সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 খেলাখেলা

সিলেটে মুশফিকের রেকর্ড মহাকাব্য, জয়ের সুবাসে বাংলাদেশ

সিলেট টেস্টের তৃতীয় দিনে পাকিস্তানকে ৪৩৭ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য ছুড়ে দিয়ে ম্যাচের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিল বাংলাদেশ; ইতিহাস গড়ে জিততে হলে সফরকারীদের করতে হবে অসম্ভব এক রেকর্ড, চতুর্থ দিনে টাইগারদের প্রয়োজন ১০ উইকেট।

সিলেটে মুশফিকের রেকর্ড মহাকাব্য, জয়ের সুবাসে বাংলাদেশ
ছবি -সংগৃহীত

সিলেটের সবুজ ঘাসে পাকিস্তান বধের সুবাস পেতে শুরু করেছে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসের ৪৬ রানের লিডকে পুঁজি করে দ্বিতীয় ইনিংসে মুশফিকুর রহিমের মহাকাব্যিক ব্যাটিংয়ে ৩৯০ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করিয়েছে স্বাগতিকরা। ফলে সফরকারী পাকিস্তানের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়িয়েছে রেকর্ড ৪৩৭ রান। টেস্ট ক্রিকেটের ১৪৯ বছরের ইতিহাসে চতুর্থ ইনিংসে সর্বোচ্চ ৪১৮ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড রয়েছে। আর পাকিস্তানের নিজেদের সর্বোচ্চ রান তাড়া করার নজিরটি ৩৭৭ রানের। ফলে সিলেটে খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে থাকা বাবর আজমদের সামনে এখন অলৌকিক কিছু করে দেখানোর কঠিন চ্যালেঞ্জ। দিনের শেষভাগে লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান মাত্র ২ ওভার ব্যাটিং করার সুযোগ পায়। এরপরই আলোকস্বল্পতার কারণে আম্পায়াররা দিনের খেলা সমাপ্তি ঘোষণা করেন। কোনো রান না তুলেই মাঠ ছেড়েছেন দুই পাকিস্তানি ওপেনার।

অথচ তৃতীয় দিনের সকালটা বাংলাদেশের জন্য মোটেও স্বস্তির ছিল না। আগের দিনের অপরাজিত ব্যাটার তথা অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত দিনের শুরুতেই খুররম শাহজাদের ভেতরে ঢোকা বলে এলবিডাব্লুর ফাঁদে পড়েন। মাত্র ১৫ রান করে শান্ত যখন সাজঘরে ফেরেন, দলের স্কোর তখন ৪ উইকেটে ১১৬। ম্যাচ কিছুটা হেলে পড়ার মুহূর্তে দলের হাল ধরেন দুই অভিজ্ঞ সেনানি মুশফিকুর রহিম ও লিটন কুমার দাস। পঞ্চম উইকেটে এই দুই ব্যাটারের প্রতিরোধে লাঞ্চের আগেই চালকের আসনে বসে বাংলাদেশ। পাকিস্তানি বোলারদের লাইন-লেন্থ এলোমেলো করে দিয়ে ওয়ানডে মেজাজে রান তুলতে থাকেন তারা। খুররম শাহজাদকে দৃষ্টিনন্দন কাভার ড্রাইভে বাউন্ডারি মেরে ৬৭ বলে ক্যারিয়ারের ২০তম টেস্ট ফিফটি তুলে নেন লিটন।

ব্যক্তিগত ৫৫ রানে সাজিদ খানের বলে ফিরতি ক্যাচ দিয়েও অবশ্য ভাগ্যগুণে বেঁচে যান এই উইকেটকিপার ব্যাটার। তবে প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান লিটন এবার আর ইনিংসটি বড় করতে পারেননি, ৬৯ রান করে হাসান আলীর বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। লিটনের বিদায়ের পর মেহেদী হাসান মিরাজ ক্রিজে এসে দ্রুত কিছু রান তোলার চেষ্টা করলেও খুররমের চমৎকার এক আউটসুইংয়ে বোল্ড হয়ে যান। তবে অন্যপ্রান্তে অবিচল ছিলেন ‘মিস্টার ডিপেন্ডেবল’ মুশফিকুর রহিম। চা-বিরতির সময় ৯০ রানে অপরাজিত থাকা এই ব্যাটার বিরতি থেকে ফিরেই মোহাম্মদ আব্বাসকে চার মেরে পূর্ণ করেন ক্যারিয়ারের ১৪তম টেস্ট সেঞ্চুরি। এই কীর্তির মাধ্যমে তিনি মুমিনুল হককে টপকে টেস্টে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির একক মালিক বনে যান। একই দিনে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৬ হাজার রানের মহাজাগতিক মাইলফলকও স্পর্শ করেন এই নির্ভরযোগ্য ব্যাটার।

ইনিংসের শেষভাগে মুশফিককে দারুণ সঙ্গ দেন স্পিনার তাইজুল ইসলাম। সপ্তম উইকেটে তাদের গড়ে ওঠা ৭৭ রানের মূল্যবান জুটিটি মূলত পাকিস্তানকে ম্যাচ থেকে পুরোপুরি ছিটকে দেয়। তাইজুল ২২ রান করে বিদায় নেওয়ার পর তাসকিন আহমেদ ও শরীফুল ইসলাম দ্রুত রান তুলতে গিয়ে উইকেট বিলিয়ে আসেন। শেষ ব্যাটার হিসেবে আউট হওয়ার আগে মুশফিকের ব্যাট থেকে আসে ১৩৭ রানের এক অনন্য ও দায়িত্বশীল ইনিংস। পাকিস্তানের পক্ষে খুররম শাহজাদ ৮৬ রানে ৪টি এবং সাজিদ খান ৩টি উইকেট নেন। চতুর্থ দিনের প্রথম সেশনেই তাসকিন-শরীফুলদের বোলিং তোপে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয়ে যেতে পারে বলে আশা করছেন দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ: ২৭৮ ও ৩৯০ (মুশফিক ১৩৭, লিটন ৬৯, মাহমুদুল ৫২; খুররম ৪/৮৬, সাজিদ ৩/১২৬)

পাকিস্তান: ২৩২ ও ০/০ (২ ওভার)


বিষয় : বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তান টেস্ট মুশফিকুর রহিম সেঞ্চুরি কাল মহাকাল ক্রীড়া সংবাদ

সিলেটে মুশফিকের রেকর্ড মহাকাব্য, জয়ের সুবাসে বাংলাদেশ
0:00 0:00
1.0x
কাল মহাকাল

শনিবার, ৩০ মে ২০২৬


সিলেটে মুশফিকের রেকর্ড মহাকাব্য, জয়ের সুবাসে বাংলাদেশ

প্রকাশের তারিখ : ১৮ মে ২০২৬

featured Image

সিলেটের সবুজ ঘাসে পাকিস্তান বধের সুবাস পেতে শুরু করেছে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসের ৪৬ রানের লিডকে পুঁজি করে দ্বিতীয় ইনিংসে মুশফিকুর রহিমের মহাকাব্যিক ব্যাটিংয়ে ৩৯০ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করিয়েছে স্বাগতিকরা। ফলে সফরকারী পাকিস্তানের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়িয়েছে রেকর্ড ৪৩৭ রান। টেস্ট ক্রিকেটের ১৪৯ বছরের ইতিহাসে চতুর্থ ইনিংসে সর্বোচ্চ ৪১৮ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড রয়েছে। আর পাকিস্তানের নিজেদের সর্বোচ্চ রান তাড়া করার নজিরটি ৩৭৭ রানের। ফলে সিলেটে খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে থাকা বাবর আজমদের সামনে এখন অলৌকিক কিছু করে দেখানোর কঠিন চ্যালেঞ্জ। দিনের শেষভাগে লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান মাত্র ২ ওভার ব্যাটিং করার সুযোগ পায়। এরপরই আলোকস্বল্পতার কারণে আম্পায়াররা দিনের খেলা সমাপ্তি ঘোষণা করেন। কোনো রান না তুলেই মাঠ ছেড়েছেন দুই পাকিস্তানি ওপেনার।

অথচ তৃতীয় দিনের সকালটা বাংলাদেশের জন্য মোটেও স্বস্তির ছিল না। আগের দিনের অপরাজিত ব্যাটার তথা অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত দিনের শুরুতেই খুররম শাহজাদের ভেতরে ঢোকা বলে এলবিডাব্লুর ফাঁদে পড়েন। মাত্র ১৫ রান করে শান্ত যখন সাজঘরে ফেরেন, দলের স্কোর তখন ৪ উইকেটে ১১৬। ম্যাচ কিছুটা হেলে পড়ার মুহূর্তে দলের হাল ধরেন দুই অভিজ্ঞ সেনানি মুশফিকুর রহিম ও লিটন কুমার দাস। পঞ্চম উইকেটে এই দুই ব্যাটারের প্রতিরোধে লাঞ্চের আগেই চালকের আসনে বসে বাংলাদেশ। পাকিস্তানি বোলারদের লাইন-লেন্থ এলোমেলো করে দিয়ে ওয়ানডে মেজাজে রান তুলতে থাকেন তারা। খুররম শাহজাদকে দৃষ্টিনন্দন কাভার ড্রাইভে বাউন্ডারি মেরে ৬৭ বলে ক্যারিয়ারের ২০তম টেস্ট ফিফটি তুলে নেন লিটন।

ব্যক্তিগত ৫৫ রানে সাজিদ খানের বলে ফিরতি ক্যাচ দিয়েও অবশ্য ভাগ্যগুণে বেঁচে যান এই উইকেটকিপার ব্যাটার। তবে প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান লিটন এবার আর ইনিংসটি বড় করতে পারেননি, ৬৯ রান করে হাসান আলীর বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। লিটনের বিদায়ের পর মেহেদী হাসান মিরাজ ক্রিজে এসে দ্রুত কিছু রান তোলার চেষ্টা করলেও খুররমের চমৎকার এক আউটসুইংয়ে বোল্ড হয়ে যান। তবে অন্যপ্রান্তে অবিচল ছিলেন ‘মিস্টার ডিপেন্ডেবল’ মুশফিকুর রহিম। চা-বিরতির সময় ৯০ রানে অপরাজিত থাকা এই ব্যাটার বিরতি থেকে ফিরেই মোহাম্মদ আব্বাসকে চার মেরে পূর্ণ করেন ক্যারিয়ারের ১৪তম টেস্ট সেঞ্চুরি। এই কীর্তির মাধ্যমে তিনি মুমিনুল হককে টপকে টেস্টে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির একক মালিক বনে যান। একই দিনে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৬ হাজার রানের মহাজাগতিক মাইলফলকও স্পর্শ করেন এই নির্ভরযোগ্য ব্যাটার।

ইনিংসের শেষভাগে মুশফিককে দারুণ সঙ্গ দেন স্পিনার তাইজুল ইসলাম। সপ্তম উইকেটে তাদের গড়ে ওঠা ৭৭ রানের মূল্যবান জুটিটি মূলত পাকিস্তানকে ম্যাচ থেকে পুরোপুরি ছিটকে দেয়। তাইজুল ২২ রান করে বিদায় নেওয়ার পর তাসকিন আহমেদ ও শরীফুল ইসলাম দ্রুত রান তুলতে গিয়ে উইকেট বিলিয়ে আসেন। শেষ ব্যাটার হিসেবে আউট হওয়ার আগে মুশফিকের ব্যাট থেকে আসে ১৩৭ রানের এক অনন্য ও দায়িত্বশীল ইনিংস। পাকিস্তানের পক্ষে খুররম শাহজাদ ৮৬ রানে ৪টি এবং সাজিদ খান ৩টি উইকেট নেন। চতুর্থ দিনের প্রথম সেশনেই তাসকিন-শরীফুলদের বোলিং তোপে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয়ে যেতে পারে বলে আশা করছেন দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ: ২৭৮ ও ৩৯০ (মুশফিক ১৩৭, লিটন ৬৯, মাহমুদুল ৫২; খুররম ৪/৮৬, সাজিদ ৩/১২৬)

পাকিস্তান: ২৩২ ও ০/০ (২ ওভার)



কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত