খেলা
সিলেট টেস্টের প্রথম দিনেই চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছিল বাংলাদেশ। পাকিস্তানি বোলারদের তোপ আর টপ-অর্ডারের দায়িত্বহীনতায় একপর্যায়ে মাত্র ১১৬ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে বসে স্বাগতিকেরা। তবে সেই ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে ‘একলা চলো রে’ নীতিতে এক অনবদ্য মহাকাব্য লিখলেন লিটন দাস। লেজের সারির ব্যাটসম্যানদের আগলে রেখে ওয়ানডে মেজাজে তুলে নিলেন টেস্ট ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরি। লিটনের ১২৬ রানের এই ‘মাস্টারক্লাস’ ইনিংসে ভর করেই প্রথম ইনিংসে ২৭৮ রানের লড়াই করার মতো পুজি পেয়েছে বাংলাদেশ। জবাবে দিনের শেষভাগে নিজেদের প্রথম ইনিংসে কোনো উইকেট না হারিয়ে ২১ রান তুলেছে পাকিস্তান।
লিটন যখন উইকেটে আসেন, তখন বাংলাদেশের স্কোর ১০৬/৪। এরপর দ্রুতই আরও দুটি উইকেট পড়ে গেলে স্কোর দাঁড়ায় ১১৬/৬। উইকেটে তখন অষ্টম ব্যাটসম্যান হিসেবে আসেন তাইজুল ইসলাম, অন্যদিকে লিটনের ব্যক্তিগত রান তখন মাত্র ২। এই চরম চাপের মুখে লিটন সম্পূর্ণ ভিন্ন এক রণকৌশল বেছে নেন। টেল-এন্ডারদের স্ট্রাইক থেকে বাঁচাতে ওভারের শুরুর বলগুলোতে তিনি সিঙ্গেল নেওয়া থেকে বিরত থাকেন এবং পঞ্চম বা ষষ্ঠ বলে সিঙ্গেল নিয়ে নিজের স্ট্রাইক ধরে রাখেন।
২০২৪ সালে রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তানের বিপক্ষেই ২৬ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর ১৩৮ রানের এক ম্যাচ বাঁচানো ইনিংস খেলেছিলেন লিটন, তবে সেদিন পাশে ছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। আজ সিলেটে মিরাজ (০) দ্রুত ফিরলেও লিটনকে দারুণ সঙ্গ দিয়েছেন তাইজুল, তাসকিন ও শরীফুল।
সপ্তম উইকেট জুটিতে তাইজুলকে (১৬) সাথে নিয়ে যোগ করেন ৬০ রান।
নবম উইকেট জুটিতে শরীফুলের সাথে আসে গুরুত্বপূর্ণ ৬৪ রান।
শেষ পর্যন্ত ১৫৯ বলে ১২৬ রান করে হাসান আলীর বলে পুল করতে গিয়ে আবদুল্লাহ ফজলের হাতে ক্যাচ দিয়ে নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হন লিটন।
টসে হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে ম্যাচের দ্বিতীয় বলেই খাতা খোলার আগে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয়। এরপর অভিষিক্ত তানজিদ হাসান তামিম (২৬) ও মুমিনুল হক (২২) ইতিবাচক শুরু করলেও প্রথম সেশনেই বিলিয়ে আসেন নিজেদের উইকেট।
দ্বিতীয় সেশনে পাকিস্তানের দাপট আরও বাড়ে। মাত্র ১৫ রান তুলতে বাংলাদেশ হারিয়ে ফেলে নাজমুল হোসেন শান্ত (২৯), মুশফিকুর রহিম (২৩) ও মিরাজকে। থিতু হয়েও ইনিংস বড় করতে না পারার আফসোসে পুড়তে হয়েছে শান্ত ও মুশফিক দু দুজনকেই। পাকিস্তানের পক্ষে ডানহাতি পেসার খুররম শেহজাদ ৮১ রানে ৪টি এবং মোহাম্মদ আব্বাস ৪৫ রানে ৩টি উইকেট নেন।
প্রথম ইনিংস শেষ হওয়ার পর দিনের বাকি থাকা ৬ ওভার নিরাপদে পার করে দিয়েছেন পাকিস্তানের দুই ওপেনার আজান আওয়াইস ও আবদুল্লাহ ফজল। আজান ১৩ এবং আবদুল্লাহ ৮ রান নিয়ে অপরাজিত আছেন। বাংলাদেশের বোলাররা শেষ বিকেলে কোনো উইকেট তুলে নিতে পারেননি।
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ২৭৮/১০ (৭৭ ওভার); লিটন ১২৬, নাজমুল ২৯, তানজিদ ২৬, মুশফিক ২৩, মুমিনুল ২২। (খুররম ৪/৮১, আব্বাস ৩/৪৫, হাসান ২/৪৯)।
পাকিস্তান ১ম ইনিংস: ২১/০ (৬ ওভার); আওয়াইস ১৩*, ফজল ৮*।
2.png)
শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ মে ২০২৬
সিলেট টেস্টের প্রথম দিনেই চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছিল বাংলাদেশ। পাকিস্তানি বোলারদের তোপ আর টপ-অর্ডারের দায়িত্বহীনতায় একপর্যায়ে মাত্র ১১৬ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে বসে স্বাগতিকেরা। তবে সেই ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে ‘একলা চলো রে’ নীতিতে এক অনবদ্য মহাকাব্য লিখলেন লিটন দাস। লেজের সারির ব্যাটসম্যানদের আগলে রেখে ওয়ানডে মেজাজে তুলে নিলেন টেস্ট ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরি। লিটনের ১২৬ রানের এই ‘মাস্টারক্লাস’ ইনিংসে ভর করেই প্রথম ইনিংসে ২৭৮ রানের লড়াই করার মতো পুজি পেয়েছে বাংলাদেশ। জবাবে দিনের শেষভাগে নিজেদের প্রথম ইনিংসে কোনো উইকেট না হারিয়ে ২১ রান তুলেছে পাকিস্তান।
লিটন যখন উইকেটে আসেন, তখন বাংলাদেশের স্কোর ১০৬/৪। এরপর দ্রুতই আরও দুটি উইকেট পড়ে গেলে স্কোর দাঁড়ায় ১১৬/৬। উইকেটে তখন অষ্টম ব্যাটসম্যান হিসেবে আসেন তাইজুল ইসলাম, অন্যদিকে লিটনের ব্যক্তিগত রান তখন মাত্র ২। এই চরম চাপের মুখে লিটন সম্পূর্ণ ভিন্ন এক রণকৌশল বেছে নেন। টেল-এন্ডারদের স্ট্রাইক থেকে বাঁচাতে ওভারের শুরুর বলগুলোতে তিনি সিঙ্গেল নেওয়া থেকে বিরত থাকেন এবং পঞ্চম বা ষষ্ঠ বলে সিঙ্গেল নিয়ে নিজের স্ট্রাইক ধরে রাখেন।
২০২৪ সালে রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তানের বিপক্ষেই ২৬ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর ১৩৮ রানের এক ম্যাচ বাঁচানো ইনিংস খেলেছিলেন লিটন, তবে সেদিন পাশে ছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। আজ সিলেটে মিরাজ (০) দ্রুত ফিরলেও লিটনকে দারুণ সঙ্গ দিয়েছেন তাইজুল, তাসকিন ও শরীফুল।
সপ্তম উইকেট জুটিতে তাইজুলকে (১৬) সাথে নিয়ে যোগ করেন ৬০ রান।
নবম উইকেট জুটিতে শরীফুলের সাথে আসে গুরুত্বপূর্ণ ৬৪ রান।
শেষ পর্যন্ত ১৫৯ বলে ১২৬ রান করে হাসান আলীর বলে পুল করতে গিয়ে আবদুল্লাহ ফজলের হাতে ক্যাচ দিয়ে নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হন লিটন।
টসে হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে ম্যাচের দ্বিতীয় বলেই খাতা খোলার আগে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয়। এরপর অভিষিক্ত তানজিদ হাসান তামিম (২৬) ও মুমিনুল হক (২২) ইতিবাচক শুরু করলেও প্রথম সেশনেই বিলিয়ে আসেন নিজেদের উইকেট।
দ্বিতীয় সেশনে পাকিস্তানের দাপট আরও বাড়ে। মাত্র ১৫ রান তুলতে বাংলাদেশ হারিয়ে ফেলে নাজমুল হোসেন শান্ত (২৯), মুশফিকুর রহিম (২৩) ও মিরাজকে। থিতু হয়েও ইনিংস বড় করতে না পারার আফসোসে পুড়তে হয়েছে শান্ত ও মুশফিক দু দুজনকেই। পাকিস্তানের পক্ষে ডানহাতি পেসার খুররম শেহজাদ ৮১ রানে ৪টি এবং মোহাম্মদ আব্বাস ৪৫ রানে ৩টি উইকেট নেন।
প্রথম ইনিংস শেষ হওয়ার পর দিনের বাকি থাকা ৬ ওভার নিরাপদে পার করে দিয়েছেন পাকিস্তানের দুই ওপেনার আজান আওয়াইস ও আবদুল্লাহ ফজল। আজান ১৩ এবং আবদুল্লাহ ৮ রান নিয়ে অপরাজিত আছেন। বাংলাদেশের বোলাররা শেষ বিকেলে কোনো উইকেট তুলে নিতে পারেননি।
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ২৭৮/১০ (৭৭ ওভার); লিটন ১২৬, নাজমুল ২৯, তানজিদ ২৬, মুশফিক ২৩, মুমিনুল ২২। (খুররম ৪/৮১, আব্বাস ৩/৪৫, হাসান ২/৪৯)।
পাকিস্তান ১ম ইনিংস: ২১/০ (৬ ওভার); আওয়াইস ১৩*, ফজল ৮*।
2.png)