সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 জাতীয়জাতীয়

তদন্তের অবাস্তব বরাদ্দই পুলিশকে দুর্নীতির দিকে ঠেলছে

লাশ উদ্ধার থেকে অভিযান পরিচালনা—অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সরকারি বরাদ্দের বাইরে গিয়ে নিজের পকেট থেকেই টাকা গুনতে হচ্ছে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের। অপর্যাপ্ত বাজেট, যানবাহন সংকট, সোর্স মানির জট আর পদায়ন বাণিজ্যের চাপ মিলিয়ে পুলিশের ভেতরে তৈরি হয়েছে এক অস্বস্তিকর বাস্তবতা।

তদন্তের অবাস্তব বরাদ্দই পুলিশকে দুর্নীতির দিকে ঠেলছে
ছবি- প্রতীকী (এ আই জেনারেটেড)

পুলিশের উপপরিদর্শক বা এস আই হল পুলিশের মাঠ পর্যায়ের প্রতিটি কাজ বাস্তবায়নের দায়িত্বশীল ব্যক্তি। মামলার তদন্ত থেকে বেওয়ারিশ লাশ উদ্ধার এবং সৎকার কি নেই তার কাজের মধ্যে? নদীতে ভেসে ওঠা বেওয়ারিশ একটি অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধারের পর পুরো প্রক্রিয়াটি শেষ করতে গিয়ে প্রায় ১০ হাজার টাকা খরচ হয়ে যায় দায়িত্বে থাকা একজন এসআইয়ের।নদী থেকে মরদেহ তুলতে ডোমের খরচ,পরে অ্যাম্বুলেন্সে মর্গে নেওয়া, মর্গে আনুষঙ্গিক ব্যয়—সব মিলিয়ে টাকাটা গুনতে হচ্ছে তার নিজের পকেট থেকে।এজন্য থানা থেকে কোন বরাদ্দ নেই।  প্রতিনিয়ত এমন নানা ধরনের খরচ একজন এসআইকে নিজের পকেট থেকেই চালিয়ে যেতে হয়। কারন উর্ধ্বতনরা তাদেরকে এই খরচ ম্যানেজ করতে অলিখিত আদেশ বা ইঙ্গিত দিয়ে থাকেন। এমন কাজে পুলিশের নিত্তনৈমিত্তিক হলেও এর জন্য রাষ্ট্রের আলাদা কোনো বরাদ্দ নেই কেন?

শুধু লাশ উদ্ধারের ক্ষেত্রেই নয়, হত্যা, অপহরণ, মানি লন্ডারিং কিংবা চাঞ্চল্যকর অপরাধ তদন্তেও একই চিত্র দেখা যায়। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, সরকারি বরাদ্দ কাগজে-কলমে থাকলেও বাস্তব তদন্ত ব্যয়ের সঙ্গে তার মিল খুবই সামান্য। ফলে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেক কর্মকর্তাকেই অনানুষ্ঠানিক পথ খুঁজতে হয়।

এক বছরে একাধিক মরদেহ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পান এক এক জন এস আই । কোনো কোনো ঘটনায় খরচ ১৫ হাজার টাকাও ছাড়ায়। যিনি মাস শেষে বেতন হাতে পান ৪৫ থেকে ৪৬ হাজার টাকা। কিন্তু চাকরির বাস্তবতায় সেই বেতনের বাইরেও নানা জায়গায় টাকা “ম্যানেজ” করতে হয় বলে  দিন শেষে তাকে ভিন্ন চিন্তা করতেই হয়।এই আর্থিক টানাপোড়েন এখন থানার দৈনন্দিন কার্যক্রমেও স্পষ্ট।  

কর্মকর্তাদের আরেক যন্ত্রণা নাম হল থানাগুলোর উদ্যোগে আয়োজিত ‘ওপেন হাউজ ডে’। এই অনুষ্ঠানে স্থানীয় বাসিন্দাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে স্টেজ, আপ্যায়ন ও অন্যান্য আয়োজন বাবদ ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা ব্যয় হয়। কিন্তু এ ধরনের আয়োজনের জন্য থানার কাছে কোনো বরাদ্দ থাকেনা। শেষ পর্যন্ত কর্মকর্তারাই নিজেদের মধ্যে টাকা তুলে খরচ সামলান। বা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের উপর আয়োজনের বিভিন্ন সামগ্রী যোগানের অনুরোধ বা চাপ এসে পড়ে। 

পুলিশ কর্মকর্তাদের অভিযোগ, তদন্ত ব্যয়ের সরকারি হার বাস্তবতার সঙ্গে একেবারেই সঙ্গতিপূর্ণ নয়। হত্যা মামলায় সর্বোচ্চ ৬ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকলেও প্রকৃত ব্যয় অনেক সময় ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত পৌঁছে যায়। অপহরণ মামলায় ভুক্তভোগী উদ্ধারে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। অথচ বিল মেলে তার সামান্য অংশ।

একই অবস্থা মানি লন্ডারিং মামলার ক্ষেত্রেও। সরকারি বরাদ্দ ৩ হাজার টাকা হলেও তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বাস্তবে খরচ দাঁড়ায় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকায়। তথ্যপ্রযুক্তি, সন্ত্রাসবিরোধী, অস্ত্র কিংবা নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলাগুলোতেও বরাদ্দের চেয়ে বহু গুণ বেশি ব্যয় হয়। অতিরিক্ত টাকা জোগাড়ের দায় গিয়ে পড়ে তদন্ত কর্মকর্তার ওপরই। এমন বাস্তবতায় বাধ্য হয়েই তাদেরকে নিয়ম বহির্ভূত কাজে জড়াতে বাধ্য করে। 

নামি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে পুলিশের চাকরিতে যোগ দেওয়া এক এসআই বলেন, শুরুতে তিনি সততার সঙ্গে কাজ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বিভাগীয় বাস্তবতা তাকে ধীরে ধীরে বদলে দিয়েছে। তার ভাষায়, “সিস্টেমের ভেতরে ঢোকার পর বুঝেছি, শুধু নিয়ম মেনে চললে টিকে থাকা কঠিন।”

অভিযোগ আছে, থানাগুলোতে প্রয়োজনীয় যানবাহনেরও তীব্র সংকট রয়েছে। অনেক সময় অভিযানে যেতে গিয়েও কর্মকর্তাদের নিজ দায়িত্বে গাড়ি ঠিক করতে হয়। মানিকগঞ্জের এক কর্মকর্তা জানান, রাতে কয়েকটি টহল টিম মাঠে থাকলেও পর্যাপ্ত গাড়ি না থাকায় বেশিরভাগ সময় ভাড়ায় বা ব্যক্তিগত যোগাযোগে যানবাহন জোগাড় করতে হয়।

সোর্স পরিচালনার ক্ষেত্রেও একই ভোগান্তি। অপরাধী শনাক্তে তথ্যদাতাদের নিয়মিত টাকা দিতে হলেও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা অভিযোগ করছেন, বরাদ্দকৃত সোর্স মানি তারা হাতে পান না। অনেকের দাবি, এই অর্থ ওপরের স্তরেই আটকে যায়। ফলে নিজের টাকায় সোর্স চালাতে গিয়ে অনেকে পরে অবৈধ আয়ের পথেও জড়িয়ে পড়েন।

পুলিশের অভ্যন্তরে পদায়ন নিয়েও রয়েছে বিস্তর আলোচনা। গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকতে বা পছন্দের জায়গায় বদলি পেতে বড় অঙ্কের লেনদেনের অভিযোগ বহুদিনের। ওসি, এসআই থেকে শুরু করে কনস্টেবল পর্যায়েও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চাকরিতে ঢুকতেই যদি লাখ লাখ টাকা খরচ হয়, তাহলে পরে সেই অর্থ তুলতে গিয়ে অনেকেই দুর্নীতির দিকে ঝুঁকে পড়েন।

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক আব্দুল কাইয়ুম মনে করেন, আর্থিক সংকট দূর না করলে বাহিনীর ভেতরে সততা ধরে রাখা কঠিন হবে। তার মতে, তদন্ত কর্মকর্তাদের বাস্তব ব্যয় অনুযায়ী বরাদ্দ দেওয়া প্রয়োজন, যাতে কাউকে নিজের পকেট থেকে টাকা খরচ করতে না হয়।

এদিকে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, পুলিশের সেবাদান কাঠামোয় দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিত বিনিয়োগের অভাব রয়েছে। পর্যাপ্ত অবকাঠামো ও সহায়তা না থাকায় অনেক ক্ষেত্রেই সদস্যরা অনিয়মের দিকে ঠেলে যাচ্ছেন।

পরিসংখ্যানও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, পুলিশি সেবা নিতে গিয়ে ঘুষ দিতে হয়েছে এমন মানুষের হার ৬২ শতাংশের কাছাকাছি। অন্যদিকে টিআইবির তথ্য বলছে, পুলিশের সেবা নিতে গিয়ে দুর্নীতির মুখোমুখি হয়েছেন ৭৪ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ।

নীতিনির্ধারকেরা এমন প্রান্তিক সমস্যা খুঁজে বের করে সমাধানের দিকে না এলে পুলিশের পক্ষে জনগনের বন্ধু হয়ে ওঠা অবাস্তব কল্পনাই রয়ে যাবে। 

বিষয় : লাশ উদ্ধার খরচ পুলিশের দুর্নীতি মামলার তদন্ত

তদন্তের অবাস্তব বরাদ্দই পুলিশকে দুর্নীতির দিকে ঠেলছে
0:00 0:00
1.0x
কাল মহাকাল

শনিবার, ৩০ মে ২০২৬


তদন্তের অবাস্তব বরাদ্দই পুলিশকে দুর্নীতির দিকে ঠেলছে

প্রকাশের তারিখ : ১৯ মে ২০২৬

featured Image

পুলিশের উপপরিদর্শক বা এস আই হল পুলিশের মাঠ পর্যায়ের প্রতিটি কাজ বাস্তবায়নের দায়িত্বশীল ব্যক্তি। মামলার তদন্ত থেকে বেওয়ারিশ লাশ উদ্ধার এবং সৎকার কি নেই তার কাজের মধ্যে? নদীতে ভেসে ওঠা বেওয়ারিশ একটি অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধারের পর পুরো প্রক্রিয়াটি শেষ করতে গিয়ে প্রায় ১০ হাজার টাকা খরচ হয়ে যায় দায়িত্বে থাকা একজন এসআইয়ের।নদী থেকে মরদেহ তুলতে ডোমের খরচ,পরে অ্যাম্বুলেন্সে মর্গে নেওয়া, মর্গে আনুষঙ্গিক ব্যয়—সব মিলিয়ে টাকাটা গুনতে হচ্ছে তার নিজের পকেট থেকে।এজন্য থানা থেকে কোন বরাদ্দ নেই।  প্রতিনিয়ত এমন নানা ধরনের খরচ একজন এসআইকে নিজের পকেট থেকেই চালিয়ে যেতে হয়। কারন উর্ধ্বতনরা তাদেরকে এই খরচ ম্যানেজ করতে অলিখিত আদেশ বা ইঙ্গিত দিয়ে থাকেন। এমন কাজে পুলিশের নিত্তনৈমিত্তিক হলেও এর জন্য রাষ্ট্রের আলাদা কোনো বরাদ্দ নেই কেন?

শুধু লাশ উদ্ধারের ক্ষেত্রেই নয়, হত্যা, অপহরণ, মানি লন্ডারিং কিংবা চাঞ্চল্যকর অপরাধ তদন্তেও একই চিত্র দেখা যায়। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, সরকারি বরাদ্দ কাগজে-কলমে থাকলেও বাস্তব তদন্ত ব্যয়ের সঙ্গে তার মিল খুবই সামান্য। ফলে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেক কর্মকর্তাকেই অনানুষ্ঠানিক পথ খুঁজতে হয়।

এক বছরে একাধিক মরদেহ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পান এক এক জন এস আই । কোনো কোনো ঘটনায় খরচ ১৫ হাজার টাকাও ছাড়ায়। যিনি মাস শেষে বেতন হাতে পান ৪৫ থেকে ৪৬ হাজার টাকা। কিন্তু চাকরির বাস্তবতায় সেই বেতনের বাইরেও নানা জায়গায় টাকা “ম্যানেজ” করতে হয় বলে  দিন শেষে তাকে ভিন্ন চিন্তা করতেই হয়।এই আর্থিক টানাপোড়েন এখন থানার দৈনন্দিন কার্যক্রমেও স্পষ্ট।  

কর্মকর্তাদের আরেক যন্ত্রণা নাম হল থানাগুলোর উদ্যোগে আয়োজিত ‘ওপেন হাউজ ডে’। এই অনুষ্ঠানে স্থানীয় বাসিন্দাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে স্টেজ, আপ্যায়ন ও অন্যান্য আয়োজন বাবদ ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা ব্যয় হয়। কিন্তু এ ধরনের আয়োজনের জন্য থানার কাছে কোনো বরাদ্দ থাকেনা। শেষ পর্যন্ত কর্মকর্তারাই নিজেদের মধ্যে টাকা তুলে খরচ সামলান। বা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের উপর আয়োজনের বিভিন্ন সামগ্রী যোগানের অনুরোধ বা চাপ এসে পড়ে। 

পুলিশ কর্মকর্তাদের অভিযোগ, তদন্ত ব্যয়ের সরকারি হার বাস্তবতার সঙ্গে একেবারেই সঙ্গতিপূর্ণ নয়। হত্যা মামলায় সর্বোচ্চ ৬ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকলেও প্রকৃত ব্যয় অনেক সময় ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত পৌঁছে যায়। অপহরণ মামলায় ভুক্তভোগী উদ্ধারে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। অথচ বিল মেলে তার সামান্য অংশ।

একই অবস্থা মানি লন্ডারিং মামলার ক্ষেত্রেও। সরকারি বরাদ্দ ৩ হাজার টাকা হলেও তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বাস্তবে খরচ দাঁড়ায় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকায়। তথ্যপ্রযুক্তি, সন্ত্রাসবিরোধী, অস্ত্র কিংবা নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলাগুলোতেও বরাদ্দের চেয়ে বহু গুণ বেশি ব্যয় হয়। অতিরিক্ত টাকা জোগাড়ের দায় গিয়ে পড়ে তদন্ত কর্মকর্তার ওপরই। এমন বাস্তবতায় বাধ্য হয়েই তাদেরকে নিয়ম বহির্ভূত কাজে জড়াতে বাধ্য করে। 

নামি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে পুলিশের চাকরিতে যোগ দেওয়া এক এসআই বলেন, শুরুতে তিনি সততার সঙ্গে কাজ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বিভাগীয় বাস্তবতা তাকে ধীরে ধীরে বদলে দিয়েছে। তার ভাষায়, “সিস্টেমের ভেতরে ঢোকার পর বুঝেছি, শুধু নিয়ম মেনে চললে টিকে থাকা কঠিন।”

অভিযোগ আছে, থানাগুলোতে প্রয়োজনীয় যানবাহনেরও তীব্র সংকট রয়েছে। অনেক সময় অভিযানে যেতে গিয়েও কর্মকর্তাদের নিজ দায়িত্বে গাড়ি ঠিক করতে হয়। মানিকগঞ্জের এক কর্মকর্তা জানান, রাতে কয়েকটি টহল টিম মাঠে থাকলেও পর্যাপ্ত গাড়ি না থাকায় বেশিরভাগ সময় ভাড়ায় বা ব্যক্তিগত যোগাযোগে যানবাহন জোগাড় করতে হয়।

সোর্স পরিচালনার ক্ষেত্রেও একই ভোগান্তি। অপরাধী শনাক্তে তথ্যদাতাদের নিয়মিত টাকা দিতে হলেও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা অভিযোগ করছেন, বরাদ্দকৃত সোর্স মানি তারা হাতে পান না। অনেকের দাবি, এই অর্থ ওপরের স্তরেই আটকে যায়। ফলে নিজের টাকায় সোর্স চালাতে গিয়ে অনেকে পরে অবৈধ আয়ের পথেও জড়িয়ে পড়েন।

পুলিশের অভ্যন্তরে পদায়ন নিয়েও রয়েছে বিস্তর আলোচনা। গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকতে বা পছন্দের জায়গায় বদলি পেতে বড় অঙ্কের লেনদেনের অভিযোগ বহুদিনের। ওসি, এসআই থেকে শুরু করে কনস্টেবল পর্যায়েও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চাকরিতে ঢুকতেই যদি লাখ লাখ টাকা খরচ হয়, তাহলে পরে সেই অর্থ তুলতে গিয়ে অনেকেই দুর্নীতির দিকে ঝুঁকে পড়েন।

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক আব্দুল কাইয়ুম মনে করেন, আর্থিক সংকট দূর না করলে বাহিনীর ভেতরে সততা ধরে রাখা কঠিন হবে। তার মতে, তদন্ত কর্মকর্তাদের বাস্তব ব্যয় অনুযায়ী বরাদ্দ দেওয়া প্রয়োজন, যাতে কাউকে নিজের পকেট থেকে টাকা খরচ করতে না হয়।

এদিকে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, পুলিশের সেবাদান কাঠামোয় দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিত বিনিয়োগের অভাব রয়েছে। পর্যাপ্ত অবকাঠামো ও সহায়তা না থাকায় অনেক ক্ষেত্রেই সদস্যরা অনিয়মের দিকে ঠেলে যাচ্ছেন।

পরিসংখ্যানও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, পুলিশি সেবা নিতে গিয়ে ঘুষ দিতে হয়েছে এমন মানুষের হার ৬২ শতাংশের কাছাকাছি। অন্যদিকে টিআইবির তথ্য বলছে, পুলিশের সেবা নিতে গিয়ে দুর্নীতির মুখোমুখি হয়েছেন ৭৪ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ।

নীতিনির্ধারকেরা এমন প্রান্তিক সমস্যা খুঁজে বের করে সমাধানের দিকে না এলে পুলিশের পক্ষে জনগনের বন্ধু হয়ে ওঠা অবাস্তব কল্পনাই রয়ে যাবে। 


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত