মুখে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা; ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাত ৯টা পর্যন্ত সময় বৃদ্ধির আবেদন।

রাত ৯ টা পর্যন্ত  শপিং মল খোলা রাখার দাবি ব্যবসায়িদের:  সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়
ছবি -সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব থেকে দেশীয় অর্থনীতিকে সুরক্ষা দিতে সরকার বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে সারা দেশের দোকানপাট ও শপিং মল বন্ধ রাখার কঠোর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করছে। তবে এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের লাখো ব্যবসায়ী চরম আর্থিক লোকসানের মুখে পড়েছেন বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি। আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা ও সাধারণ ক্রেতাদের সুবিধার্থে দোকান বন্ধের এই সময়সীমা সন্ধ্যা ৭টার পরিবর্তে রাত ৯টা পর্যন্ত করার জোর দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়িক নেতারা।

আজ রোববার সকালে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সংকটের কথা তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি মো. নাজমুল হাসান মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুর রহমান স্বাক্ষরিত এই আবেদনে বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহতা উল্লেখ করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

সময়সীমা ও ব্যবসায়িক বাস্তবতার সংঘাত

জ্বালানি সংকটের কারণে সরকার যখন বিদ্যুৎ সাশ্রয়কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে, ঠিক তখনই মাঠপর্যায়ের ব্যবসায়ীরা বলছেন ভিন্ন কথা। মালিক সমিতির নেতাদের মতে, বাংলাদেশের শপিং কালচার বা কেনাকাটার ধরনটি মূলত সন্ধ্যা-কেন্দ্রিক। অধিকাংশ কর্মজীবী মানুষ সারা দিনের অফিস শেষে সন্ধ্যার পরই বাজারে আসেন। ফলে ঠিক সেই সময়েই যদি দোকান বন্ধ করে দিতে হয়, তবে ব্যবসায়ীরা বিক্রির মূল সময়টিই হারিয়ে ফেলছেন।

সমিতির সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান বলেন, “আমরা সরকারের সাশ্রয়ী নীতির বিরোধী নই। কিন্তু সন্ধ্যা ৭টায় দোকান বন্ধের অর্থ হলো ব্যবসায়ীদের হাত-পা বেঁধে দেওয়া। অফিস ফেরত ক্রেতারা যখন বাজারে পৌঁছান, তখনই আমাদের ঝাঁপ নামাতে হচ্ছে। এতে করে গত কয়েক সপ্তাহে বিক্রির হার প্রায় ৪০ শতাংশ কমে গেছে।” তিনি আরও যোগ করেন যে, ক্ষুদ্র ও মাঝারি পর্যায়ের ব্যবসায়ীরা, বিশেষ করে যারা তৈরি পোশাক বা নিত্যপণ্য বিক্রি করেন, তারা ব্যাংক ঋণ এবং দোকানের ভাড়ার চাপে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

বিকল্প প্রস্তাব: বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে নতুন ফর্মুলা

ব্যবসায়ীরা কেবল দাবিই জানাননি, বরং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকারকে একটি টেকসই বিকল্প প্রস্তাবও দিয়েছেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, যদি রাত ৯টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হয়, তবে সে ক্ষেত্রে সাশ্রয়ের ভারসাম্য বজায় রাখতে সকালে দোকান খোলার সময় পিছিয়ে দেওয়া যেতে পারে। বর্তমানে সাধারণত সকাল ৯টায় দোকান খোলা হয়, ব্যবসায়ীরা সেটি পিছিয়ে বেলা ১১টা করার প্রস্তাব দিয়েছেন।

নেতাদের দাবি, সকালে ২ ঘণ্টা দেরি করে দোকান খুললে বিদ্যুতের একটি বড় অংশ সাশ্রয় হবে, যা রাতের বাড়তি দুই ঘণ্টার চাহিদাকে পূরণ করতে পারবে। এতে সরকার তার সাশ্রয়ী লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারবে এবং ব্যবসায়ীরাও তাদের পণ্য বিক্রির পর্যাপ্ত সময় পাবেন। এছাড়া তারা সরকারের নির্ধারিত যেকোনো শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা মেনে চলারও পূর্ণ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাবের আশঙ্কা

বাজার বিশ্লেষক ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা সতর্ক করে বলেছেন, কেনাকাটা কমে গেলে এর প্রভাব কেবল ব্যবসায়ীদের ওপরই পড়বে না, বরং সরকারের রাজস্ব আদায়েও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (SME) খাতের এই অচলাবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে অনেক প্রতিষ্ঠান স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে, যা বেকারত্ব বাড়িয়ে দিতে পারে।

বিশেষ করে ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে যখন কোটি কোটি টাকার বিনিয়োগ হচ্ছে, তখন বাজার স্থবির হয়ে পড়লে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ধস নামার সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা মনে করেন, একটি ভারসাম্যপূর্ণ সিদ্ধান্তই পারে জ্বালানি নিরাপত্তা ও সচল অর্থনীতির মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করতে। এখন দেখার বিষয়, পবিত্র ঈদের আবহ এবং লাখো ব্যবসায়ীর জীবন-জীবিকার কথা বিবেচনা করে সরকার সময়ের এই কড়াকড়ি কিছুটা শিথিল করে কি না।

কাল মহাকাল

রোববার, ০৩ মে ২০২৬


রাত ৯ টা পর্যন্ত শপিং মল খোলা রাখার দাবি ব্যবসায়িদের: সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়

প্রকাশের তারিখ : ০৩ মে ২০২৬

featured Image

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব থেকে দেশীয় অর্থনীতিকে সুরক্ষা দিতে সরকার বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে সারা দেশের দোকানপাট ও শপিং মল বন্ধ রাখার কঠোর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করছে। তবে এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের লাখো ব্যবসায়ী চরম আর্থিক লোকসানের মুখে পড়েছেন বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি। আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা ও সাধারণ ক্রেতাদের সুবিধার্থে দোকান বন্ধের এই সময়সীমা সন্ধ্যা ৭টার পরিবর্তে রাত ৯টা পর্যন্ত করার জোর দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়িক নেতারা।

আজ রোববার সকালে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সংকটের কথা তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি মো. নাজমুল হাসান মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুর রহমান স্বাক্ষরিত এই আবেদনে বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহতা উল্লেখ করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

সময়সীমা ও ব্যবসায়িক বাস্তবতার সংঘাত

জ্বালানি সংকটের কারণে সরকার যখন বিদ্যুৎ সাশ্রয়কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে, ঠিক তখনই মাঠপর্যায়ের ব্যবসায়ীরা বলছেন ভিন্ন কথা। মালিক সমিতির নেতাদের মতে, বাংলাদেশের শপিং কালচার বা কেনাকাটার ধরনটি মূলত সন্ধ্যা-কেন্দ্রিক। অধিকাংশ কর্মজীবী মানুষ সারা দিনের অফিস শেষে সন্ধ্যার পরই বাজারে আসেন। ফলে ঠিক সেই সময়েই যদি দোকান বন্ধ করে দিতে হয়, তবে ব্যবসায়ীরা বিক্রির মূল সময়টিই হারিয়ে ফেলছেন।

সমিতির সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান বলেন, “আমরা সরকারের সাশ্রয়ী নীতির বিরোধী নই। কিন্তু সন্ধ্যা ৭টায় দোকান বন্ধের অর্থ হলো ব্যবসায়ীদের হাত-পা বেঁধে দেওয়া। অফিস ফেরত ক্রেতারা যখন বাজারে পৌঁছান, তখনই আমাদের ঝাঁপ নামাতে হচ্ছে। এতে করে গত কয়েক সপ্তাহে বিক্রির হার প্রায় ৪০ শতাংশ কমে গেছে।” তিনি আরও যোগ করেন যে, ক্ষুদ্র ও মাঝারি পর্যায়ের ব্যবসায়ীরা, বিশেষ করে যারা তৈরি পোশাক বা নিত্যপণ্য বিক্রি করেন, তারা ব্যাংক ঋণ এবং দোকানের ভাড়ার চাপে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

বিকল্প প্রস্তাব: বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে নতুন ফর্মুলা

ব্যবসায়ীরা কেবল দাবিই জানাননি, বরং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকারকে একটি টেকসই বিকল্প প্রস্তাবও দিয়েছেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, যদি রাত ৯টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হয়, তবে সে ক্ষেত্রে সাশ্রয়ের ভারসাম্য বজায় রাখতে সকালে দোকান খোলার সময় পিছিয়ে দেওয়া যেতে পারে। বর্তমানে সাধারণত সকাল ৯টায় দোকান খোলা হয়, ব্যবসায়ীরা সেটি পিছিয়ে বেলা ১১টা করার প্রস্তাব দিয়েছেন।

নেতাদের দাবি, সকালে ২ ঘণ্টা দেরি করে দোকান খুললে বিদ্যুতের একটি বড় অংশ সাশ্রয় হবে, যা রাতের বাড়তি দুই ঘণ্টার চাহিদাকে পূরণ করতে পারবে। এতে সরকার তার সাশ্রয়ী লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারবে এবং ব্যবসায়ীরাও তাদের পণ্য বিক্রির পর্যাপ্ত সময় পাবেন। এছাড়া তারা সরকারের নির্ধারিত যেকোনো শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা মেনে চলারও পূর্ণ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাবের আশঙ্কা

বাজার বিশ্লেষক ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা সতর্ক করে বলেছেন, কেনাকাটা কমে গেলে এর প্রভাব কেবল ব্যবসায়ীদের ওপরই পড়বে না, বরং সরকারের রাজস্ব আদায়েও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (SME) খাতের এই অচলাবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে অনেক প্রতিষ্ঠান স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে, যা বেকারত্ব বাড়িয়ে দিতে পারে।

বিশেষ করে ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে যখন কোটি কোটি টাকার বিনিয়োগ হচ্ছে, তখন বাজার স্থবির হয়ে পড়লে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ধস নামার সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা মনে করেন, একটি ভারসাম্যপূর্ণ সিদ্ধান্তই পারে জ্বালানি নিরাপত্তা ও সচল অর্থনীতির মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করতে। এখন দেখার বিষয়, পবিত্র ঈদের আবহ এবং লাখো ব্যবসায়ীর জীবন-জীবিকার কথা বিবেচনা করে সরকার সময়ের এই কড়াকড়ি কিছুটা শিথিল করে কি না।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ মোঃ ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত