আন্তর্জাতিক
মঙ্গলবার রাতে বেইজিংয়ে পৌঁছানোর পর পুতিনের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হচ্ছে বুধবার সকালে প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের মধ্য দিয়ে। তবে এই সফরের আসল গুরুত্ব নিহিত রয়েছে এর সময়ের ওপর। গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বেইজিং সফর শেষ করে যাওয়ার পরপরই পুতিনের এই আগমন বিশ্ব রাজনীতির মেরুকরণে এক বড় ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প বেইজিংয়ে বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে বড় কথা বললেও মার্কিন-চীন সম্পর্কের বিতর্কিত বিষয়গুলোতে তেমন কোনো অগ্রগতির ছাপ স্পষ্ট নয়। বিশেষ করে তাইওয়ান ইস্যু কিংবা ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলোতে বেইজিং কোনো চাপের কাছে মাথা নত করেনি।
ঠিক এই প্রেক্ষাপটে পুতিনের বেইজিং সফরটি মস্কোর জন্য কেবলই এক রুটিন মাফিক কূটনৈতিক কার্যক্রম নয়, বরং কৌশলগত টিকে থাকার বড় অবলম্বন। লন্ডনের কিংস কলেজের প্রতিরক্ষা অধ্যয়ন বিভাগের পোস্ট ডক্টরাল গবেষক মেরিনা মিরন মনে করেন, পুতিনের জন্য এই সফরটি অত্যন্ত জরুরি। ইউক্রেন যুদ্ধের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবে রাশিয়া আজ অনেকটা কোণঠাসা এবং চীনের ওপর নির্ভরশীল। সামরিক ড্রোন প্রযুক্তিসহ নানা ক্ষেত্রে বেইজিংয়ের সহায়তা ক্রেমলিনের জন্য এখন অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে, দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গভীর থেকে গভীরতর হচ্ছে, যদিও তারা এটিকে আনুষ্ঠানিক সামরিক মিত্রতা হিসেবে অভিহিত করতে নারাজ।
অন্যদিকে বেইজিংয়ের জন্য এই সফরগুলো তাদের ‘নিরপেক্ষ পরাশক্তি’ হিসেবে নিজেদের তুলে ধরার এক সুযোগ। চীন এমন এক ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে, যেখানে তারা একইসাথে প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিগুলোর সঙ্গে বোঝাপড়া করতে পারে। ইন্টারনাল ক্রাইসিস গ্রুপের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক ওলেগ ইগনাতভ বলেন, চীন ও রাশিয়ার সম্পর্ক এখন স্থিতিশীলতার এক নতুন উচ্চতায়। তারা একক কোনো বিশ্বশক্তির ছড়ি ঘোরানো মেনে নিতে নারাজ, বরং একটি বহুমেরুর বিশ্বব্যবস্থা গড়ার লক্ষে কাজ করে যাচ্ছে। ট্রাম্প বেইজিংয়ে গিয়ে যা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন—অর্থাৎ ইরান যুদ্ধের অবসান—সেই দাবি মেটাতে বেইজিং যে তেহরান বা মস্কোর ওপর চাপ প্রয়োগ করবে না, তা রাশিয়ার জন্য স্বস্তির বিষয়।
এই সফরে ইউক্রেন যুদ্ধ বা জ্বালানি খাতের যৌথ প্রকল্পগুলো আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চীন হয়তো রাশিয়াকে কোনো সময়সীমা বেঁধে দেবে না বা মস্কোকে অপমানিত করার মতো কোনো পথে হাঁটবে না। বরং বেইজিং এখন এমন এক মঞ্চ, যেখানে একদিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট আতিথেয়তা গ্রহণ করছেন, আবার পরের দিন রুশ প্রেসিডেন্ট বসছেন কৌশলগত অংশীদারত্বের আলোচনায়। এর মাধ্যমে চীন বিশ্বকে এটিই জানান দিচ্ছে যে, বর্তমান বিশ্বের যেকোনো বড় কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের জন্য বেইজিং এখন এক অপরিহার্য গন্তব্য।
2.png)
শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ মে ২০২৬
মঙ্গলবার রাতে বেইজিংয়ে পৌঁছানোর পর পুতিনের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হচ্ছে বুধবার সকালে প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের মধ্য দিয়ে। তবে এই সফরের আসল গুরুত্ব নিহিত রয়েছে এর সময়ের ওপর। গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বেইজিং সফর শেষ করে যাওয়ার পরপরই পুতিনের এই আগমন বিশ্ব রাজনীতির মেরুকরণে এক বড় ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প বেইজিংয়ে বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে বড় কথা বললেও মার্কিন-চীন সম্পর্কের বিতর্কিত বিষয়গুলোতে তেমন কোনো অগ্রগতির ছাপ স্পষ্ট নয়। বিশেষ করে তাইওয়ান ইস্যু কিংবা ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলোতে বেইজিং কোনো চাপের কাছে মাথা নত করেনি।
ঠিক এই প্রেক্ষাপটে পুতিনের বেইজিং সফরটি মস্কোর জন্য কেবলই এক রুটিন মাফিক কূটনৈতিক কার্যক্রম নয়, বরং কৌশলগত টিকে থাকার বড় অবলম্বন। লন্ডনের কিংস কলেজের প্রতিরক্ষা অধ্যয়ন বিভাগের পোস্ট ডক্টরাল গবেষক মেরিনা মিরন মনে করেন, পুতিনের জন্য এই সফরটি অত্যন্ত জরুরি। ইউক্রেন যুদ্ধের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবে রাশিয়া আজ অনেকটা কোণঠাসা এবং চীনের ওপর নির্ভরশীল। সামরিক ড্রোন প্রযুক্তিসহ নানা ক্ষেত্রে বেইজিংয়ের সহায়তা ক্রেমলিনের জন্য এখন অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে, দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গভীর থেকে গভীরতর হচ্ছে, যদিও তারা এটিকে আনুষ্ঠানিক সামরিক মিত্রতা হিসেবে অভিহিত করতে নারাজ।
অন্যদিকে বেইজিংয়ের জন্য এই সফরগুলো তাদের ‘নিরপেক্ষ পরাশক্তি’ হিসেবে নিজেদের তুলে ধরার এক সুযোগ। চীন এমন এক ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে, যেখানে তারা একইসাথে প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিগুলোর সঙ্গে বোঝাপড়া করতে পারে। ইন্টারনাল ক্রাইসিস গ্রুপের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক ওলেগ ইগনাতভ বলেন, চীন ও রাশিয়ার সম্পর্ক এখন স্থিতিশীলতার এক নতুন উচ্চতায়। তারা একক কোনো বিশ্বশক্তির ছড়ি ঘোরানো মেনে নিতে নারাজ, বরং একটি বহুমেরুর বিশ্বব্যবস্থা গড়ার লক্ষে কাজ করে যাচ্ছে। ট্রাম্প বেইজিংয়ে গিয়ে যা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন—অর্থাৎ ইরান যুদ্ধের অবসান—সেই দাবি মেটাতে বেইজিং যে তেহরান বা মস্কোর ওপর চাপ প্রয়োগ করবে না, তা রাশিয়ার জন্য স্বস্তির বিষয়।
এই সফরে ইউক্রেন যুদ্ধ বা জ্বালানি খাতের যৌথ প্রকল্পগুলো আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চীন হয়তো রাশিয়াকে কোনো সময়সীমা বেঁধে দেবে না বা মস্কোকে অপমানিত করার মতো কোনো পথে হাঁটবে না। বরং বেইজিং এখন এমন এক মঞ্চ, যেখানে একদিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট আতিথেয়তা গ্রহণ করছেন, আবার পরের দিন রুশ প্রেসিডেন্ট বসছেন কৌশলগত অংশীদারত্বের আলোচনায়। এর মাধ্যমে চীন বিশ্বকে এটিই জানান দিচ্ছে যে, বর্তমান বিশ্বের যেকোনো বড় কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের জন্য বেইজিং এখন এক অপরিহার্য গন্তব্য।
2.png)