জাতীয়
আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে যখন সোহেল রানা বললেন, ‘আমি না, ধর্ষণ ও খুনের মূল হোতা ডলার’, তখন সবারই মাথায় একটা প্রশ্ন উঁকি দিয়েছিল—কে এই ডলার? এত বড় একটা জঘন্য অপরাধের পেছনে কি অন্য কোনো রাঘববোয়াল আছে? কিন্তু কয়েক দিনের অনুসন্ধান আর পুলিশের তদন্ত বলছে, এই ডলার চরিত্রটি সম্ভবত মামলার গতিপথ ঘুরিয়ে দেওয়ার এক মরিয়া চেষ্টা মাত্র।
আসলে ডলার বলে যে চরিত্রটি সামনে এসেছে, তিনি কোনো রহস্যময় অপরাধী নন। পল্লবীর ওই এলাকারই বাসিন্দা, পেশায় অটোরিকশাচালক। নেশার টাকার জোগাড় করতেই তিনি রিকশা চালাতেন। সোহেল রানা ওই এলাকার রিকশা গ্যারেজের মেকানিক হিসেবে কাজ করার সুবাদে ডলারের সঙ্গে তার পরিচয় ছিল। গ্যারেজে নিয়মিত আসা-যাওয়ার সূত্রেই তাদের জানাশোনা। কিন্তু এখানেই গল্পের শেষ।
ডলারের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, ১৯ বছর ধরে পরিবারের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। মাদকাসক্তির কারণে তার আপনজনেরাই তাকে দীর্ঘদিন আগে এড়িয়ে চলেছেন। তার বড় ভাই সেলিম রায়হান তো সাফ জানিয়ে দিলেন, তার ভাই যদি সত্যিই এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকে, তবে তারও কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত। এতে পরিবারের কোনো আপত্তি নেই। অর্থাৎ, ডলার এখানে কোনো অদৃশ্য শক্তি নয়, বরং সমাজচ্যুত এক ব্যক্তি মাত্র।
তবে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক ওহিদুজ্জামান ভূঁইয়া যখন তদন্তের খাতা খুললেন, তখন আর কোনো সংযোগ খুঁজে পেলেন না। তিনি পরিষ্কার জানালেন, ডলার নামের কাউকে পাওয়া গেলেও, ঘটনাস্থলে তার উপস্থিতির কোনো ডিজিটাল প্রমাণ বা ফরেনসিক তথ্য মেলেনি। সোহেল রানা যে অভিযোগ তুলছেন, তার পেছনে কোনো শক্ত ভিত্তি নেই। বরং তদন্তকারীদের ধারণা, সোহেল বুঝতে পেরেছেন অপরাধের ভারে তার সাজা নিশ্চিত, তাই অন্য কাউকে দোষী সাব্যস্ত করে নিজেকে বাঁচানোর পথ খুঁজছেন।
সোহেল রানা হয়তো ভেবেছিলেন, রামিসা হত্যা মামলার মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে অন্য কাউকে জড়িয়ে দিলে তদন্তের মোড় ঘুরে যাবে। কিন্তু ডিজিটাল যুগে অপরাধ ঢাকার চেষ্টা আর ধোপে টেকে না। মামলার সব নথিপত্র এবং সাক্ষ্য-প্রমাণ বলছে, এই ডলারের সঙ্গে খুনের ঘটনার কোনো সম্পর্ক নেই। এটি কেবল এক খুনি আসামির বাঁচার শেষ খড়কুটো আঁকড়ে ধরার ব্যর্থ চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়।
বিষয় : ডলার রামিছা হত্যাকান্ড সোহেল রানা
2.png)
মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ জুন ২০২৬
আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে যখন সোহেল রানা বললেন, ‘আমি না, ধর্ষণ ও খুনের মূল হোতা ডলার’, তখন সবারই মাথায় একটা প্রশ্ন উঁকি দিয়েছিল—কে এই ডলার? এত বড় একটা জঘন্য অপরাধের পেছনে কি অন্য কোনো রাঘববোয়াল আছে? কিন্তু কয়েক দিনের অনুসন্ধান আর পুলিশের তদন্ত বলছে, এই ডলার চরিত্রটি সম্ভবত মামলার গতিপথ ঘুরিয়ে দেওয়ার এক মরিয়া চেষ্টা মাত্র।
আসলে ডলার বলে যে চরিত্রটি সামনে এসেছে, তিনি কোনো রহস্যময় অপরাধী নন। পল্লবীর ওই এলাকারই বাসিন্দা, পেশায় অটোরিকশাচালক। নেশার টাকার জোগাড় করতেই তিনি রিকশা চালাতেন। সোহেল রানা ওই এলাকার রিকশা গ্যারেজের মেকানিক হিসেবে কাজ করার সুবাদে ডলারের সঙ্গে তার পরিচয় ছিল। গ্যারেজে নিয়মিত আসা-যাওয়ার সূত্রেই তাদের জানাশোনা। কিন্তু এখানেই গল্পের শেষ।
ডলারের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, ১৯ বছর ধরে পরিবারের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। মাদকাসক্তির কারণে তার আপনজনেরাই তাকে দীর্ঘদিন আগে এড়িয়ে চলেছেন। তার বড় ভাই সেলিম রায়হান তো সাফ জানিয়ে দিলেন, তার ভাই যদি সত্যিই এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকে, তবে তারও কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত। এতে পরিবারের কোনো আপত্তি নেই। অর্থাৎ, ডলার এখানে কোনো অদৃশ্য শক্তি নয়, বরং সমাজচ্যুত এক ব্যক্তি মাত্র।
তবে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক ওহিদুজ্জামান ভূঁইয়া যখন তদন্তের খাতা খুললেন, তখন আর কোনো সংযোগ খুঁজে পেলেন না। তিনি পরিষ্কার জানালেন, ডলার নামের কাউকে পাওয়া গেলেও, ঘটনাস্থলে তার উপস্থিতির কোনো ডিজিটাল প্রমাণ বা ফরেনসিক তথ্য মেলেনি। সোহেল রানা যে অভিযোগ তুলছেন, তার পেছনে কোনো শক্ত ভিত্তি নেই। বরং তদন্তকারীদের ধারণা, সোহেল বুঝতে পেরেছেন অপরাধের ভারে তার সাজা নিশ্চিত, তাই অন্য কাউকে দোষী সাব্যস্ত করে নিজেকে বাঁচানোর পথ খুঁজছেন।
সোহেল রানা হয়তো ভেবেছিলেন, রামিসা হত্যা মামলার মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে অন্য কাউকে জড়িয়ে দিলে তদন্তের মোড় ঘুরে যাবে। কিন্তু ডিজিটাল যুগে অপরাধ ঢাকার চেষ্টা আর ধোপে টেকে না। মামলার সব নথিপত্র এবং সাক্ষ্য-প্রমাণ বলছে, এই ডলারের সঙ্গে খুনের ঘটনার কোনো সম্পর্ক নেই। এটি কেবল এক খুনি আসামির বাঁচার শেষ খড়কুটো আঁকড়ে ধরার ব্যর্থ চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়।
2.png)