সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 আন্তর্জাতিকআন্তর্জাতিক

চীন এক নতুন জলপথে বদলে দিচ্ছে বাণিজ্যের মানচিত্র

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের নতুন দরজা খুলে দিতে চলেছে চীন। পিংলু খাল নামের এই মেগা প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার আগেই, যেন এক বিস্ময় নিয়ে ভেসে উঠতে যাচ্ছে বাণিজ্যের এক নতুন করিডোর।

চীন এক নতুন জলপথে বদলে দিচ্ছে বাণিজ্যের মানচিত্র
ছবি -সংগৃহীত

দশকের পর দশক ধরে চীন তার অভ্যন্তরীণ পণ্য সাগরে পাঠাতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে বাধ্য হয়েছে। কিন্তু পিংলু খাল সেই দীর্ঘ অপেক্ষার ইতি টানতে চলেছে। ১০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি খরচ করে বানানো এই ১৩৪ কিলোমিটার দীর্ঘ খালটি যেন চীনের দক্ষিণাঞ্চলের জন্য এক নতুন লাইফলাইন। সেপ্টেম্বর মাস থেকেই এর পরীক্ষামূলক চলাচল শুরুর কথা শোনা যাচ্ছে, যা নির্ধারিত সময়ের চেয়েও তিন মাস আগে।

তবে এই খাল শুধু নদী বা সমুদ্রের সংযোগ নয়, বরং এক বিরাট অর্থনৈতিক হিসাব। এর পেছনে আরও কারণ আছে।

আগে চীনের ভেতরের অঞ্চলের পণ্য গুয়াংডং প্রদেশের বন্দর ঘুরে সাগরে পৌঁছাতো। এটি ছিল সময়সাপেক্ষ এবং পকেটে টান পড়ার মতো খরচ। কিন্তু এখন পিংলু খাল চালু হলে পণ্য পরিবহনের দূরত্ব প্রায় ৫৬০ কিলোমিটার কমে যাবে। শুধু তাই নয়, পরিবহন খরচ ১৮ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত সাশ্রয় হবে। এতে বছরে ৬৯০ মিলিয়ন ডলারের মতো লজিস্টিক খরচ বেঁচে যাবে বেইজিংয়ের।

খালি চোখে একে বাণিজ্যের সুবিধা মনে হলেও, খেয়াল করলে দেখা যায় এর পেছনে রয়েছে গভীর ভূ-রাজনৈতিক চাল।

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চীনের বাণিজ্য দড়ি টানাটানি চলছেই। এমন পরিস্থিতিতে আসিয়ান বা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সাথে বাণিজ্যের বন্ধন আরও শক্ত করা চীনের জন্য সময়ের দাবি। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে চীনের রপ্তানি কমলেও আসিয়ান অঞ্চলে তা বেশ বেড়েছে। এই বাজারকে নিজের হাতের মুঠোয় রাখতেই চীন এই বিশাল বিনিয়োগকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে।

লজিস্টিকস ও সাপ্লাই চেইন বিশেষজ্ঞ ড. কিম সং মনে করেন, চীনের এই উদ্যোগ কেবল খালের নির্মাণ নয়, বরং দক্ষিণ চীন সাগরে তাদের প্রভাব বিস্তারের নতুন একটি কৌশল।

তিনি বলেন, "পিংলু খাল চীনের অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করবে ঠিকই, কিন্তু একইসঙ্গে তা আসিয়ান দেশগুলোর ওপর বেইজিংয়ের নির্ভরশীলতা বাড়ানোর একটি মোক্ষম হাতিয়ার।"

এক কথায়, ভৌগোলিক সীমানাকে প্রযুক্তির মাধ্যমে জয় করে চীন নিজের অর্থনৈতিক সাম্রাজ্য আরও বড় করতে চাইছে।

আগামী সেপ্টেম্বর মাসে যখন নাননিংয়ে চীন-আসিয়ান এক্সপো বসবে, তখনই হয়তো এই খাল আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেওয়া হবে। চীন কি আসলেই এই খালের মাধ্যমে আঞ্চলিক বাণিজ্যের নতুন মোড়ল হতে পারবে? নাকি সময়ের সাথে সাথে এই খাল নতুন কোনো ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণ হয়ে দাঁড়াবে, তা এখন দেখার বিষয়।

বিষয় : পিংলু খাল চীনের নতুন বানিজ্য

চীন এক নতুন জলপথে বদলে দিচ্ছে বাণিজ্যের মানচিত্র
0:00 0:00
1.0x
কাল মহাকাল

শনিবার, ৩০ মে ২০২৬


চীন এক নতুন জলপথে বদলে দিচ্ছে বাণিজ্যের মানচিত্র

প্রকাশের তারিখ : ২৩ মে ২০২৬

featured Image

দশকের পর দশক ধরে চীন তার অভ্যন্তরীণ পণ্য সাগরে পাঠাতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে বাধ্য হয়েছে। কিন্তু পিংলু খাল সেই দীর্ঘ অপেক্ষার ইতি টানতে চলেছে। ১০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি খরচ করে বানানো এই ১৩৪ কিলোমিটার দীর্ঘ খালটি যেন চীনের দক্ষিণাঞ্চলের জন্য এক নতুন লাইফলাইন। সেপ্টেম্বর মাস থেকেই এর পরীক্ষামূলক চলাচল শুরুর কথা শোনা যাচ্ছে, যা নির্ধারিত সময়ের চেয়েও তিন মাস আগে।

তবে এই খাল শুধু নদী বা সমুদ্রের সংযোগ নয়, বরং এক বিরাট অর্থনৈতিক হিসাব। এর পেছনে আরও কারণ আছে।

আগে চীনের ভেতরের অঞ্চলের পণ্য গুয়াংডং প্রদেশের বন্দর ঘুরে সাগরে পৌঁছাতো। এটি ছিল সময়সাপেক্ষ এবং পকেটে টান পড়ার মতো খরচ। কিন্তু এখন পিংলু খাল চালু হলে পণ্য পরিবহনের দূরত্ব প্রায় ৫৬০ কিলোমিটার কমে যাবে। শুধু তাই নয়, পরিবহন খরচ ১৮ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত সাশ্রয় হবে। এতে বছরে ৬৯০ মিলিয়ন ডলারের মতো লজিস্টিক খরচ বেঁচে যাবে বেইজিংয়ের।

খালি চোখে একে বাণিজ্যের সুবিধা মনে হলেও, খেয়াল করলে দেখা যায় এর পেছনে রয়েছে গভীর ভূ-রাজনৈতিক চাল।

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চীনের বাণিজ্য দড়ি টানাটানি চলছেই। এমন পরিস্থিতিতে আসিয়ান বা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সাথে বাণিজ্যের বন্ধন আরও শক্ত করা চীনের জন্য সময়ের দাবি। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে চীনের রপ্তানি কমলেও আসিয়ান অঞ্চলে তা বেশ বেড়েছে। এই বাজারকে নিজের হাতের মুঠোয় রাখতেই চীন এই বিশাল বিনিয়োগকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে।

লজিস্টিকস ও সাপ্লাই চেইন বিশেষজ্ঞ ড. কিম সং মনে করেন, চীনের এই উদ্যোগ কেবল খালের নির্মাণ নয়, বরং দক্ষিণ চীন সাগরে তাদের প্রভাব বিস্তারের নতুন একটি কৌশল।

তিনি বলেন, "পিংলু খাল চীনের অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করবে ঠিকই, কিন্তু একইসঙ্গে তা আসিয়ান দেশগুলোর ওপর বেইজিংয়ের নির্ভরশীলতা বাড়ানোর একটি মোক্ষম হাতিয়ার।"

এক কথায়, ভৌগোলিক সীমানাকে প্রযুক্তির মাধ্যমে জয় করে চীন নিজের অর্থনৈতিক সাম্রাজ্য আরও বড় করতে চাইছে।

আগামী সেপ্টেম্বর মাসে যখন নাননিংয়ে চীন-আসিয়ান এক্সপো বসবে, তখনই হয়তো এই খাল আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেওয়া হবে। চীন কি আসলেই এই খালের মাধ্যমে আঞ্চলিক বাণিজ্যের নতুন মোড়ল হতে পারবে? নাকি সময়ের সাথে সাথে এই খাল নতুন কোনো ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণ হয়ে দাঁড়াবে, তা এখন দেখার বিষয়।



কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত