জাতীয়
দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এখন থেকে নিম্নআয়ের মানুষের যাবতীয় চিকিৎসা ব্যয় রাষ্ট্র বহন করবে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। শনিবার (১৬ মে) চট্টগ্রাম মা ও শিশু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই তথ্য জানান। মন্ত্রী উল্লেখ করেন, আগামী বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হচ্ছে। সরকারি হাসপাতালের সীমাবদ্ধতা দূর করতে প্রয়োজনে বেসরকারি হাসপাতালগুলোর সাথে চুক্তি করা হবে এবং সেখানে দরিদ্র রোগীরা চিকিৎসা নিলে সেই বিল সরাসরি সরকার পরিশোধ করবে।
মেডিকেল শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং স্বাস্থ্য খাতের অবকাঠামোগত সুশাসনের ওপর বিশেষ জোর দিয়ে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক প্রভাবে অতীতে বহু প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়েছে। চিকিৎসাসেবা ও শিক্ষার মান বজায় রাখতে মেধা ছাড়া কাউকেই মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা যাবে না। পর্যাপ্ত শিক্ষক, মানসম্মত ফ্যাকাল্টি এবং উপযুক্ত অবকাঠামো নিশ্চিত না করে মেডিকেল কলেজগুলোতে আসন সংখ্যা বাড়ানোর আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি। একই সাথে, অতীতে স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতির মাধ্যমে হওয়া বিপুল অর্থের অপচয় রোধ করে বরাদ্দকৃত বাজেটের শতভাগ সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার তাগিদ দেন মন্ত্রী।
চিকিৎসা প্রযুক্তির আধুনিকায়নের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান যুগ সম্পূর্ণ প্রযুক্তিনির্ভর। তাই মেডিকেল শিক্ষার্থীদের জন্য মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, ডিজিটাল লাইব্রেরি ও আধুনিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। দেশে দক্ষ মেডিকেল টেকনোলজিস্টের তীব্র সংকটের কারণে কোটি কোটি টাকার চিকিৎসা সরঞ্জাম অব্যবহৃত পড়ে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি দেশে দ্রুত ‘মেডিকেল টেকনোলজি ইনস্টিটিউট’ প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির এক নির্মম বাস্তব চিত্র তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা একটি চরম ঋণাত্মক অর্থনৈতিক অবস্থা থেকে উত্তরণের চেষ্টা করছি। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি ও গ্যাস আমদানিতে সরকারকে অতিরিক্ত প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে হয়েছে। এর পাশাপাশি আগের সরকারের রেখে যাওয়া বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার বিশাল বকেয়া ঋণও বর্তমান সরকারকে পরিশোধ করতে হচ্ছে। এই জোড়া ধাক্কা সামলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে এবং স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে অন্তত আরও দুই বছর সময় লাগবে বলে স্পষ্ট জানান আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
2.png)
শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ মে ২০২৬
দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এখন থেকে নিম্নআয়ের মানুষের যাবতীয় চিকিৎসা ব্যয় রাষ্ট্র বহন করবে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। শনিবার (১৬ মে) চট্টগ্রাম মা ও শিশু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই তথ্য জানান। মন্ত্রী উল্লেখ করেন, আগামী বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হচ্ছে। সরকারি হাসপাতালের সীমাবদ্ধতা দূর করতে প্রয়োজনে বেসরকারি হাসপাতালগুলোর সাথে চুক্তি করা হবে এবং সেখানে দরিদ্র রোগীরা চিকিৎসা নিলে সেই বিল সরাসরি সরকার পরিশোধ করবে।
মেডিকেল শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং স্বাস্থ্য খাতের অবকাঠামোগত সুশাসনের ওপর বিশেষ জোর দিয়ে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক প্রভাবে অতীতে বহু প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়েছে। চিকিৎসাসেবা ও শিক্ষার মান বজায় রাখতে মেধা ছাড়া কাউকেই মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা যাবে না। পর্যাপ্ত শিক্ষক, মানসম্মত ফ্যাকাল্টি এবং উপযুক্ত অবকাঠামো নিশ্চিত না করে মেডিকেল কলেজগুলোতে আসন সংখ্যা বাড়ানোর আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি। একই সাথে, অতীতে স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতির মাধ্যমে হওয়া বিপুল অর্থের অপচয় রোধ করে বরাদ্দকৃত বাজেটের শতভাগ সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার তাগিদ দেন মন্ত্রী।
চিকিৎসা প্রযুক্তির আধুনিকায়নের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান যুগ সম্পূর্ণ প্রযুক্তিনির্ভর। তাই মেডিকেল শিক্ষার্থীদের জন্য মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, ডিজিটাল লাইব্রেরি ও আধুনিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। দেশে দক্ষ মেডিকেল টেকনোলজিস্টের তীব্র সংকটের কারণে কোটি কোটি টাকার চিকিৎসা সরঞ্জাম অব্যবহৃত পড়ে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি দেশে দ্রুত ‘মেডিকেল টেকনোলজি ইনস্টিটিউট’ প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির এক নির্মম বাস্তব চিত্র তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা একটি চরম ঋণাত্মক অর্থনৈতিক অবস্থা থেকে উত্তরণের চেষ্টা করছি। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি ও গ্যাস আমদানিতে সরকারকে অতিরিক্ত প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে হয়েছে। এর পাশাপাশি আগের সরকারের রেখে যাওয়া বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার বিশাল বকেয়া ঋণও বর্তমান সরকারকে পরিশোধ করতে হচ্ছে। এই জোড়া ধাক্কা সামলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে এবং স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে অন্তত আরও দুই বছর সময় লাগবে বলে স্পষ্ট জানান আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
2.png)