সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 জাতীয়জাতীয়

পদ্মা ব্যারাজের পর এবার তিস্তা মহাপরিকল্পনায় ঝুঁকছে সরকার

প্রায় সাড়ে ৩৩ হাজার কোটি টাকার ‘পদ্মা ব্যারাজ (প্রথম পর্যায়)’ প্রকল্প চূড়ান্ত অনুমোদনের পর এবার দেশের উত্তরাঞ্চলের অববাহিকাকে বাঁচাতে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিশেষ জোর দিচ্ছে প্রশাসন। ভাঙনকবলিত উত্তরের প্রায় দুই কোটি মানুষের জানমাল রক্ষা ও কৃষি ব্যবস্থার খোলনলচে বদলে দেওয়ার পাশাপাশি এই মেগা প্রকল্প থেকে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনেরও লক্ষ্য রাখা হয়েছে।

পদ্মা ব্যারাজের পর এবার তিস্তা মহাপরিকল্পনায় ঝুঁকছে সরকার
ছবি -সংগৃহীত

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদী, কৃষি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার উদ্দেশ্যে দেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ বিনিয়োগে ‘পদ্মা ব্যারাজ’ প্রকল্প অনুমোদন পাওয়ার পর সরকারের নীতিনির্ধারকদের পুরো নজর এখন তিস্তা নদীকে ঘিরে। উত্তরের বিস্তীর্ণ জনপদের প্রায় দুই কোটি মানুষের বারো মাসের দুঃখ এই তিস্তা। বছরের পর বছর তীব্র ভাঙনে হাজারো পরিবারকে বাস্তুহারা করা এবং শুষ্ক মৌসুমে মরুভূমিতে রূপ নেওয়া এই নদী অববাহিকার বাসিন্দাদের স্থায়ী মুক্তি দিতেই পদ্মা ব্যারাজের আদলে বিশাল এই কর্মযজ্ঞের ছক কষা হচ্ছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) চূড়ান্তকরণ সভায় পাঁচ বছর মেয়াদি বিশেষ অর্থনৈতিক কৌশলপত্রে তিস্তা মহাপরিকল্পনাটিকে অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সভায় প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং এই মহাপরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে শতভাগ ইতিবাচক সায় দিয়েছেন।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত এই মহাপরিকল্পনার আওতায় নদীর মূল খাত খনন ও ড্রেজিং করে পানি ধারণক্ষমতা বাড়ানো, উভয় তীরে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ, শুষ্ক মৌসুমের জন্য আধুনিক সেচ অবকাঠামো তৈরি এবং বর্ষার অতিরিক্ত পানি ধরে রাখতে বিশেষ জলাধার বা আন্ডারগ্রাউন্ড রিজার্ভার তৈরি করা হবে। এছাড়া নদীকেন্দ্রিক পর্যটন ও দুই পাড়ে নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার রূপরেখাও রয়েছে এতে। সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে, পদ্মা ব্যারাজের ১১৩ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের মতো তিস্তা থেকেও পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি জানিয়েছেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই স্ট্র্যাটেজিক ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করা হয়েছে এবং সরকার দ্রুতই এটি বাস্তবায়ন করতে চায়।

তবে এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মূল চ্যালেঞ্জ এখন অর্থায়ন ও চূড়ান্ত রূপরেখা নির্ধারণ। এর আগে ভারতের গজলডোবা ব্যারাজের কারণে পানিপ্রবাহ কমে যাওয়া তিস্তা নদী নিয়ে চীনের ‘পাওয়ার চায়না’র সমীক্ষার পর প্রায় ৮ হাজার ৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ের একটি প্রাথমিক খসড়া তৈরি হয়েছিল। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী জানান, বিগত সরকারের আমলে চীনের কাছে ঋণের প্রস্তাব পাঠানো হলেও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বর্তমান সরকার নতুন করে পুরো বিষয়টি পুনর্মূল্যায়ন করছে এবং নতুন কাঠামোতে পুনরায় অর্থায়নের প্রস্তাব পাঠানো হবে। এদিকে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তিস্তা নিয়ে চীনের চলমান দ্বিতীয় দফার সম্ভাব্যতা সমীক্ষা আগামী ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। সেই চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই এই মেগা প্রকল্পের মূল ব্যয় ও কাজের সময়সীমা নির্ধারিত হবে।

SEO Friendly Meta Tags:

বিষয় : বি এনপি সরকার তিস্তা ব্যারেজ তিস্তা মহাপরিকল্পনা

পদ্মা ব্যারাজের পর এবার তিস্তা মহাপরিকল্পনায় ঝুঁকছে সরকার
0:00 0:00
1.0x
কাল মহাকাল

শনিবার, ৩০ মে ২০২৬


পদ্মা ব্যারাজের পর এবার তিস্তা মহাপরিকল্পনায় ঝুঁকছে সরকার

প্রকাশের তারিখ : ২৪ মে ২০২৬

featured Image

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদী, কৃষি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার উদ্দেশ্যে দেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ বিনিয়োগে ‘পদ্মা ব্যারাজ’ প্রকল্প অনুমোদন পাওয়ার পর সরকারের নীতিনির্ধারকদের পুরো নজর এখন তিস্তা নদীকে ঘিরে। উত্তরের বিস্তীর্ণ জনপদের প্রায় দুই কোটি মানুষের বারো মাসের দুঃখ এই তিস্তা। বছরের পর বছর তীব্র ভাঙনে হাজারো পরিবারকে বাস্তুহারা করা এবং শুষ্ক মৌসুমে মরুভূমিতে রূপ নেওয়া এই নদী অববাহিকার বাসিন্দাদের স্থায়ী মুক্তি দিতেই পদ্মা ব্যারাজের আদলে বিশাল এই কর্মযজ্ঞের ছক কষা হচ্ছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) চূড়ান্তকরণ সভায় পাঁচ বছর মেয়াদি বিশেষ অর্থনৈতিক কৌশলপত্রে তিস্তা মহাপরিকল্পনাটিকে অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সভায় প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং এই মহাপরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে শতভাগ ইতিবাচক সায় দিয়েছেন।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত এই মহাপরিকল্পনার আওতায় নদীর মূল খাত খনন ও ড্রেজিং করে পানি ধারণক্ষমতা বাড়ানো, উভয় তীরে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ, শুষ্ক মৌসুমের জন্য আধুনিক সেচ অবকাঠামো তৈরি এবং বর্ষার অতিরিক্ত পানি ধরে রাখতে বিশেষ জলাধার বা আন্ডারগ্রাউন্ড রিজার্ভার তৈরি করা হবে। এছাড়া নদীকেন্দ্রিক পর্যটন ও দুই পাড়ে নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার রূপরেখাও রয়েছে এতে। সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে, পদ্মা ব্যারাজের ১১৩ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের মতো তিস্তা থেকেও পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি জানিয়েছেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই স্ট্র্যাটেজিক ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করা হয়েছে এবং সরকার দ্রুতই এটি বাস্তবায়ন করতে চায়।

তবে এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মূল চ্যালেঞ্জ এখন অর্থায়ন ও চূড়ান্ত রূপরেখা নির্ধারণ। এর আগে ভারতের গজলডোবা ব্যারাজের কারণে পানিপ্রবাহ কমে যাওয়া তিস্তা নদী নিয়ে চীনের ‘পাওয়ার চায়না’র সমীক্ষার পর প্রায় ৮ হাজার ৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ের একটি প্রাথমিক খসড়া তৈরি হয়েছিল। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী জানান, বিগত সরকারের আমলে চীনের কাছে ঋণের প্রস্তাব পাঠানো হলেও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বর্তমান সরকার নতুন করে পুরো বিষয়টি পুনর্মূল্যায়ন করছে এবং নতুন কাঠামোতে পুনরায় অর্থায়নের প্রস্তাব পাঠানো হবে। এদিকে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তিস্তা নিয়ে চীনের চলমান দ্বিতীয় দফার সম্ভাব্যতা সমীক্ষা আগামী ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। সেই চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই এই মেগা প্রকল্পের মূল ব্যয় ও কাজের সময়সীমা নির্ধারিত হবে।

SEO Friendly Meta Tags:



কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত