ইরান যুদ্ধ
চীন সফর শেষ করে ওয়াশিংটনে পা রাখতেই ইরান ইস্যুতে বড় ধরনের সামরিক ও কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের দিকে ঝুঁকছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের এই অচলাবস্থা ভাঙতে হোয়াইট হাউস প্রয়োজনে আরও তীব্র বিমান হামলার পথ বেছে নিতে পারে—এমনটি ধরে নিয়েই মার্কিন শীর্ষ উপদেষ্টারা নতুন করে সামরিক অভিযান শুরুর একটি পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে রেখেছেন। পেন্টাগন সূত্রে জানা গেছে, গত মাসে ঘোষিত সাময়িক যুদ্ধবিরতির অবসান ঘটিয়ে যেকোনো মুহূর্তে রণক্ষেত্রে ফেরার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে রাখা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট মিত্র দেশগুলো যখন ইরানকে বুঝিয়ে কৌশলগত জলপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ সচল করার মধ্যস্থতায় ব্যস্ত, ঠিক তখনই ট্রাম্প বেইজিং ছাড়ার পর বিমান ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’-এ সাংবাদিকদের স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তেহরানের দেওয়া সর্বশেষ শান্তি প্রস্তাবটি তাঁর পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। ট্রাম্পের ভাষায়, "আমি প্রস্তাবটি দেখেছি। প্রথম বাক্যটিই যদি আমার পছন্দ না হয়, তবে আমি তা সরাসরি ফেলে দিই।" চীন সফরের সময় দেশটির প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে ইরান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করলেও, বেইজিংয়ের ওপর তেহরানের ওপর চাপ সৃষ্টির কোনো সরাসরি অনুরোধ তিনি করেননি বলেই জানা গেছে।
পেন্টাগনের এই সম্ভাব্য নতুন অভিযানের ছকটি ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র আদলে তৈরি করা হচ্ছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এ সপ্তাহে কংগ্রেসে সাফ জানিয়েছেন, প্রয়োজন হলে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ আরও তীব্র করার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের। তবে পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে সেখানে মোতায়েন অতিরিক্ত ৫০ হাজারেরও বেশি সেনাকে স্বাভাবিক দায়িত্বে ফিরিয়ে আনার বিকল্প পথও খোলা রাখা হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে মধ্যপ্রাচ্যের দুই শীর্ষ কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়েছেন, ওয়াশিংটন ও ইসরায়েল যৌথভাবে আগামী সপ্তাহের মধ্যেই ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় হামলার যৌথ প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সামরিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে শুধু আকাশপথই নয়, বরং মাটির গভীরে লুকিয়ে রাখা পারমাণবিক উপাদান ধ্বংস করতে মার্কিন ‘স্পেশাল অপারেশনস ফোর্স’কে মাটিতে নামানোর বিকল্পও ট্রাম্পের টেবিলে জমা পড়েছে। বিশেষ করে ইস্পাহান পারমাণবিক কেন্দ্রের উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ভাণ্ডার ধ্বংস করতে এলিট পদাতিক সেনাদের ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এই ধরনের স্থল অভিযানে মার্কিন বাহিনীর বড় ধরনের প্রাণহানির ঝুঁকি রয়েছে বলে সামরিক কর্তারা ব্যক্তিগতভাবে স্বীকার করছেন।
এদিকে তেহরানও হাত গুটিয়ে বসে নেই। মার্কিন হুমকির জবাবে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, "যেকোনো আগ্রাসনের উপযুক্ত জবাব দিতে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী প্রস্তুত। তারা আমাদের পাল্টা আঘাতে বিস্মিত হবে।" মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যেও উঠে এসেছে যে, হরমুজ প্রণালি বরাবর ইরানের ৩৩টি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকেন্দ্রের মধ্যে ৩০টিই ইতিমধ্যে পুরোপুরি কার্যক্ষম করে তুলেছে আইআরজিসি (ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর)। ফলে ওয়াশিংটন যদি নতুন করে হামলা শুরু করে, তবে ইরানের তেল রপ্তানির মূল কেন্দ্র ‘খারগ দ্বীপ’ দখল বা পারমাণবিক কেন্দ্র নিয়ন্ত্রণ করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য মোটেও সহজ হবে না।
2.png)
শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ মে ২০২৬
চীন সফর শেষ করে ওয়াশিংটনে পা রাখতেই ইরান ইস্যুতে বড় ধরনের সামরিক ও কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের দিকে ঝুঁকছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের এই অচলাবস্থা ভাঙতে হোয়াইট হাউস প্রয়োজনে আরও তীব্র বিমান হামলার পথ বেছে নিতে পারে—এমনটি ধরে নিয়েই মার্কিন শীর্ষ উপদেষ্টারা নতুন করে সামরিক অভিযান শুরুর একটি পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে রেখেছেন। পেন্টাগন সূত্রে জানা গেছে, গত মাসে ঘোষিত সাময়িক যুদ্ধবিরতির অবসান ঘটিয়ে যেকোনো মুহূর্তে রণক্ষেত্রে ফেরার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে রাখা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট মিত্র দেশগুলো যখন ইরানকে বুঝিয়ে কৌশলগত জলপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ সচল করার মধ্যস্থতায় ব্যস্ত, ঠিক তখনই ট্রাম্প বেইজিং ছাড়ার পর বিমান ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’-এ সাংবাদিকদের স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তেহরানের দেওয়া সর্বশেষ শান্তি প্রস্তাবটি তাঁর পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। ট্রাম্পের ভাষায়, "আমি প্রস্তাবটি দেখেছি। প্রথম বাক্যটিই যদি আমার পছন্দ না হয়, তবে আমি তা সরাসরি ফেলে দিই।" চীন সফরের সময় দেশটির প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে ইরান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করলেও, বেইজিংয়ের ওপর তেহরানের ওপর চাপ সৃষ্টির কোনো সরাসরি অনুরোধ তিনি করেননি বলেই জানা গেছে।
পেন্টাগনের এই সম্ভাব্য নতুন অভিযানের ছকটি ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র আদলে তৈরি করা হচ্ছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এ সপ্তাহে কংগ্রেসে সাফ জানিয়েছেন, প্রয়োজন হলে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ আরও তীব্র করার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের। তবে পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে সেখানে মোতায়েন অতিরিক্ত ৫০ হাজারেরও বেশি সেনাকে স্বাভাবিক দায়িত্বে ফিরিয়ে আনার বিকল্প পথও খোলা রাখা হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে মধ্যপ্রাচ্যের দুই শীর্ষ কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়েছেন, ওয়াশিংটন ও ইসরায়েল যৌথভাবে আগামী সপ্তাহের মধ্যেই ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় হামলার যৌথ প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সামরিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে শুধু আকাশপথই নয়, বরং মাটির গভীরে লুকিয়ে রাখা পারমাণবিক উপাদান ধ্বংস করতে মার্কিন ‘স্পেশাল অপারেশনস ফোর্স’কে মাটিতে নামানোর বিকল্পও ট্রাম্পের টেবিলে জমা পড়েছে। বিশেষ করে ইস্পাহান পারমাণবিক কেন্দ্রের উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ভাণ্ডার ধ্বংস করতে এলিট পদাতিক সেনাদের ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এই ধরনের স্থল অভিযানে মার্কিন বাহিনীর বড় ধরনের প্রাণহানির ঝুঁকি রয়েছে বলে সামরিক কর্তারা ব্যক্তিগতভাবে স্বীকার করছেন।
এদিকে তেহরানও হাত গুটিয়ে বসে নেই। মার্কিন হুমকির জবাবে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, "যেকোনো আগ্রাসনের উপযুক্ত জবাব দিতে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী প্রস্তুত। তারা আমাদের পাল্টা আঘাতে বিস্মিত হবে।" মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যেও উঠে এসেছে যে, হরমুজ প্রণালি বরাবর ইরানের ৩৩টি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকেন্দ্রের মধ্যে ৩০টিই ইতিমধ্যে পুরোপুরি কার্যক্ষম করে তুলেছে আইআরজিসি (ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর)। ফলে ওয়াশিংটন যদি নতুন করে হামলা শুরু করে, তবে ইরানের তেল রপ্তানির মূল কেন্দ্র ‘খারগ দ্বীপ’ দখল বা পারমাণবিক কেন্দ্র নিয়ন্ত্রণ করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য মোটেও সহজ হবে না।
2.png)