আন্তর্জাতিক
বিশ্বের দুই বৃহৎ অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার দীর্ঘদিনের স্নায়ুযুদ্ধের আঁচ এবার সরাসরি গিয়ে লাগল করপোরেট দুনিয়ায়। চীন সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নীতি-নির্ধারকদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেও কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যবসায়িক সুবিধা বা বড় ধরনের ছাড় আদায় করতে পারেননি মার্কিন করপোরেট জায়ান্টদের প্রতিনিধি দল। বেইজিংয়ের রুদ্ধদ্বার বৈঠকগুলোতে বিনিয়োগের পরিবেশ সহজ করা ও শুল্ক কমানোর মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পেলেও শেষ পর্যন্ত মার্কিন ব্যবসায়ীরা ফিরেছেন অনেকটা শূন্য হাতেই।
দীর্ঘদিন ধরেই ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে প্রযুক্তি এবং বাণিজ্য নিয়ে চরম টানাপোড়েন চলছে। এই অবস্থায় সম্পর্কের বরফ গলাতে এবং নিজেদের বিশাল বাজার সুরক্ষিত রাখতে চীনে গিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের নামী-দামি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্তারা। সফর সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, আলোচনায় মার্কিন ব্যবসায়ীরা বেইজিংয়ের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কড়াকড়ি শিথিল করার জোর দাবি জানালেও চীনের পক্ষ থেকে তেমন কোনো ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। বরং চীনের বর্তমান অর্থনৈতিক পলিসি এবং জাতীয় নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে কঠোর নিয়ম বহাল রাখার পক্ষেই অনড় অবস্থান দেখিয়েছেন বেইজিংয়ের কর্মকর্তারা।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ব্যর্থতা কেবল ব্যবসায়িক লেনদেনের নয়, বরং দুই দেশের মধ্যকার গভীর ভূ-রাজনৈতিক বৈরিতারই একটি স্পষ্ট প্রতিফলন। যুক্তরাষ্ট্র যখন একের পর এক চীনা পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপ করছে এবং চিপ শিল্পে কঠোর নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে, তখন চীনও পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে মার্কিন করপোরেটদের জন্য নিজেদের পথ সংকুচিত করে তুলছে। ফলে অ্যাপল কিংবা টেসলার মতো বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলো চীনে তাদের ব্যবসার ভবিষ্যৎ এবং সাপ্লাই চেইন নিয়ে এখন আগের চেয়েও বেশি দোটানায় পড়েছে।
বৈঠক শেষে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন করপোরেট কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এবারের সফরে তাদের মূল লক্ষ্য ছিল চীনের বাজারে বৈষম্যহীন ব্যবসায়িক সুযোগ নিশ্চিত করা। কিন্তু আলোচনার টেবিলে দীর্ঘ সময় ব্যয় করলেও কার্যত কোনো নতুন বিনিয়োগ চুক্তি সই হয়নি কিংবা নীতিমালার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসেনি। এই পরিস্থিতি কেবল মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্যই বড় ধাক্কা নয়, বরং সামগ্রিক বিশ্ব অর্থনীতির সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত বাণিজ্য ও রাজনীতির এই জটিল রসায়ন মার্কিন ব্যবসায়ীদের জন্য এক বড় ধরনের কূটনৈতিক বিড়ম্বনা হয়েই রইল।
বিষয় : যুক্তরাষ্ট্র ও চীন ব্যর্থ বানিজ্য
2.png)
শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ মে ২০২৬
বিশ্বের দুই বৃহৎ অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার দীর্ঘদিনের স্নায়ুযুদ্ধের আঁচ এবার সরাসরি গিয়ে লাগল করপোরেট দুনিয়ায়। চীন সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নীতি-নির্ধারকদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেও কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যবসায়িক সুবিধা বা বড় ধরনের ছাড় আদায় করতে পারেননি মার্কিন করপোরেট জায়ান্টদের প্রতিনিধি দল। বেইজিংয়ের রুদ্ধদ্বার বৈঠকগুলোতে বিনিয়োগের পরিবেশ সহজ করা ও শুল্ক কমানোর মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পেলেও শেষ পর্যন্ত মার্কিন ব্যবসায়ীরা ফিরেছেন অনেকটা শূন্য হাতেই।
দীর্ঘদিন ধরেই ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে প্রযুক্তি এবং বাণিজ্য নিয়ে চরম টানাপোড়েন চলছে। এই অবস্থায় সম্পর্কের বরফ গলাতে এবং নিজেদের বিশাল বাজার সুরক্ষিত রাখতে চীনে গিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের নামী-দামি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্তারা। সফর সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, আলোচনায় মার্কিন ব্যবসায়ীরা বেইজিংয়ের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কড়াকড়ি শিথিল করার জোর দাবি জানালেও চীনের পক্ষ থেকে তেমন কোনো ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। বরং চীনের বর্তমান অর্থনৈতিক পলিসি এবং জাতীয় নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে কঠোর নিয়ম বহাল রাখার পক্ষেই অনড় অবস্থান দেখিয়েছেন বেইজিংয়ের কর্মকর্তারা।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ব্যর্থতা কেবল ব্যবসায়িক লেনদেনের নয়, বরং দুই দেশের মধ্যকার গভীর ভূ-রাজনৈতিক বৈরিতারই একটি স্পষ্ট প্রতিফলন। যুক্তরাষ্ট্র যখন একের পর এক চীনা পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপ করছে এবং চিপ শিল্পে কঠোর নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে, তখন চীনও পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে মার্কিন করপোরেটদের জন্য নিজেদের পথ সংকুচিত করে তুলছে। ফলে অ্যাপল কিংবা টেসলার মতো বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলো চীনে তাদের ব্যবসার ভবিষ্যৎ এবং সাপ্লাই চেইন নিয়ে এখন আগের চেয়েও বেশি দোটানায় পড়েছে।
বৈঠক শেষে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন করপোরেট কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এবারের সফরে তাদের মূল লক্ষ্য ছিল চীনের বাজারে বৈষম্যহীন ব্যবসায়িক সুযোগ নিশ্চিত করা। কিন্তু আলোচনার টেবিলে দীর্ঘ সময় ব্যয় করলেও কার্যত কোনো নতুন বিনিয়োগ চুক্তি সই হয়নি কিংবা নীতিমালার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসেনি। এই পরিস্থিতি কেবল মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্যই বড় ধাক্কা নয়, বরং সামগ্রিক বিশ্ব অর্থনীতির সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত বাণিজ্য ও রাজনীতির এই জটিল রসায়ন মার্কিন ব্যবসায়ীদের জন্য এক বড় ধরনের কূটনৈতিক বিড়ম্বনা হয়েই রইল।
2.png)