সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 আন্তর্জাতিকআন্তর্জাতিক

অনুপ্রবেশকারী দেখলেই সীমান্ত পার, কড়া নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

হাওড়ায় প্রশাসনিক বৈঠকে রাজ্য-রেল সমন্বয়ে নতুন উদ্যোগের বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। স্টেশনের যানজট ও জল-নিকাশি সমস্যা নিরসনে রেল প্রশাসনকে যৌথভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

অনুপ্রবেশকারী দেখলেই সীমান্ত পার, কড়া নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর
ছবি -সংগৃহীত

বৃহস্পতিবার হাওড়ার নতুন কালেক্টরেটে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অবৈধ অনুপ্রবেশের প্রশ্নে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন। আরপিএফ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, রাজ্যে কোনো অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ধরা পড়লে তাদের আইনের দীর্ঘসূত্রতায় বা আদালতের মারপ্যাঁচে সময় নষ্ট না করে সরাসরি সীমান্ত পার করে দিতে হবে। পেট্রাপোল-বনগাঁ সীমান্ত দিয়ে দ্রুত বিতড়নের এই নির্দেশ প্রশাসনের ভেতরেই নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

হাওড়া স্টেশন ও সংলগ্ন এলাকাকে কেন্দ্র করে অবৈধ বসতি এবং বাংলাদেশি নাগরিকদের চিহ্নিত করার কাজে প্রশাসনকে কালক্ষেপণ না করার বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, হাওড়া ও বালি পৌরসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করেই এই কড়া অবস্থান নিয়েছেন শাসক দল। সীমান্তে নিরাপত্তা ও পরিচয়ের রাজনীতিকে সামনে এনে ভোটের ময়দানে প্রশাসনিক তৎপরতার ছাপ ফেলতে চাইছে সরকার।

সীমান্ত নীতির পাশাপাশি হাওড়া শহরের দীর্ঘদিনের নাগরিক দুর্ভোগ কমাতেও সমান গুরুত্ব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকে রাজ্য পুলিশের ডিজি, হাওড়ার জেলাশাসক ও পুলিশ কমিশনারের পাশাপাশি পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজারও উপস্থিত ছিলেন। স্টেশনের চারপাশের যানজট, বেআইনি দখলদারি এবং বর্ষায় জল-নিকাশি ব্যবস্থার করুণ দশা দূর করতে রেল ও রাজ্য প্রশাসনকে যৌথভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। অতীতে রেল ও পুরসভার মধ্যে যে সমন্বয়ের অভাব ও রেষারেষি দেখা গিয়েছিল, তা কাটিয়ে শহরকে ঢেলে সাজাতেই এই যৌথ উদ্যোগ বলে মনে করা হচ্ছে।

শপথ নেওয়ার পর থেকেই শুভেন্দু অধিকারী ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন জেলায় প্রশাসনিক বৈঠক করে নিজের ‘কাজের সরকার’ ইমেজ তৈরি করতে তৎপর হয়েছেন। হাওড়ার মতো ঘিঞ্জি শিল্পাঞ্চলের ভোট, রেলের সঙ্গে সমন্বয় আর সীমান্ত-নীতিকে এক সুতোয় গেঁথে তিনি স্পষ্ট করে দিলেন, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে তিনি আপসহীন। রাজনীতি আর প্রশাসনকে এক ছাতার নিচে এনে তিনি যে নতুন ধারার রাজনীতির ইঙ্গিত দিচ্ছেন, তার প্রভাব আগামী দিনের স্থানীয় নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনীতিকরা।


বিষয় : শুভেন্দু অধিকারী হাওড়া প্রশাসন অবৈধ অনুপ্রবেশ

অনুপ্রবেশকারী দেখলেই সীমান্ত পার, কড়া নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর
0:00 0:00
1.0x
কাল মহাকাল

শনিবার, ৩০ মে ২০২৬


অনুপ্রবেশকারী দেখলেই সীমান্ত পার, কড়া নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

প্রকাশের তারিখ : ২১ মে ২০২৬

featured Image

বৃহস্পতিবার হাওড়ার নতুন কালেক্টরেটে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অবৈধ অনুপ্রবেশের প্রশ্নে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন। আরপিএফ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, রাজ্যে কোনো অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ধরা পড়লে তাদের আইনের দীর্ঘসূত্রতায় বা আদালতের মারপ্যাঁচে সময় নষ্ট না করে সরাসরি সীমান্ত পার করে দিতে হবে। পেট্রাপোল-বনগাঁ সীমান্ত দিয়ে দ্রুত বিতড়নের এই নির্দেশ প্রশাসনের ভেতরেই নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

হাওড়া স্টেশন ও সংলগ্ন এলাকাকে কেন্দ্র করে অবৈধ বসতি এবং বাংলাদেশি নাগরিকদের চিহ্নিত করার কাজে প্রশাসনকে কালক্ষেপণ না করার বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, হাওড়া ও বালি পৌরসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করেই এই কড়া অবস্থান নিয়েছেন শাসক দল। সীমান্তে নিরাপত্তা ও পরিচয়ের রাজনীতিকে সামনে এনে ভোটের ময়দানে প্রশাসনিক তৎপরতার ছাপ ফেলতে চাইছে সরকার।

সীমান্ত নীতির পাশাপাশি হাওড়া শহরের দীর্ঘদিনের নাগরিক দুর্ভোগ কমাতেও সমান গুরুত্ব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকে রাজ্য পুলিশের ডিজি, হাওড়ার জেলাশাসক ও পুলিশ কমিশনারের পাশাপাশি পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজারও উপস্থিত ছিলেন। স্টেশনের চারপাশের যানজট, বেআইনি দখলদারি এবং বর্ষায় জল-নিকাশি ব্যবস্থার করুণ দশা দূর করতে রেল ও রাজ্য প্রশাসনকে যৌথভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। অতীতে রেল ও পুরসভার মধ্যে যে সমন্বয়ের অভাব ও রেষারেষি দেখা গিয়েছিল, তা কাটিয়ে শহরকে ঢেলে সাজাতেই এই যৌথ উদ্যোগ বলে মনে করা হচ্ছে।

শপথ নেওয়ার পর থেকেই শুভেন্দু অধিকারী ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন জেলায় প্রশাসনিক বৈঠক করে নিজের ‘কাজের সরকার’ ইমেজ তৈরি করতে তৎপর হয়েছেন। হাওড়ার মতো ঘিঞ্জি শিল্পাঞ্চলের ভোট, রেলের সঙ্গে সমন্বয় আর সীমান্ত-নীতিকে এক সুতোয় গেঁথে তিনি স্পষ্ট করে দিলেন, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে তিনি আপসহীন। রাজনীতি আর প্রশাসনকে এক ছাতার নিচে এনে তিনি যে নতুন ধারার রাজনীতির ইঙ্গিত দিচ্ছেন, তার প্রভাব আগামী দিনের স্থানীয় নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনীতিকরা।



কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত