আন্তর্জাতিক
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে যে ‘শান্তিবাদী’ জাপানের প্রতিচ্ছবি বিশ্বমঞ্চে পরিচিত ছিল, প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির শাসনামলে তাতে যেন কিছুটা ফাটল ধরতে শুরু করেছে। গতানুগতিক আত্মরক্ষাকেন্দ্রিক নীতিতে অটল থাকার জোরালো দাবি জানালেও, বাস্তবে টোকিওর সামরিক কৌশলে নতুন হাওয়া লেগেছে। ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন এবং এশীয় অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে জাপান তার নিরাপত্তার সংজ্ঞাকে নতুন করে সাজাতে বাধ্য হচ্ছে, যা দুই বৃহৎ প্রতিবেশী দেশের সাথে এক অস্বস্তিকর ও উত্তপ্ত সম্পর্কের জন্ম দিয়েছে।
নীতিনির্ধারকরা বারবার স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন যে, জাপান সবসময়ই গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার পক্ষে কাজ করে এসেছে। কিন্তু কূটনৈতিক বাগাড়ম্বর আর বাস্তব ভূ-রাজনীতির মাঠ যে ভিন্ন, তা সাম্প্রতিক ঘটনাবলিতেই স্পষ্ট। জাপানের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির এই আকাঙ্ক্ষাকে বেইজিং ও মস্কো মোটেও স্বাভাবিক চোখে দেখছে না। উল্টো, পাল্টাপাল্টি হুংকার আর কঠোর কূটনৈতিক ভাষায় প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে জাপানের দূরত্ব বাড়ছে জ্যামিতিক হারে।
দেশের অভ্যন্তরেও এই সামরিকীকরণের গতিপ্রকৃতি নিয়ে জনমনে একধরনের শঙ্কা ও ক্ষোভের অবকাশ রয়েছে। একদিকে শান্তির সংবিধান রক্ষার ঐতিহাসিক অঙ্গীকার, অন্যদিকে ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তাহীনতার তাগিদে সমরাস্ত্রের ঝনঝনানি—এই দুইয়ের দোলাচলে দাঁড়িয়ে এখন জাপান। আঞ্চলিক আধিপত্য বজায় রাখা আর নিরাপত্তার ভারসাম্য রক্ষা, এই দুই কঠিন সমীকরণ মেলাতে গিয়ে টোকিও শেষ পর্যন্ত কোন পথে এগোয়, সেটিই এখন বিশ্ব রাজনীতির পর্যবেক্ষকদের কাছে মূল আলোচনার বিষয়।
বিষয় : সানায়ে তাকাইচি জাপান
2.png)
শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ মে ২০২৬
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে যে ‘শান্তিবাদী’ জাপানের প্রতিচ্ছবি বিশ্বমঞ্চে পরিচিত ছিল, প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির শাসনামলে তাতে যেন কিছুটা ফাটল ধরতে শুরু করেছে। গতানুগতিক আত্মরক্ষাকেন্দ্রিক নীতিতে অটল থাকার জোরালো দাবি জানালেও, বাস্তবে টোকিওর সামরিক কৌশলে নতুন হাওয়া লেগেছে। ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন এবং এশীয় অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে জাপান তার নিরাপত্তার সংজ্ঞাকে নতুন করে সাজাতে বাধ্য হচ্ছে, যা দুই বৃহৎ প্রতিবেশী দেশের সাথে এক অস্বস্তিকর ও উত্তপ্ত সম্পর্কের জন্ম দিয়েছে।
নীতিনির্ধারকরা বারবার স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন যে, জাপান সবসময়ই গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার পক্ষে কাজ করে এসেছে। কিন্তু কূটনৈতিক বাগাড়ম্বর আর বাস্তব ভূ-রাজনীতির মাঠ যে ভিন্ন, তা সাম্প্রতিক ঘটনাবলিতেই স্পষ্ট। জাপানের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির এই আকাঙ্ক্ষাকে বেইজিং ও মস্কো মোটেও স্বাভাবিক চোখে দেখছে না। উল্টো, পাল্টাপাল্টি হুংকার আর কঠোর কূটনৈতিক ভাষায় প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে জাপানের দূরত্ব বাড়ছে জ্যামিতিক হারে।
দেশের অভ্যন্তরেও এই সামরিকীকরণের গতিপ্রকৃতি নিয়ে জনমনে একধরনের শঙ্কা ও ক্ষোভের অবকাশ রয়েছে। একদিকে শান্তির সংবিধান রক্ষার ঐতিহাসিক অঙ্গীকার, অন্যদিকে ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তাহীনতার তাগিদে সমরাস্ত্রের ঝনঝনানি—এই দুইয়ের দোলাচলে দাঁড়িয়ে এখন জাপান। আঞ্চলিক আধিপত্য বজায় রাখা আর নিরাপত্তার ভারসাম্য রক্ষা, এই দুই কঠিন সমীকরণ মেলাতে গিয়ে টোকিও শেষ পর্যন্ত কোন পথে এগোয়, সেটিই এখন বিশ্ব রাজনীতির পর্যবেক্ষকদের কাছে মূল আলোচনার বিষয়।
2.png)