সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 জাতীয়জাতীয়

অন্তর্বর্তী সরকারের নীতিনির্ধারণে ‘কিচেন কেবিনেট’ সক্রিয় ছিল: তৌহিদ হোসেন

যমুনায় প্রতি মঙ্গলবার চলত বিশেষ বৈঠক, মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি ও আ.লীগের ভবিষ্যৎ নিয়ে মুখ খুললেন সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা।

অন্তর্বর্তী সরকারের নীতিনির্ধারণে ‘কিচেন কেবিনেট’ সক্রিয় ছিল: তৌহিদ হোসেন
ছবি -সংগৃহীত

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ার অন্দরমহলে ‘কিচেন কেবিনেট’-এর সক্রিয়তা ছিল বলে দাবি করেছেন সাবেক উপদেষ্টা এম তৌহিদ হোসেন। সম্প্রতি যমুনা টেলিভিশনের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি জানান, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে নিয়মিতভাবে এই অনানুষ্ঠানিক গ্রুপের কার্যক্রম চলত।

সাবেক এই উপদেষ্টার ভাষ্যমতে, প্রতি মঙ্গলবার যমুনায় এই ‘কিচেন কেবিনেট’-এর বৈঠক অনুষ্ঠিত হতো। যদিও তিনি এই প্রক্রিয়ার নিয়মিত অংশ ছিলেন না, তবুও নেপথ্যে সিদ্ধান্ত গ্রহণের এই গোপন কাঠামোর বিষয়টি তার কানে এসেছিল। দায়িত্ব পালনকালে পরিস্থিতির চাপে পড়ে একবার নয়, বরং তিনবার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিলেও সরকারের অস্বস্তিকর পরিস্থিতি এড়াতে শেষ পর্যন্ত তাকে থেকে যেতে হয়েছে বলে তিনি জানান।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভোটের মাত্র তিন দিন আগে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তিনি। তার ভাষ্যমতে, এই চুক্তির ব্যাপারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নূন্যতম সম্পৃক্ততা ছিল না। বরং কমার্স মিনিস্ট্রি এবং ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাডভাইজারের সরাসরি নেতৃত্বে এটি সম্পন্ন হয়েছে। কোনো বাধ্যবাধকতা না থাকলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ওপর এই গুরুদায়িত্ব না ছেড়ে তা নির্বাচিত সরকারের জন্য রেখে দেওয়াই ছিল সমীচীন।

শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার চিঠি প্রসঙ্গে তৌহিদ হোসেন বলেন, দিল্লি থেকে কোনো উত্তর আসবে—এমন প্রত্যাশা তার ছিল না। দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ যে রাজনীতি থেকে চিরতরে হারিয়ে গেছে, এমনটা ভাবার সুযোগ নেই। মানুষের স্মৃতিশক্তি খুব একটা দীর্ঘ নয়, তাই তার অনুমান—আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে ফিরে আসবে এবং আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে।

বিশ্ব রাজনীতিতে ‘ডিপস্টেট’ বা অদৃশ্য শক্তির প্রভাব নিয়ে উপস্থাপকের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পৃথিবীর প্রতিটি বড় ঘটনার সঙ্গেই ডিপস্টেট কোনো না কোনোভাবে জড়িত থাকে। স্রোতের বিপরীতে না গিয়ে পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে তারা সবকিছু নিজেদের অনুকূলে ম্যানিপুলেট করতে ওস্তাদ। তার এই অকপট স্বীকারোক্তি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ক্ষমতার ভারসাম্য ও নীতিনির্ধারণী স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বিষয় : অন্তর্বর্তী সরকার কিচেন কেবিনেট তৌহিদ হোসেন

অন্তর্বর্তী সরকারের নীতিনির্ধারণে ‘কিচেন কেবিনেট’ সক্রিয় ছিল: তৌহিদ হোসেন
0:00 0:00
1.0x
কাল মহাকাল

শনিবার, ৩০ মে ২০২৬


অন্তর্বর্তী সরকারের নীতিনির্ধারণে ‘কিচেন কেবিনেট’ সক্রিয় ছিল: তৌহিদ হোসেন

প্রকাশের তারিখ : ২৫ মে ২০২৬

featured Image

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ার অন্দরমহলে ‘কিচেন কেবিনেট’-এর সক্রিয়তা ছিল বলে দাবি করেছেন সাবেক উপদেষ্টা এম তৌহিদ হোসেন। সম্প্রতি যমুনা টেলিভিশনের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি জানান, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে নিয়মিতভাবে এই অনানুষ্ঠানিক গ্রুপের কার্যক্রম চলত।

সাবেক এই উপদেষ্টার ভাষ্যমতে, প্রতি মঙ্গলবার যমুনায় এই ‘কিচেন কেবিনেট’-এর বৈঠক অনুষ্ঠিত হতো। যদিও তিনি এই প্রক্রিয়ার নিয়মিত অংশ ছিলেন না, তবুও নেপথ্যে সিদ্ধান্ত গ্রহণের এই গোপন কাঠামোর বিষয়টি তার কানে এসেছিল। দায়িত্ব পালনকালে পরিস্থিতির চাপে পড়ে একবার নয়, বরং তিনবার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিলেও সরকারের অস্বস্তিকর পরিস্থিতি এড়াতে শেষ পর্যন্ত তাকে থেকে যেতে হয়েছে বলে তিনি জানান।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভোটের মাত্র তিন দিন আগে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তিনি। তার ভাষ্যমতে, এই চুক্তির ব্যাপারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নূন্যতম সম্পৃক্ততা ছিল না। বরং কমার্স মিনিস্ট্রি এবং ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাডভাইজারের সরাসরি নেতৃত্বে এটি সম্পন্ন হয়েছে। কোনো বাধ্যবাধকতা না থাকলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ওপর এই গুরুদায়িত্ব না ছেড়ে তা নির্বাচিত সরকারের জন্য রেখে দেওয়াই ছিল সমীচীন।

শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার চিঠি প্রসঙ্গে তৌহিদ হোসেন বলেন, দিল্লি থেকে কোনো উত্তর আসবে—এমন প্রত্যাশা তার ছিল না। দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ যে রাজনীতি থেকে চিরতরে হারিয়ে গেছে, এমনটা ভাবার সুযোগ নেই। মানুষের স্মৃতিশক্তি খুব একটা দীর্ঘ নয়, তাই তার অনুমান—আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে ফিরে আসবে এবং আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে।

বিশ্ব রাজনীতিতে ‘ডিপস্টেট’ বা অদৃশ্য শক্তির প্রভাব নিয়ে উপস্থাপকের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পৃথিবীর প্রতিটি বড় ঘটনার সঙ্গেই ডিপস্টেট কোনো না কোনোভাবে জড়িত থাকে। স্রোতের বিপরীতে না গিয়ে পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে তারা সবকিছু নিজেদের অনুকূলে ম্যানিপুলেট করতে ওস্তাদ। তার এই অকপট স্বীকারোক্তি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ক্ষমতার ভারসাম্য ও নীতিনির্ধারণী স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।



কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত