জাতীয়
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশের গবাদি পশু উৎপাদনে এক অভাবনীয় সাফল্য ও স্বয়ংসম্পূর্ণতার চিত্র ফুটে উঠেছে। কয়েক বছর আগেও কোরবানির আগে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ভারতীয় গরুর অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান নিয়ে যে টানাপোড়েন চলত, তা এখন সম্পূর্ণ অতীত। দেশীয় খামারিদের অক্লান্ত পরিশ্রম, গবাদি পশু পালনে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কঠোর নজরদারির ফলে বাংলাদেশ এখন পশু উৎপাদনে সম্পূর্ণ আত্মনির্ভরশীলতা অর্জন করেছে। ভারতের ওপর নির্ভরতা কাটিয়ে দেশের আনাচে-কানাচে গড়ে উঠেছে দুই লাখের বেশি বাণিজ্যিক ও পারিবারিক খামার, যা মাংসের পাশাপাশি দুধের চাহিদাও পূরণ করছে।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এবার দিনাজপুরসহ রংপুর বিভাগের আটটি জেলায় চাহিদার তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ পশু প্রস্তুত রয়েছে। এই অঞ্চলে এবার কোরবানির পশুর চাহিদা প্রায় ৭ লাখের মতো হলেও খামারিদের কাছে উদ্বৃত্তসহ মজুদ রয়েছে ২০ লাখ ২৩ হাজারের বেশি গরু, ছাগল ও দুম্বা। অর্থাৎ, চাহিদার চেয়েও প্রায় ১৪ লাখ পশুর বিশাল এক বড় জোগান এবার দেশীয় খামারগুলোতেই প্রস্তুত রয়েছে। জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, দিনাজপুরে সর্বোচ্চ ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫২৩টি এবং রংপুরে ৩ লাখ ৬৬ হাজার ৫৯১টি পশু কোরবানিযোগ্য করা হয়েছে। এছাড়া কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও জেলাতেও বিপুল পরিমাণ পশুর জোগান রয়েছে।
সীমান্তবর্তী জেলা দিনাজপুরের পার্বতীপুর আমবাড়ীসহ বিভিন্ন পশুর হাটগুলো ঘুরে দেখা গেছে, হাটে পর্যাপ্ত পশুর সরবরাহ থাকলেও বেচাকেনা এখনো পুরোপুরি জমে ওঠেনি। বাজারে এবার বড় গরুর চেয়ে ৬০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা মূল্যের ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি। তবে বাজারে প্রচুর পশুর আমদানি থাকায় দাম গত বছরের তুলনায় কিছুটা কম। আমবাড়ী হাটে শাহীওয়াল জাতের ষাঁড় নিয়ে আসা বিক্রেতা আব্দুল্লাহ জানান, গত বছর যে আকারের গরু তিনি সোয়া দুই লাখ টাকায় বিক্রি করেছিলেন, এবার ক্রেতারা তার দাম হাঁকাচ্ছেন দেড় থেকে পৌনে দুই লাখ টাকা।
পশুর এই কম দাম প্রান্তিক খামারি ও কৃষকদের মধ্যে এক ধরনের উদ্বেগ ও লোকসানের শঙ্কা তৈরি করেছে। খামারিদের মতে, গত এক বছরে গো-খাদ্যের দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিটি পশুর উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে। ফলে বর্তমান বাজারদরে পশু বিক্রি করলে তাদের বড় অঙ্কের লোকসান গুনতে হতে পারে। যদিও জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুর রহিম আশাবাদ ব্যক্ত করে জানিয়েছেন, গো-খাদ্যের দাম কিছুটা চড়া হলেও শেষ মুহূর্তে বাজারে পশুর ভালো দাম পাবেন খামারিরা, ফলে তাদের লোকসানের ঝুঁকি থাকবে না।
কোরবানির এই বিশাল বাজারকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে সক্রিয় হয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। হাটগুলোতে জাল টাকা শনাক্তকরণ এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে হাটে আসা ব্যাপারি ও সাধারণ ক্রেতারা যাতে কোনো ধরনের হয়রানি বা অবৈধ চাঁদাবাজির শিকার না হন, সে বিষয়ে নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর নজরদারি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।
বিষয় : ঈদুল আজহা কোরবানির পশু
2.png)
শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ মে ২০২৬
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশের গবাদি পশু উৎপাদনে এক অভাবনীয় সাফল্য ও স্বয়ংসম্পূর্ণতার চিত্র ফুটে উঠেছে। কয়েক বছর আগেও কোরবানির আগে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ভারতীয় গরুর অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান নিয়ে যে টানাপোড়েন চলত, তা এখন সম্পূর্ণ অতীত। দেশীয় খামারিদের অক্লান্ত পরিশ্রম, গবাদি পশু পালনে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কঠোর নজরদারির ফলে বাংলাদেশ এখন পশু উৎপাদনে সম্পূর্ণ আত্মনির্ভরশীলতা অর্জন করেছে। ভারতের ওপর নির্ভরতা কাটিয়ে দেশের আনাচে-কানাচে গড়ে উঠেছে দুই লাখের বেশি বাণিজ্যিক ও পারিবারিক খামার, যা মাংসের পাশাপাশি দুধের চাহিদাও পূরণ করছে।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এবার দিনাজপুরসহ রংপুর বিভাগের আটটি জেলায় চাহিদার তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ পশু প্রস্তুত রয়েছে। এই অঞ্চলে এবার কোরবানির পশুর চাহিদা প্রায় ৭ লাখের মতো হলেও খামারিদের কাছে উদ্বৃত্তসহ মজুদ রয়েছে ২০ লাখ ২৩ হাজারের বেশি গরু, ছাগল ও দুম্বা। অর্থাৎ, চাহিদার চেয়েও প্রায় ১৪ লাখ পশুর বিশাল এক বড় জোগান এবার দেশীয় খামারগুলোতেই প্রস্তুত রয়েছে। জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, দিনাজপুরে সর্বোচ্চ ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫২৩টি এবং রংপুরে ৩ লাখ ৬৬ হাজার ৫৯১টি পশু কোরবানিযোগ্য করা হয়েছে। এছাড়া কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও জেলাতেও বিপুল পরিমাণ পশুর জোগান রয়েছে।
সীমান্তবর্তী জেলা দিনাজপুরের পার্বতীপুর আমবাড়ীসহ বিভিন্ন পশুর হাটগুলো ঘুরে দেখা গেছে, হাটে পর্যাপ্ত পশুর সরবরাহ থাকলেও বেচাকেনা এখনো পুরোপুরি জমে ওঠেনি। বাজারে এবার বড় গরুর চেয়ে ৬০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা মূল্যের ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি। তবে বাজারে প্রচুর পশুর আমদানি থাকায় দাম গত বছরের তুলনায় কিছুটা কম। আমবাড়ী হাটে শাহীওয়াল জাতের ষাঁড় নিয়ে আসা বিক্রেতা আব্দুল্লাহ জানান, গত বছর যে আকারের গরু তিনি সোয়া দুই লাখ টাকায় বিক্রি করেছিলেন, এবার ক্রেতারা তার দাম হাঁকাচ্ছেন দেড় থেকে পৌনে দুই লাখ টাকা।
পশুর এই কম দাম প্রান্তিক খামারি ও কৃষকদের মধ্যে এক ধরনের উদ্বেগ ও লোকসানের শঙ্কা তৈরি করেছে। খামারিদের মতে, গত এক বছরে গো-খাদ্যের দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিটি পশুর উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে। ফলে বর্তমান বাজারদরে পশু বিক্রি করলে তাদের বড় অঙ্কের লোকসান গুনতে হতে পারে। যদিও জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুর রহিম আশাবাদ ব্যক্ত করে জানিয়েছেন, গো-খাদ্যের দাম কিছুটা চড়া হলেও শেষ মুহূর্তে বাজারে পশুর ভালো দাম পাবেন খামারিরা, ফলে তাদের লোকসানের ঝুঁকি থাকবে না।
কোরবানির এই বিশাল বাজারকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে সক্রিয় হয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। হাটগুলোতে জাল টাকা শনাক্তকরণ এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে হাটে আসা ব্যাপারি ও সাধারণ ক্রেতারা যাতে কোনো ধরনের হয়রানি বা অবৈধ চাঁদাবাজির শিকার না হন, সে বিষয়ে নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর নজরদারি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।
2.png)