জাতীয়
রাজধানীর মগবাজারের আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক রাতে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় শোকের মাতম চলছে। ঈদের ঠিক আগের মুহূর্তে হাসপাতালের পোস্ট ডেলিভারি ওয়ার্ডে ঘটে যাওয়া এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও মর্মান্তিক ঘটনা পুরো দেশবাসীকে নাড়িয়ে দিয়েছে। স্বজনহারা অভিভাবকদের আহাজারি আর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অস্পষ্ট ব্যাখ্যার মাঝে এখন আদ-দ্বীন হাসপাতাল ঘিরে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।
ঘটনার পরপরই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস হাসপাতাল পরিদর্শন করে উদ্বেগজনক এক পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান, ওয়ার্ডের পরিবেশ ছিল অনেকটা শ্বাসরুদ্ধকর। ভেন্টিলেশনের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় এসি জটিলতার কারণে ওয়ার্ডটি শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই পর্যবেক্ষণের পরই হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা ও সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অবশ্য এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে। তবে সংকটের এই মুহূর্তে হাসপাতালের মহাপরিচালক ডা. নাহিদ ইয়াসমিন সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। একজন মা হিসেবে তিনি নিজের ব্যথা ব্যক্ত করলেও, অবহেলা ও অব্যবস্থাপনার যে অভিযোগ অভিভাবকরা তুলেছেন, সে বিষয়ে তার কোনো সুনির্দিষ্ট জবাব ছিল না। দায় এড়ানোর বদলে তিনি বারবার তদন্তের দোহাই দিয়ে পরিস্থিতির উত্তরণের চেষ্টা করেছেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ঘটনার একটি বর্ণনা পাওয়া গেছে। সেখানে বলা হয়েছে, ২৬ মে রাত ২টার দিকে পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডের এসি বন্ধ করার অনুরোধ করেন নবজাতকদের মায়েরা। এরপর ৩টার দিকে আবার এসি চালু করা হয়। ঘটনার এই ধাপে ধাপে এসি চালানো ও বন্ধ করার প্রক্রিয়ায় কোনো ঝুঁকি ছিল কি না, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। অভিভাবকদের দাবি, শিশুরা শ্বাসকষ্টে ছটফট করলেও নার্স বা কর্তৃপক্ষ সময়মতো তাদের ডাকেননি বা কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেননি। অথচ হাসপাতাল দাবি করছে, ৪টার দিকে সমস্যা টের পাওয়ার পরই শিশুদের দ্রুত এনআইসিইউতে নেওয়া হয়।
এদিকে, এই ঘটনার পর থেকে এলাকাটিতে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশের পাশাপাশি স্বাস্থ্য বিভাগের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে। ফরেনসিক টিম এবং আইনি বিশেষজ্ঞরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও অভ্যন্তরীণ তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং গাফিলতি প্রমাণিত হলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। তবে শোকাতুর অভিভাবকরা এখন বিচার ও জবাবদিহিতার অপেক্ষায়। ১৯৯৭ সাল থেকে পরিচালিত এই হাসপাতালে অতীতে এমন ঘটনা ঘটেনি বলে কর্তৃপক্ষের দাবি থাকলেও, এক রাতের এই ছয়টি শিশুর মৃত্যু আদ-দ্বীন হাসপাতালের সক্ষমতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর বড় ধরনের আস্থার সংকট তৈরি করেছে।
বিষয় : আদ-দ্বীন ৬ নবজাতকের মৃত্যু
2.png)
শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ মে ২০২৬
রাজধানীর মগবাজারের আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক রাতে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় শোকের মাতম চলছে। ঈদের ঠিক আগের মুহূর্তে হাসপাতালের পোস্ট ডেলিভারি ওয়ার্ডে ঘটে যাওয়া এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও মর্মান্তিক ঘটনা পুরো দেশবাসীকে নাড়িয়ে দিয়েছে। স্বজনহারা অভিভাবকদের আহাজারি আর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অস্পষ্ট ব্যাখ্যার মাঝে এখন আদ-দ্বীন হাসপাতাল ঘিরে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।
ঘটনার পরপরই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস হাসপাতাল পরিদর্শন করে উদ্বেগজনক এক পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান, ওয়ার্ডের পরিবেশ ছিল অনেকটা শ্বাসরুদ্ধকর। ভেন্টিলেশনের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় এসি জটিলতার কারণে ওয়ার্ডটি শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই পর্যবেক্ষণের পরই হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা ও সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অবশ্য এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে। তবে সংকটের এই মুহূর্তে হাসপাতালের মহাপরিচালক ডা. নাহিদ ইয়াসমিন সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। একজন মা হিসেবে তিনি নিজের ব্যথা ব্যক্ত করলেও, অবহেলা ও অব্যবস্থাপনার যে অভিযোগ অভিভাবকরা তুলেছেন, সে বিষয়ে তার কোনো সুনির্দিষ্ট জবাব ছিল না। দায় এড়ানোর বদলে তিনি বারবার তদন্তের দোহাই দিয়ে পরিস্থিতির উত্তরণের চেষ্টা করেছেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ঘটনার একটি বর্ণনা পাওয়া গেছে। সেখানে বলা হয়েছে, ২৬ মে রাত ২টার দিকে পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডের এসি বন্ধ করার অনুরোধ করেন নবজাতকদের মায়েরা। এরপর ৩টার দিকে আবার এসি চালু করা হয়। ঘটনার এই ধাপে ধাপে এসি চালানো ও বন্ধ করার প্রক্রিয়ায় কোনো ঝুঁকি ছিল কি না, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। অভিভাবকদের দাবি, শিশুরা শ্বাসকষ্টে ছটফট করলেও নার্স বা কর্তৃপক্ষ সময়মতো তাদের ডাকেননি বা কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেননি। অথচ হাসপাতাল দাবি করছে, ৪টার দিকে সমস্যা টের পাওয়ার পরই শিশুদের দ্রুত এনআইসিইউতে নেওয়া হয়।
এদিকে, এই ঘটনার পর থেকে এলাকাটিতে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশের পাশাপাশি স্বাস্থ্য বিভাগের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে। ফরেনসিক টিম এবং আইনি বিশেষজ্ঞরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও অভ্যন্তরীণ তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং গাফিলতি প্রমাণিত হলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। তবে শোকাতুর অভিভাবকরা এখন বিচার ও জবাবদিহিতার অপেক্ষায়। ১৯৯৭ সাল থেকে পরিচালিত এই হাসপাতালে অতীতে এমন ঘটনা ঘটেনি বলে কর্তৃপক্ষের দাবি থাকলেও, এক রাতের এই ছয়টি শিশুর মৃত্যু আদ-দ্বীন হাসপাতালের সক্ষমতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর বড় ধরনের আস্থার সংকট তৈরি করেছে।
2.png)