জাতীয়
ইরান ও ইসরায়েলকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে যে অস্থিরতা দানা বেঁধেছে, তার আঁচ সরাসরি এসে লেগেছে বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় তৈরি হওয়া নতুন এই সংকট এবং বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতায় সৃষ্ট অর্থনৈতিক ধাক্কা সামলাতে বাংলাদেশ সরকার এখন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) দ্বারস্থ হয়েছে। সংস্থাটির কাছ থেকে নতুন একটি আর্থিক সহায়তা প্যাকেজ পেতে এখন জোর তৎপরতা চালাচ্ছে ঢাকা।
সাধারণত প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মহামারি কিংবা বৈশ্বিক কোনো বড় অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হলে আইএমএফ সদস্যদেশগুলোকে ‘র্যাপিড ফিন্যান্সিং ইনস্ট্রুমেন্ট’ বা আরএফআইয়ের মাধ্যমে দ্রুত ঋণ সহায়তা দিয়ে থাকে। এই সুবিধার বড় বৈশিষ্ট্য হলো, ঋণ পাওয়ার প্রক্রিয়ায় পূর্ণাঙ্গ কর্মসূচির তুলনায় শর্ত অনেক সময় শিথিল থাকে অথবা জরুরি বিবেচনায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে অর্থ ছাড় করা হয়। বাংলাদেশ এখন সেই আরএফআইয়ের আওতায় সহায়তা পাওয়ার লক্ষ্যেই আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
আইএমএফের সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যমান আর্থিক সম্পর্কের বিষয়টিও এখন পর্যালোচনার দাবি রাখে। ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে সংস্থাটির সঙ্গে বাংলাদেশের ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ কর্মসূচি শুরু হয়, যা পরে বিভিন্ন শর্ত ও সংস্কার কর্মসূচির ভিত্তিতে বেড়ে ৫৫০ কোটি ডলারে উন্নীত হয়েছে। এখন পর্যন্ত সংস্থাটির কাছ থেকে পাঁচ কিস্তিতে ৩৬৪ কোটি ডলার পাওয়া গেলেও, ষষ্ঠ কিস্তির ১৩০ কোটি ডলার নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে। গত ডিসেম্বর মাসে এই কিস্তি পাওয়ার কথা থাকলেও তা আটকে আছে। তবে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে আগামী জুন বা জুলাই মাসের মধ্যে এই অর্থ পাওয়ার বিষয়ে নতুন করে আশার কথা শোনানো হচ্ছে।
এর আগে ২০২০ সালে কোভিড মহামারির চরম অনিশ্চয়তার মধ্যেও বাংলাদেশ আইএমএফ থেকে আরএফআইয়ের মাধ্যমে ২৪ কোটি ৪০ লাখ ডলার সহায়তা পেয়েছিল। সেই অর্থ সেসময় বাজেট–ঘাটতি পূরণ, স্বাস্থ্য খাতের জরুরি ব্যয় নির্বাহ এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সচল রাখতে বড় ভূমিকা রেখেছিল। এবারও ইরান সংকটের কারণে তৈরি হওয়া জ্বালানি ও পণ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে একই ধরনের আর্থিক সুরক্ষা চায় ঢাকা।
বাংলাদেশে নিযুক্ত আইএমএফের প্রতিনিধি জানিয়েছেন, বর্তমানে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সংস্কার কর্মসূচির অগ্রগতি এবং নীতিগত অগ্রাধিকারের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা চলছে। ভূ-রাজনৈতিক সংকটে সৃষ্ট এই নতুন পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ঢাকা কতটা দ্রুত এই সহায়তা পায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
2.png)
শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ মে ২০২৬
ইরান ও ইসরায়েলকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে যে অস্থিরতা দানা বেঁধেছে, তার আঁচ সরাসরি এসে লেগেছে বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় তৈরি হওয়া নতুন এই সংকট এবং বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতায় সৃষ্ট অর্থনৈতিক ধাক্কা সামলাতে বাংলাদেশ সরকার এখন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) দ্বারস্থ হয়েছে। সংস্থাটির কাছ থেকে নতুন একটি আর্থিক সহায়তা প্যাকেজ পেতে এখন জোর তৎপরতা চালাচ্ছে ঢাকা।
সাধারণত প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মহামারি কিংবা বৈশ্বিক কোনো বড় অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হলে আইএমএফ সদস্যদেশগুলোকে ‘র্যাপিড ফিন্যান্সিং ইনস্ট্রুমেন্ট’ বা আরএফআইয়ের মাধ্যমে দ্রুত ঋণ সহায়তা দিয়ে থাকে। এই সুবিধার বড় বৈশিষ্ট্য হলো, ঋণ পাওয়ার প্রক্রিয়ায় পূর্ণাঙ্গ কর্মসূচির তুলনায় শর্ত অনেক সময় শিথিল থাকে অথবা জরুরি বিবেচনায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে অর্থ ছাড় করা হয়। বাংলাদেশ এখন সেই আরএফআইয়ের আওতায় সহায়তা পাওয়ার লক্ষ্যেই আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
আইএমএফের সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যমান আর্থিক সম্পর্কের বিষয়টিও এখন পর্যালোচনার দাবি রাখে। ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে সংস্থাটির সঙ্গে বাংলাদেশের ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ কর্মসূচি শুরু হয়, যা পরে বিভিন্ন শর্ত ও সংস্কার কর্মসূচির ভিত্তিতে বেড়ে ৫৫০ কোটি ডলারে উন্নীত হয়েছে। এখন পর্যন্ত সংস্থাটির কাছ থেকে পাঁচ কিস্তিতে ৩৬৪ কোটি ডলার পাওয়া গেলেও, ষষ্ঠ কিস্তির ১৩০ কোটি ডলার নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে। গত ডিসেম্বর মাসে এই কিস্তি পাওয়ার কথা থাকলেও তা আটকে আছে। তবে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে আগামী জুন বা জুলাই মাসের মধ্যে এই অর্থ পাওয়ার বিষয়ে নতুন করে আশার কথা শোনানো হচ্ছে।
এর আগে ২০২০ সালে কোভিড মহামারির চরম অনিশ্চয়তার মধ্যেও বাংলাদেশ আইএমএফ থেকে আরএফআইয়ের মাধ্যমে ২৪ কোটি ৪০ লাখ ডলার সহায়তা পেয়েছিল। সেই অর্থ সেসময় বাজেট–ঘাটতি পূরণ, স্বাস্থ্য খাতের জরুরি ব্যয় নির্বাহ এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সচল রাখতে বড় ভূমিকা রেখেছিল। এবারও ইরান সংকটের কারণে তৈরি হওয়া জ্বালানি ও পণ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে একই ধরনের আর্থিক সুরক্ষা চায় ঢাকা।
বাংলাদেশে নিযুক্ত আইএমএফের প্রতিনিধি জানিয়েছেন, বর্তমানে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সংস্কার কর্মসূচির অগ্রগতি এবং নীতিগত অগ্রাধিকারের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা চলছে। ভূ-রাজনৈতিক সংকটে সৃষ্ট এই নতুন পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ঢাকা কতটা দ্রুত এই সহায়তা পায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
2.png)