সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 আন্তর্জাতিকআন্তর্জাতিক

ইরান চুক্তির দোরগোড়ায় ওয়াশিংটন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ট্রাম্প

ওয়াশিংটন ও তেহরান নতুন এক চুক্তির দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে শেষ পর্যন্ত কী ঘটবে, তা নির্ভর করছে ট্রাম্পের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর—এমনটাই আভাস মিলছে কূটনৈতিক মহলে।

ইরান চুক্তির দোরগোড়ায় ওয়াশিংটন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ট্রাম্প
ছবি -সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন এবার হয়তো নতুন মোড় নিতে যাচ্ছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি বলেছেন, চুক্তি সইয়ের ক্ষেত্রে দুই পক্ষই এখন অনেক কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। তবে আলোচনার টেবিলে ঠিক কী কী শর্ত নিয়ে দরকষাকষি চলছে, তা খোলাসা করতে রাজি হননি তিনি। রসিকতা করেই যেন এড়িয়ে গেলেন প্রশ্নটি—বললেন, ইরানকে জানানোর আগে মিডিয়াকে বলা তো সম্ভব নয়!

তবে পর্দার আড়ালে কী চলছে, তার কিছু আভাস মিলেছে সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে। শোনা যাচ্ছে, হরমুজ প্রণালীতে নৌ-চলাচল স্বাভাবিক করা, বিদেশের ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের অর্থ অবমুক্ত করা এবং আলোচনার ধারা বজায় রাখার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এই চুক্তির কেন্দ্রে রয়েছে। ট্রাম্পের দাবি, পারমাণবিক অস্ত্র থেকে ইরানকে পুরোপুরি দূরে রাখা এবং তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচিকে নিয়ন্ত্রণে আনাই এই চুক্তির মূল লক্ষ্য। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, সব শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কোনো কাগজে তিনি সই করবেন না।

চুক্তির চূড়ান্ত রূপরেখা ঠিক করতে ট্রাম্প এখন ব্যস্ত তার উপদেষ্টাদের সঙ্গে পরামর্শে। কেবল হোয়াইট হাউস নয়, এই ইস্যুতে উপসাগরীয় অঞ্চলের নেতাদের, বিশেষ করে সৌদি আরবের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন তিনি। এমনকি শনিবার উপসাগরীয় দেশগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে ফোনালাপ হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে ইরান ইস্যুই থাকবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

কিন্তু সমঝোতার এই বাতাসের বিপরীতে ট্রাম্পের কণ্ঠে একইসাথে শোনা গেছে কঠোর হুঙ্কার। যদি কোনো কারণে এই চুক্তি ভেস্তে যায়, তবে তেহরানকে যে চরম খেসারত দিতে হবে, সে ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন তিনি। ট্রাম্পের ভাষ্যে, চুক্তি না হলে ইরানকে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে, যা ইতিহাসের ভয়াবহতম পরিণতির একটি।

অন্যদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আরও আশাবাদী সুর শুনিয়েছেন। নয়াদিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, আলোচনার টেবিলে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে এবং খুব দ্রুতই হয়তো বিশ্ববাসী নতুন কোনো ঘোষণার অপেক্ষায় থাকবে। এখন বিশ্বনেতাদের নজর, ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত আপসের পথ বেছে নেন, নাকি ফের নতুন কোনো উত্তেজনার জন্ম দেন।

বিষয় : ইরান যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা ইরান যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তি

ইরান চুক্তির দোরগোড়ায় ওয়াশিংটন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ট্রাম্প
0:00 0:00
1.0x
কাল মহাকাল

শনিবার, ৩০ মে ২০২৬


ইরান চুক্তির দোরগোড়ায় ওয়াশিংটন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ট্রাম্প

প্রকাশের তারিখ : ২৪ মে ২০২৬

featured Image

ইরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন এবার হয়তো নতুন মোড় নিতে যাচ্ছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি বলেছেন, চুক্তি সইয়ের ক্ষেত্রে দুই পক্ষই এখন অনেক কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। তবে আলোচনার টেবিলে ঠিক কী কী শর্ত নিয়ে দরকষাকষি চলছে, তা খোলাসা করতে রাজি হননি তিনি। রসিকতা করেই যেন এড়িয়ে গেলেন প্রশ্নটি—বললেন, ইরানকে জানানোর আগে মিডিয়াকে বলা তো সম্ভব নয়!

তবে পর্দার আড়ালে কী চলছে, তার কিছু আভাস মিলেছে সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে। শোনা যাচ্ছে, হরমুজ প্রণালীতে নৌ-চলাচল স্বাভাবিক করা, বিদেশের ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের অর্থ অবমুক্ত করা এবং আলোচনার ধারা বজায় রাখার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এই চুক্তির কেন্দ্রে রয়েছে। ট্রাম্পের দাবি, পারমাণবিক অস্ত্র থেকে ইরানকে পুরোপুরি দূরে রাখা এবং তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচিকে নিয়ন্ত্রণে আনাই এই চুক্তির মূল লক্ষ্য। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, সব শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কোনো কাগজে তিনি সই করবেন না।

চুক্তির চূড়ান্ত রূপরেখা ঠিক করতে ট্রাম্প এখন ব্যস্ত তার উপদেষ্টাদের সঙ্গে পরামর্শে। কেবল হোয়াইট হাউস নয়, এই ইস্যুতে উপসাগরীয় অঞ্চলের নেতাদের, বিশেষ করে সৌদি আরবের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন তিনি। এমনকি শনিবার উপসাগরীয় দেশগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে ফোনালাপ হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে ইরান ইস্যুই থাকবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

কিন্তু সমঝোতার এই বাতাসের বিপরীতে ট্রাম্পের কণ্ঠে একইসাথে শোনা গেছে কঠোর হুঙ্কার। যদি কোনো কারণে এই চুক্তি ভেস্তে যায়, তবে তেহরানকে যে চরম খেসারত দিতে হবে, সে ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন তিনি। ট্রাম্পের ভাষ্যে, চুক্তি না হলে ইরানকে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে, যা ইতিহাসের ভয়াবহতম পরিণতির একটি।

অন্যদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আরও আশাবাদী সুর শুনিয়েছেন। নয়াদিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, আলোচনার টেবিলে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে এবং খুব দ্রুতই হয়তো বিশ্ববাসী নতুন কোনো ঘোষণার অপেক্ষায় থাকবে। এখন বিশ্বনেতাদের নজর, ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত আপসের পথ বেছে নেন, নাকি ফের নতুন কোনো উত্তেজনার জন্ম দেন।



কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত