সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 ইরান যুদ্ধইরান যুদ্ধ

ইরান চুক্তিতে সতর্ক ট্রাম্প: তাড়াহুড়ো না করে চূড়ান্ত সমাধান চাইছে যুক্তরাষ্ট্র

হরমুজ প্রণালির অবরোধ তুলে নেওয়ার বিষয়ে সমঝোতার আভাস মিললেও পুরোপুরি নিশ্চিন্ত হতে নারাজ ওয়াশিংটন। দীর্ঘমেয়াদী শান্তির লক্ষ্যে কোনো ভুল করতে রাজি নন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ইরান চুক্তিতে সতর্ক ট্রাম্প: তাড়াহুড়ো না করে চূড়ান্ত সমাধান চাইছে যুক্তরাষ্ট্র
ছবি -সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার অবসান ঘটাতে আলোচনার টেবিলে ইতিবাচক হাওয়া বইলেও এখনই চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে নারাজ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বরং যেকোনো চুক্তির ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো না করে প্রতিটি পদক্ষেপ সতর্কতার সঙ্গে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। রবিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক বার্তায় ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরানি জাহাজের ওপর মার্কিন অবরোধ ততক্ষণই বহাল থাকবে, যতক্ষণ না একটি অকাট্য ও চূড়ান্ত চুক্তিতে স্বাক্ষর সম্পন্ন হচ্ছে।


তিন মাস ধরে চলা এই অস্থিরতা প্রশমনে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতার যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, ট্রাম্পের এই সতর্কবার্তা তাকে কিছুটা স্তিমিত করে দিয়েছে। যদিও তিনি আলোচনার সামগ্রিক অগ্রগতি নিয়ে আশাবাদী। ট্রাম্পের ভাষায়, এখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার সম্পর্কের চিত্র আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি পেশাদার ও গঠনমূলক। তবে দীর্ঘমেয়াদী এই জটিল সংকটের সমাধানে কোনো ধরনের ভুল পদক্ষেপ নেওয়া চলবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই সতর্কতার পেছনে রয়েছে আলোচনার টেবিলে অমীমাংসিত থাকা একগুচ্ছ জটিল ইস্যু। এর মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, তেহরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, এবং বিদেশি ব্যাংকে আটকে থাকা কয়েক হাজার কোটি ডলারের তেলের রাজস্ব পুনরুদ্ধারের মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলো রয়েছে। এছাড়া লেবাননে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলের বর্তমান সংঘাতকেও এই আলোচনার একটি বড় বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এর ঠিক একদিন আগেই ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি শান্তি চুক্তির সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনার অগ্রগতির খবর চাউর হয়েছিল। ওই আলোচনার মূল লক্ষ্যই ছিল কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া, যে পথ দিয়ে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও এলএনজির এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রস্তাবিত এই সমঝোতা অনুযায়ী ইরানের জাহাজের ওপর থেকে অবরোধ তুলে নেওয়ার বদলে ইরান জলপথটি উন্মুক্ত করে দেবে। তবে সেই সমঝোতা কি কেবল একটি অন্তর্বর্তীকালীন পদক্ষেপ নাকি দীর্ঘস্থায়ী শান্তির পথ—তা নিয়ে এখন ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, ওয়াশিংটন ও তেহরান তাদের বিপরীতমুখী অবস্থান থেকে কতটা নমনীয় হয়ে এই জটিল গোলকধাঁধা থেকে বের হয়ে আসতে পারে।

বিষয় : আন্তর্জাতিক

ইরান চুক্তিতে সতর্ক ট্রাম্প: তাড়াহুড়ো না করে চূড়ান্ত সমাধান চাইছে যুক্তরাষ্ট্র
0:00 0:00
1.0x
কাল মহাকাল

শনিবার, ৩০ মে ২০২৬


ইরান চুক্তিতে সতর্ক ট্রাম্প: তাড়াহুড়ো না করে চূড়ান্ত সমাধান চাইছে যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশের তারিখ : ২৫ মে ২০২৬

featured Image

ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার অবসান ঘটাতে আলোচনার টেবিলে ইতিবাচক হাওয়া বইলেও এখনই চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে নারাজ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বরং যেকোনো চুক্তির ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো না করে প্রতিটি পদক্ষেপ সতর্কতার সঙ্গে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। রবিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক বার্তায় ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরানি জাহাজের ওপর মার্কিন অবরোধ ততক্ষণই বহাল থাকবে, যতক্ষণ না একটি অকাট্য ও চূড়ান্ত চুক্তিতে স্বাক্ষর সম্পন্ন হচ্ছে।


তিন মাস ধরে চলা এই অস্থিরতা প্রশমনে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতার যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, ট্রাম্পের এই সতর্কবার্তা তাকে কিছুটা স্তিমিত করে দিয়েছে। যদিও তিনি আলোচনার সামগ্রিক অগ্রগতি নিয়ে আশাবাদী। ট্রাম্পের ভাষায়, এখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার সম্পর্কের চিত্র আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি পেশাদার ও গঠনমূলক। তবে দীর্ঘমেয়াদী এই জটিল সংকটের সমাধানে কোনো ধরনের ভুল পদক্ষেপ নেওয়া চলবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই সতর্কতার পেছনে রয়েছে আলোচনার টেবিলে অমীমাংসিত থাকা একগুচ্ছ জটিল ইস্যু। এর মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, তেহরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, এবং বিদেশি ব্যাংকে আটকে থাকা কয়েক হাজার কোটি ডলারের তেলের রাজস্ব পুনরুদ্ধারের মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলো রয়েছে। এছাড়া লেবাননে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলের বর্তমান সংঘাতকেও এই আলোচনার একটি বড় বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এর ঠিক একদিন আগেই ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি শান্তি চুক্তির সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনার অগ্রগতির খবর চাউর হয়েছিল। ওই আলোচনার মূল লক্ষ্যই ছিল কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া, যে পথ দিয়ে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও এলএনজির এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রস্তাবিত এই সমঝোতা অনুযায়ী ইরানের জাহাজের ওপর থেকে অবরোধ তুলে নেওয়ার বদলে ইরান জলপথটি উন্মুক্ত করে দেবে। তবে সেই সমঝোতা কি কেবল একটি অন্তর্বর্তীকালীন পদক্ষেপ নাকি দীর্ঘস্থায়ী শান্তির পথ—তা নিয়ে এখন ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, ওয়াশিংটন ও তেহরান তাদের বিপরীতমুখী অবস্থান থেকে কতটা নমনীয় হয়ে এই জটিল গোলকধাঁধা থেকে বের হয়ে আসতে পারে।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত