আন্তর্জাতিক
বেইজিংয়ের ঝংনানহাই কমপ্লেক্সের সুগন্ধি গোলাপ আর লালগালিচার রাজকীয় সংবর্ধনায় মনে হচ্ছিল যেন বিশ্ব রাজনীতির দুই প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী সব তিতা ভুলে পুরনো বন্ধু হয়ে উঠেছেন। গত এক দশকের মধ্যে প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেইজিং সফর ঘিরে যে জাঁকজমক দেখা গেল, তা আধুনিক কূটনীতির ইতিহাসে এক বিরল ঘটনা। কিন্তু বেইজিংয়ের সেই বর্ণিল ভোজসভা আর হাসিমুখের আড়ালে ওয়াশিংটন ও বেইজিং আসলে কার ঝুলিতে কী ভরল—এখন সেটিই হয়ে উঠেছে বৈশ্বিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
সফরজুড়ে প্রেসিডেন্ট শি চিন পিং ট্রাম্পের প্রতি যে আতিথেয়তা দেখিয়েছেন, তাতে মুগ্ধ খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্টও। মদ্যপানে অভ্যস্ত না হয়েও সির অনুরোধে ভোজসভায় চুমুক দিয়েছেন পানীয়তে। কিন্তু এই শিষ্টাচারের আড়ালে আসল লড়াইটা ছিল তাইওয়ান আর ইরান ইস্যুতে। তাইওয়ান প্রশ্নে শি চিন পিং তাঁর ‘রেড লাইন’ বা অলঙ্ঘনীয় সীমানার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এখানে ভুল সিদ্ধান্ত যুদ্ধের আগুন জ্বালিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে ট্রাম্প তাঁর চিরচেনা ‘কৌশলগত অস্পষ্টতা’ নীতি ধরে রেখে কোনো পক্ষকেই কথা দেননি। তিনি স্পষ্ট করেছেন, ৯ হাজার মাইল দূরে গিয়ে তিনি কোনো যুদ্ধে জড়াতে চান না, বরং পরিস্থিতি শান্ত রাখতেই তাঁর আগ্রহ বেশি।
ইরান সংকট নিরসনে ট্রাম্প নিজেকে কূটনৈতিকভাবে সফল দাবি করলেও বেইজিংয়ের ভাষ্য কিছুটা ভিন্ন। হোয়াইট হাউস দাবি করছে, বেইজিং হরমুজ প্রণালিকে অসামরিকীকরণের পক্ষে এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল আমদানিতে আগ্রহী। তবে চীনের রাষ্ট্রীয় বিবৃতিতে এ নিয়ে রহস্যময় নীরবতা বজায় রাখা হয়েছে। ওদিকে বাণিজ্যযুদ্ধের দামামা আপাতত নভেম্বর পর্যন্ত স্থগিত থাকলেও ট্রাম্পের দাবি করা ২০০টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার চুক্তিতেও রয়ে গেছে অস্পষ্টতা। বোয়িং কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত এই বিশাল অর্ডারের খবর নিশ্চিত করেনি, যা ট্রাম্পের দাবিকে কিছুটা প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
সফরের প্রাপ্তি নিয়ে যতোই বিতর্ক থাকুক, একটি বিষয় স্পষ্ট যে দুই দেশই আপাতত বড় কোনো সংঘাতে জড়াতে চাইছে না। মাদক ফেন্টানিল নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে বিরল খনিজের সরবরাহ—অমিল অনেক থাকলেও সম্পর্কের সুতোটি ছিঁড়ে যেতে দেননি দুই নেতা। এই সফরের সবচেয়ে বড় অর্জন সম্ভবত আগামী সেপ্টেম্বরে শি চিন পিংয়ের ওয়াশিংটন সফরের আমন্ত্রণ গ্রহণ করা। ২০১৫ সালের পর এটিই হবে সির প্রথম হোয়াইট হাউস সফর। বিশ্লেষকদের মতে, বেইজিংয়ের এই সফর হয়তো কোনো চূড়ান্ত সমাধান দেয়নি, তবে দুই পরাশক্তির মধ্যে আলোচনার যে দরজাটি খুলেছে, তা আপাতত বিশ্বাবাসীকে বড় কোনো সংঘাতের আশঙ্কা থেকে কিছুটা হলেও স্বস্তি দিচ্ছে।
বিষয় : ডোনাল্ড ট্রাম্প শি চিন পিং
2.png)
শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ মে ২০২৬
বেইজিংয়ের ঝংনানহাই কমপ্লেক্সের সুগন্ধি গোলাপ আর লালগালিচার রাজকীয় সংবর্ধনায় মনে হচ্ছিল যেন বিশ্ব রাজনীতির দুই প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী সব তিতা ভুলে পুরনো বন্ধু হয়ে উঠেছেন। গত এক দশকের মধ্যে প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেইজিং সফর ঘিরে যে জাঁকজমক দেখা গেল, তা আধুনিক কূটনীতির ইতিহাসে এক বিরল ঘটনা। কিন্তু বেইজিংয়ের সেই বর্ণিল ভোজসভা আর হাসিমুখের আড়ালে ওয়াশিংটন ও বেইজিং আসলে কার ঝুলিতে কী ভরল—এখন সেটিই হয়ে উঠেছে বৈশ্বিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
সফরজুড়ে প্রেসিডেন্ট শি চিন পিং ট্রাম্পের প্রতি যে আতিথেয়তা দেখিয়েছেন, তাতে মুগ্ধ খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্টও। মদ্যপানে অভ্যস্ত না হয়েও সির অনুরোধে ভোজসভায় চুমুক দিয়েছেন পানীয়তে। কিন্তু এই শিষ্টাচারের আড়ালে আসল লড়াইটা ছিল তাইওয়ান আর ইরান ইস্যুতে। তাইওয়ান প্রশ্নে শি চিন পিং তাঁর ‘রেড লাইন’ বা অলঙ্ঘনীয় সীমানার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এখানে ভুল সিদ্ধান্ত যুদ্ধের আগুন জ্বালিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে ট্রাম্প তাঁর চিরচেনা ‘কৌশলগত অস্পষ্টতা’ নীতি ধরে রেখে কোনো পক্ষকেই কথা দেননি। তিনি স্পষ্ট করেছেন, ৯ হাজার মাইল দূরে গিয়ে তিনি কোনো যুদ্ধে জড়াতে চান না, বরং পরিস্থিতি শান্ত রাখতেই তাঁর আগ্রহ বেশি।
ইরান সংকট নিরসনে ট্রাম্প নিজেকে কূটনৈতিকভাবে সফল দাবি করলেও বেইজিংয়ের ভাষ্য কিছুটা ভিন্ন। হোয়াইট হাউস দাবি করছে, বেইজিং হরমুজ প্রণালিকে অসামরিকীকরণের পক্ষে এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল আমদানিতে আগ্রহী। তবে চীনের রাষ্ট্রীয় বিবৃতিতে এ নিয়ে রহস্যময় নীরবতা বজায় রাখা হয়েছে। ওদিকে বাণিজ্যযুদ্ধের দামামা আপাতত নভেম্বর পর্যন্ত স্থগিত থাকলেও ট্রাম্পের দাবি করা ২০০টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার চুক্তিতেও রয়ে গেছে অস্পষ্টতা। বোয়িং কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত এই বিশাল অর্ডারের খবর নিশ্চিত করেনি, যা ট্রাম্পের দাবিকে কিছুটা প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
সফরের প্রাপ্তি নিয়ে যতোই বিতর্ক থাকুক, একটি বিষয় স্পষ্ট যে দুই দেশই আপাতত বড় কোনো সংঘাতে জড়াতে চাইছে না। মাদক ফেন্টানিল নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে বিরল খনিজের সরবরাহ—অমিল অনেক থাকলেও সম্পর্কের সুতোটি ছিঁড়ে যেতে দেননি দুই নেতা। এই সফরের সবচেয়ে বড় অর্জন সম্ভবত আগামী সেপ্টেম্বরে শি চিন পিংয়ের ওয়াশিংটন সফরের আমন্ত্রণ গ্রহণ করা। ২০১৫ সালের পর এটিই হবে সির প্রথম হোয়াইট হাউস সফর। বিশ্লেষকদের মতে, বেইজিংয়ের এই সফর হয়তো কোনো চূড়ান্ত সমাধান দেয়নি, তবে দুই পরাশক্তির মধ্যে আলোচনার যে দরজাটি খুলেছে, তা আপাতত বিশ্বাবাসীকে বড় কোনো সংঘাতের আশঙ্কা থেকে কিছুটা হলেও স্বস্তি দিচ্ছে।
2.png)