জাতীয়
দীর্ঘদিন ধরে ধুঁকতে থাকা সরকারি মোবাইল অপারেটর টেলিটক এবার নতুন করে আশার আলো দেখছে। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল মাবুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, সরকারের দেওয়া নতুন স্পেকট্রাম এবং পাঁচ বছর মেয়াদি বিশেষ পরিকল্পনা নিয়ে পুরোদমে প্রস্তুতি চলছে। সব ধরনের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে নেটওয়ার্কের সক্ষমতা বাড়াতে তারা মরিয়া।
সম্প্রতি বরাদ্দ পাওয়া ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ড নিয়ে বেশ আশাবাদী টেলিটক। মোবাইল নেটওয়ার্কের দুনিয়ায় এই ব্যান্ডটিকে 'কভারেজ রাজা' বলা হয়। কারণ, অল্প টাওয়ার বসিয়েই অনেক বড় এলাকায় নেটওয়ার্ক পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। বিশেষ করে দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল, হাওর কিংবা উপকূলীয় এলাকায় যেখানে বেসরকারি অপারেটররা ব্যবসায়িক লাভের কথা ভেবে যেতে দেরি করে, সেখানে টেলিটকই ভরসা। এখন সেই এলাকাগুলোতেও ফ্রিকোয়েন্সি সংকটের কারণে সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। নতুন বরাদ্দ সেই সংকট দূর করবে বলে বিশ্বাস কর্তৃপক্ষের।
টেলিটকের এমডি নুরুল মাবুদ চৌধুরী অবশ্য প্রতিষ্ঠানের সমালোচনাগুলোকেও সহজভাবেই দেখছেন। ২০০৫ সালে যখন টেলিটকের যাত্রা শুরু হয়, তখন মানুষের ব্যাপক আগ্রহ ছিল। তিনি মনে করেন, বেসরকারি অপারেটররা যদি শুরুতে গ্রাহকদের সাশ্রয়ী দামে সেবা দিত এবং নেটওয়ার্কের মান নিয়ে গড়িমসি না করত, তবে হয়তো টেলিটকের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আজ এত প্রশ্ন উঠত না। মানুষের চাহিদাই প্রমাণ করে যে, বাজারে সরকারি অপারেটর থাকা কতটা জরুরি।
তবে প্রতিযোগিতার মাঠে টিকে থাকা যে সহজ নয়, সেটিও স্বীকার করছেন তিনি। যেখানে শীর্ষ বেসরকারি অপারেটররা ৬০ হাজার কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করেছে, সেখানে টেলিটকের বিনিয়োগ মাত্র পাঁচ হাজার কোটি টাকার মতো। এর মধ্যে সরকারের বিনিয়োগ থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি তার পরিচালন ব্যয় মেটাচ্ছে নিজেদের আয় থেকেই। প্রযুক্তিগত মানোন্নয়নের জন্য কেবল স্পেকট্রামই যথেষ্ট নয়, মানসম্মত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহসহ আনুষঙ্গিক অবকাঠামোও জরুরি বলে মত তার।
বর্তমানে টেলিটকের গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৬৮ লাখ। বাজার দখলে পিছিয়ে থাকলেও, সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে দায়বদ্ধতা থেকে তারা দেশের শেষ প্রান্তেও সংযোগ পৌঁছে দিচ্ছে। এখন কেবল প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা আর কার্যকর বিনিয়োগ। নতুন স্পেকট্রাম ব্যবহারের মাধ্যমে নেটওয়ার্কের মান কিছুটা বাড়াতে পারলেও, গ্রাহকের আস্থা অর্জনই হবে তাদের আসল পরীক্ষা।
বিষয় : টেলিটক, নুরুল মাবুদ চৌধুরী
2.png)
শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ মে ২০২৬
দীর্ঘদিন ধরে ধুঁকতে থাকা সরকারি মোবাইল অপারেটর টেলিটক এবার নতুন করে আশার আলো দেখছে। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল মাবুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, সরকারের দেওয়া নতুন স্পেকট্রাম এবং পাঁচ বছর মেয়াদি বিশেষ পরিকল্পনা নিয়ে পুরোদমে প্রস্তুতি চলছে। সব ধরনের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে নেটওয়ার্কের সক্ষমতা বাড়াতে তারা মরিয়া।
সম্প্রতি বরাদ্দ পাওয়া ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ড নিয়ে বেশ আশাবাদী টেলিটক। মোবাইল নেটওয়ার্কের দুনিয়ায় এই ব্যান্ডটিকে 'কভারেজ রাজা' বলা হয়। কারণ, অল্প টাওয়ার বসিয়েই অনেক বড় এলাকায় নেটওয়ার্ক পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। বিশেষ করে দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল, হাওর কিংবা উপকূলীয় এলাকায় যেখানে বেসরকারি অপারেটররা ব্যবসায়িক লাভের কথা ভেবে যেতে দেরি করে, সেখানে টেলিটকই ভরসা। এখন সেই এলাকাগুলোতেও ফ্রিকোয়েন্সি সংকটের কারণে সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। নতুন বরাদ্দ সেই সংকট দূর করবে বলে বিশ্বাস কর্তৃপক্ষের।
টেলিটকের এমডি নুরুল মাবুদ চৌধুরী অবশ্য প্রতিষ্ঠানের সমালোচনাগুলোকেও সহজভাবেই দেখছেন। ২০০৫ সালে যখন টেলিটকের যাত্রা শুরু হয়, তখন মানুষের ব্যাপক আগ্রহ ছিল। তিনি মনে করেন, বেসরকারি অপারেটররা যদি শুরুতে গ্রাহকদের সাশ্রয়ী দামে সেবা দিত এবং নেটওয়ার্কের মান নিয়ে গড়িমসি না করত, তবে হয়তো টেলিটকের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আজ এত প্রশ্ন উঠত না। মানুষের চাহিদাই প্রমাণ করে যে, বাজারে সরকারি অপারেটর থাকা কতটা জরুরি।
তবে প্রতিযোগিতার মাঠে টিকে থাকা যে সহজ নয়, সেটিও স্বীকার করছেন তিনি। যেখানে শীর্ষ বেসরকারি অপারেটররা ৬০ হাজার কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করেছে, সেখানে টেলিটকের বিনিয়োগ মাত্র পাঁচ হাজার কোটি টাকার মতো। এর মধ্যে সরকারের বিনিয়োগ থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি তার পরিচালন ব্যয় মেটাচ্ছে নিজেদের আয় থেকেই। প্রযুক্তিগত মানোন্নয়নের জন্য কেবল স্পেকট্রামই যথেষ্ট নয়, মানসম্মত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহসহ আনুষঙ্গিক অবকাঠামোও জরুরি বলে মত তার।
বর্তমানে টেলিটকের গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৬৮ লাখ। বাজার দখলে পিছিয়ে থাকলেও, সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে দায়বদ্ধতা থেকে তারা দেশের শেষ প্রান্তেও সংযোগ পৌঁছে দিচ্ছে। এখন কেবল প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা আর কার্যকর বিনিয়োগ। নতুন স্পেকট্রাম ব্যবহারের মাধ্যমে নেটওয়ার্কের মান কিছুটা বাড়াতে পারলেও, গ্রাহকের আস্থা অর্জনই হবে তাদের আসল পরীক্ষা।
2.png)