আন্তর্জাতিক
চার দশকের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্ব পেলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। বিশ্ব কূটনীতির এই বিশাল অর্জনে কেবল একটি পদের বিজয় নয়, বরং বিশ্বসভায় বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান আস্থার নতুন প্রতিফলন দেখা গেল।
নিউইয়র্কের জাতিসংঘ সদর দপ্তরে মঙ্গলবার যখন নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হচ্ছিল, তখন পুরো হলজুড়ে ছিল টানটান উত্তেজনা। ১৯০টি সদস্য দেশের ভোটের হিসাব নিকেশ শেষে দেখা গেল, বাংলাদেশ ৯৯টি ভোট পেয়ে সাইপ্রাসের প্রার্থী আন্দ্রেয়াস এস. কাকোরিসকে পেছনে ফেলেছে। এই জয়টি যে সহজ ছিল না, তা ভোটের ব্যবধান দেখলেই বোঝা যায়—প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাস পেয়েছে ৯১টি ভোট। প্রচারণার সীমিত সময় আর দীর্ঘমেয়াদী কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের এই জয় বিশ্বনেতাদের কাছে আমাদের গ্রহণযোগ্যতার প্রমাণ দিচ্ছে।
জাতিসংঘের আঞ্চলিক রোটেশন নীতি অনুযায়ী ৮১তম অধিবেশনের এই সভাপতি পদটি এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের জন্য নির্ধারিত ছিল। শুরুতে ফিলিস্তিনেরও প্রার্থিতার কথা ছিল, তবে ভ্রাতৃপ্রতিম সম্পর্ক ও মুসলিম বিশ্বের ভোটের সমীকরণ বিবেচনায় তারা সরে দাঁড়ায়। এরপরই দৃশ্যপটে আসে সাইপ্রাস ও বাংলাদেশ। সাইপ্রাস অনেক আগে থেকেই তাদের প্রচারণার কাজ শুরু করলেও, বাংলাদেশ লড়াইয়ে নামে শেষ তিন মাসেরও কম সময়ে। ভূ-রাজনৈতিক হিসাব আর কৌশলগত মেরুকরণে শেষ মুহূর্তে দেশগুলোর সমর্থন আদায়ে বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। ব্রাজিল, সৌদি আরব, পাকিস্তান, তুরস্কসহ একাধিক প্রভাবশালী দেশের সমর্থন এই জয়কে নিশ্চিত করেছে।
এর আগে ১৯৮৬ সালে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে ৪১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। চার দশক পর সেই গৌরবের আসনে ফের বসছেন একজন বাঙালি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ইতিমধ্যেই নিজের অঙ্গীকার স্পষ্ট করেছেন। তিনি কেবল একজন পূর্ণকালীন সভাপতি হিসেবেই দায়িত্ব পালন করবেন না, বরং সবার কণ্ঠস্বর হয়ে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। জাতিসংঘের সনদ সমুন্নত রাখা এবং ছোট-বড় সব দেশের প্রতিনিধি দলের মতামতকে সমান গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়েও তিনি ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন।
আগামী সেপ্টেম্বরে দায়িত্ব গ্রহণের পর ড. খলিলুর রহমানের সামনে সুযোগ থাকবে শান্তি, টেকসই উন্নয়ন, জলবায়ু কার্যক্রম এবং বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে নতুন গতি সঞ্চার করার। একজন পূর্ণকালীন সভাপতি হিসেবে তার এই অবস্থান কেবল বাংলাদেশকে নয়, বরং পুরো এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলকে বিশ্বমঞ্চে নতুন করে চেনাবে। ৪০ বছর আগের সেই ইতিহাসের পুনরুত্থান আজ বিশ্ব কূটনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থানকে এক ভিন্ন উচ্চতায় নিয়ে গেল, যা আগামী দিনগুলোতে আমাদের পররাষ্ট্রনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে।
2.png)
মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ জুন ২০২৬
চার দশকের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্ব পেলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। বিশ্ব কূটনীতির এই বিশাল অর্জনে কেবল একটি পদের বিজয় নয়, বরং বিশ্বসভায় বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান আস্থার নতুন প্রতিফলন দেখা গেল।
নিউইয়র্কের জাতিসংঘ সদর দপ্তরে মঙ্গলবার যখন নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হচ্ছিল, তখন পুরো হলজুড়ে ছিল টানটান উত্তেজনা। ১৯০টি সদস্য দেশের ভোটের হিসাব নিকেশ শেষে দেখা গেল, বাংলাদেশ ৯৯টি ভোট পেয়ে সাইপ্রাসের প্রার্থী আন্দ্রেয়াস এস. কাকোরিসকে পেছনে ফেলেছে। এই জয়টি যে সহজ ছিল না, তা ভোটের ব্যবধান দেখলেই বোঝা যায়—প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাস পেয়েছে ৯১টি ভোট। প্রচারণার সীমিত সময় আর দীর্ঘমেয়াদী কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের এই জয় বিশ্বনেতাদের কাছে আমাদের গ্রহণযোগ্যতার প্রমাণ দিচ্ছে।
জাতিসংঘের আঞ্চলিক রোটেশন নীতি অনুযায়ী ৮১তম অধিবেশনের এই সভাপতি পদটি এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের জন্য নির্ধারিত ছিল। শুরুতে ফিলিস্তিনেরও প্রার্থিতার কথা ছিল, তবে ভ্রাতৃপ্রতিম সম্পর্ক ও মুসলিম বিশ্বের ভোটের সমীকরণ বিবেচনায় তারা সরে দাঁড়ায়। এরপরই দৃশ্যপটে আসে সাইপ্রাস ও বাংলাদেশ। সাইপ্রাস অনেক আগে থেকেই তাদের প্রচারণার কাজ শুরু করলেও, বাংলাদেশ লড়াইয়ে নামে শেষ তিন মাসেরও কম সময়ে। ভূ-রাজনৈতিক হিসাব আর কৌশলগত মেরুকরণে শেষ মুহূর্তে দেশগুলোর সমর্থন আদায়ে বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। ব্রাজিল, সৌদি আরব, পাকিস্তান, তুরস্কসহ একাধিক প্রভাবশালী দেশের সমর্থন এই জয়কে নিশ্চিত করেছে।
এর আগে ১৯৮৬ সালে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে ৪১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। চার দশক পর সেই গৌরবের আসনে ফের বসছেন একজন বাঙালি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ইতিমধ্যেই নিজের অঙ্গীকার স্পষ্ট করেছেন। তিনি কেবল একজন পূর্ণকালীন সভাপতি হিসেবেই দায়িত্ব পালন করবেন না, বরং সবার কণ্ঠস্বর হয়ে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। জাতিসংঘের সনদ সমুন্নত রাখা এবং ছোট-বড় সব দেশের প্রতিনিধি দলের মতামতকে সমান গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়েও তিনি ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন।
আগামী সেপ্টেম্বরে দায়িত্ব গ্রহণের পর ড. খলিলুর রহমানের সামনে সুযোগ থাকবে শান্তি, টেকসই উন্নয়ন, জলবায়ু কার্যক্রম এবং বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে নতুন গতি সঞ্চার করার। একজন পূর্ণকালীন সভাপতি হিসেবে তার এই অবস্থান কেবল বাংলাদেশকে নয়, বরং পুরো এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলকে বিশ্বমঞ্চে নতুন করে চেনাবে। ৪০ বছর আগের সেই ইতিহাসের পুনরুত্থান আজ বিশ্ব কূটনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থানকে এক ভিন্ন উচ্চতায় নিয়ে গেল, যা আগামী দিনগুলোতে আমাদের পররাষ্ট্রনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে।
2.png)