জাতীয়
পুঁজিবাজারে আড়াইশো কোটি টাকারও বেশি অর্থ আত্মসাৎ ও কারসাজির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসানসহ ১৫ আসামির নথিপত্র জব্দ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অপরাধের তথ্যপ্রমাণ যাচাইয়ের অংশ হিসেবে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) থেকে এই নথিপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, এই আলোচিত মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২০ মে ২০২৬ তারিখ ধার্য রয়েছে। এর আগে তদন্তকারী সংস্থা দুদক সুনির্দিষ্ট প্রমাণ সংগ্রহের জন্য বিএসইসির কাছে আসামিদের বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স) অ্যাকাউন্ট, সন্দেহজনক লেনদেন ও ওটিসি মার্কেটের শেয়ার ক্রয়ের নথিপত্র তলব করে।
মামলার মূল অভিযোগ ও অর্থ আত্মসাৎ
দুদকের মামলার এজাহার অনুযায়ী, প্রধান আসামি সমবায় অধিদপ্তরের উপনিবন্ধক মো. আবুল খায়ের (ওরফে হিরু) এবং সাকিব আল হাসানসহ অন্য আসামিরা একটি সুসংগঠিত চক্র গড়ে তোলেন। তারা নিজেদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিও অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে সম্পূর্ণ অবৈধ ও অনৈতিক উপায়ে ফাটকা বাজার তৈরি করেন। নির্দিষ্ট কিছু শেয়ারের কৃত্রিম সংকট ও ভুয়া চাহিদা তৈরি করে দাম বাড়ানো হতো, যা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের প্রলুব্ধ করত। পরবর্তীতে চড়া দামে শেয়ার বিক্রি করে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলে এই চক্রটি ২৫৬ কোটি ৯৭ লাখ ৭০ হাজার ৩০৪ টাকা আত্মসাৎ করে।
তদন্তে দেখা গেছে, মূল কারসাজিটি হয়েছে তিনটি নির্দিষ্ট কোম্পানির শেয়ার ঘিরে:
প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড
ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড
সোনালী পেপারস লিমিটেড
দুদক সূত্রে জানা গেছে, কেবল আবুল খায়ের হিরুর নামে থাকা ১৭টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৫৪২ কোটি ৩১ লাখ টাকার অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে। এর মধ্যে ২৯ কোটি ৯৪ লাখ টাকা তিনি তার স্ত্রীর সহায়তায় মানি লন্ডারিং বা পাচার করেছেন। অন্যদিকে, সাকিব আল হাসান এই কারসাজির মাধ্যমে ২ কোটি ৯৫ লাখ টাকা 'রিয়ালাইজড ক্যাপিটাল গেইন' বা মূলধনী লাভ হিসেবে আত্মসাৎ করেছেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযুক্ত ১৫ আসামির তালিকা
মামলায় সাকিব আল হাসান ছাড়াও শেয়ারবাজারের আলোচিত বিনিয়োগকারী ও সরকারি কর্মকর্তা আবুল খায়ের হিরু এবং সাকিবের মাকে আসামি করা হয়েছে। মামলার আসামিরা হলেন:
১. সাকিব আল হাসান (সাবেক অধিনায়ক ও সাবেক এমপি)
২. মো. আবুল খায়ের হিরু (উপনিবন্ধক, সমবায় অধিদপ্তর)
৩. কাজী সাদিয়া হাসান (আবুল খায়ের হিরুর স্ত্রী)
৪. শিরিন আক্তার (সাকিব আল হাসানের মা)
৫. আবুল কালাম মাদবর
৬. কনিকা আফরোজ
৭. মোহাম্মদ বাশার
৮. সাজেদ মাদবর
৯. আলেয়া বেগম
১০. কাজী ফুয়াদ হাসান
১১. কাজী ফরিদ হাসান
১২. জাভেদ এ মতিন
১৩. জাহেদ কামাল
১৪. হুমায়ূন কবির
১৫. তানভীর নিজাম
উল্লেখ্য, এই কারসাজির অভিযোগে ইতিপূর্বেই বিএসইসি কর্তৃক সাকিব আল হাসানকে ৫০ লাখ টাকা এবং আবুল খায়ের হিরুকে ২৫ লাখ টাকাসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে মোটা অঙ্কের জরিমানা করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে অপরাধের গভীরতা বিবেচনা করে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেন বাদী হয়ে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ও দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় এই ফৌজদারি মামলাটি দায়ের করেন। মামলার পর আদালত থেকে আসামিদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
দুদকের আদালত প্রসিকিউশন বিভাগের তথ্যমতে, বিএসইসি থেকে সংগৃহীত বিপুল পরিমাণ নথি, বিএফআইইউ-এর ফ্রিজ করা ব্যাংক হিসাবের ডাটা এবং ডিজিটাল আলামত বিশ্লেষণের জন্য তদন্ত সংস্থাকে আদালত সময় বাড়িয়ে দিয়েছিল। আগামী ২০ মে এই মামলার তদন্তের অগ্রগতি বা চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।
বিষয় : সাকিব আল হাসান শেয়ার কেলেংকারী দুদুক
2.png)
শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ মে ২০২৬
পুঁজিবাজারে আড়াইশো কোটি টাকারও বেশি অর্থ আত্মসাৎ ও কারসাজির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসানসহ ১৫ আসামির নথিপত্র জব্দ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অপরাধের তথ্যপ্রমাণ যাচাইয়ের অংশ হিসেবে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) থেকে এই নথিপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, এই আলোচিত মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২০ মে ২০২৬ তারিখ ধার্য রয়েছে। এর আগে তদন্তকারী সংস্থা দুদক সুনির্দিষ্ট প্রমাণ সংগ্রহের জন্য বিএসইসির কাছে আসামিদের বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স) অ্যাকাউন্ট, সন্দেহজনক লেনদেন ও ওটিসি মার্কেটের শেয়ার ক্রয়ের নথিপত্র তলব করে।
মামলার মূল অভিযোগ ও অর্থ আত্মসাৎ
দুদকের মামলার এজাহার অনুযায়ী, প্রধান আসামি সমবায় অধিদপ্তরের উপনিবন্ধক মো. আবুল খায়ের (ওরফে হিরু) এবং সাকিব আল হাসানসহ অন্য আসামিরা একটি সুসংগঠিত চক্র গড়ে তোলেন। তারা নিজেদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিও অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে সম্পূর্ণ অবৈধ ও অনৈতিক উপায়ে ফাটকা বাজার তৈরি করেন। নির্দিষ্ট কিছু শেয়ারের কৃত্রিম সংকট ও ভুয়া চাহিদা তৈরি করে দাম বাড়ানো হতো, যা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের প্রলুব্ধ করত। পরবর্তীতে চড়া দামে শেয়ার বিক্রি করে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলে এই চক্রটি ২৫৬ কোটি ৯৭ লাখ ৭০ হাজার ৩০৪ টাকা আত্মসাৎ করে।
তদন্তে দেখা গেছে, মূল কারসাজিটি হয়েছে তিনটি নির্দিষ্ট কোম্পানির শেয়ার ঘিরে:
প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড
ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড
সোনালী পেপারস লিমিটেড
দুদক সূত্রে জানা গেছে, কেবল আবুল খায়ের হিরুর নামে থাকা ১৭টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৫৪২ কোটি ৩১ লাখ টাকার অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে। এর মধ্যে ২৯ কোটি ৯৪ লাখ টাকা তিনি তার স্ত্রীর সহায়তায় মানি লন্ডারিং বা পাচার করেছেন। অন্যদিকে, সাকিব আল হাসান এই কারসাজির মাধ্যমে ২ কোটি ৯৫ লাখ টাকা 'রিয়ালাইজড ক্যাপিটাল গেইন' বা মূলধনী লাভ হিসেবে আত্মসাৎ করেছেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযুক্ত ১৫ আসামির তালিকা
মামলায় সাকিব আল হাসান ছাড়াও শেয়ারবাজারের আলোচিত বিনিয়োগকারী ও সরকারি কর্মকর্তা আবুল খায়ের হিরু এবং সাকিবের মাকে আসামি করা হয়েছে। মামলার আসামিরা হলেন:
১. সাকিব আল হাসান (সাবেক অধিনায়ক ও সাবেক এমপি)
২. মো. আবুল খায়ের হিরু (উপনিবন্ধক, সমবায় অধিদপ্তর)
৩. কাজী সাদিয়া হাসান (আবুল খায়ের হিরুর স্ত্রী)
৪. শিরিন আক্তার (সাকিব আল হাসানের মা)
৫. আবুল কালাম মাদবর
৬. কনিকা আফরোজ
৭. মোহাম্মদ বাশার
৮. সাজেদ মাদবর
৯. আলেয়া বেগম
১০. কাজী ফুয়াদ হাসান
১১. কাজী ফরিদ হাসান
১২. জাভেদ এ মতিন
১৩. জাহেদ কামাল
১৪. হুমায়ূন কবির
১৫. তানভীর নিজাম
উল্লেখ্য, এই কারসাজির অভিযোগে ইতিপূর্বেই বিএসইসি কর্তৃক সাকিব আল হাসানকে ৫০ লাখ টাকা এবং আবুল খায়ের হিরুকে ২৫ লাখ টাকাসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে মোটা অঙ্কের জরিমানা করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে অপরাধের গভীরতা বিবেচনা করে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেন বাদী হয়ে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ও দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় এই ফৌজদারি মামলাটি দায়ের করেন। মামলার পর আদালত থেকে আসামিদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
দুদকের আদালত প্রসিকিউশন বিভাগের তথ্যমতে, বিএসইসি থেকে সংগৃহীত বিপুল পরিমাণ নথি, বিএফআইইউ-এর ফ্রিজ করা ব্যাংক হিসাবের ডাটা এবং ডিজিটাল আলামত বিশ্লেষণের জন্য তদন্ত সংস্থাকে আদালত সময় বাড়িয়ে দিয়েছিল। আগামী ২০ মে এই মামলার তদন্তের অগ্রগতি বা চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।
2.png)