খেলা
মাঠের বাইরের চাকচিক্য আর প্রচারণায় বিশ্বযজ্ঞের আমেজ থাকলেও আমেরিকার আবাসন খাতে তার সম্পূর্ণ উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। আগামী জুনে তিন দেশের যৌথ আয়োজনে ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হতে চললেও আমেরিকার বড় শহরগুলোর হোটেল কক্ষ এখনো আশানুরূপ ক্রেতা পাচ্ছে না। বিশ্বমঞ্চের এই আসর ঘিরে কোটি ডলারের বাণিজ্যের যে ছক ব্যবসায়ীরা কষেছিলেন, টুর্নামেন্ট শুরুর মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে এসে তা বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে। মায়ামি, নিউইয়র্ক কিংবা কানসাস সিটির মতো বিশ্বকাপ ভেন্যুগুলোর সড়ক সেজে উঠলেও হোটেলগুলোর বুকিং সফটওয়্যার যেন এক নিথর মরুভূমি।
মার্কিন হোটেল মালিকদের শীর্ষ সংগঠন এএইচএলএ-র সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৮০ শতাংশের বেশি নামী হোটেল গত বছরের সাধারণ গ্রীষ্মকালীন সময়ের চেয়েও কম বুকিং পেয়েছে। টেক্সাসের হিউস্টনের মতো ফুটবল ফ্যান জোন সংলগ্ন বুটিক হোটেলগুলোর অর্ধেকের বেশি কক্ষ এখনো ফাঁকা পড়ে আছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতি, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বব্যাপী জীবনযাত্রার রেকর্ড ব্যয় বৃদ্ধি এবং সর্বোপরি ফিফা নির্ধারিত টিকিটের লাগামহীন মূল্যই সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের স্টেডিয়ামবিমুখ করে তুলছে।
এবারের আসরে টিকিটের বাজারমূল্য সাধারণের নাগালের বাইরে চলে গেছে বলে অভিযোগ খোদ পশ্চিমা দর্শক সংগঠনের। ফাইনাল ম্যাচের অফিশিয়াল টিকিটই যেখানে হাজার হাজার ডলারে বিক্রি হচ্ছে, সেখানে পুনর্বিক্রির বাজারে তা লাখ টাকার অংক ছাড়িয়েছে। সাধারণ ম্যাচগুলোর প্রবেশমূল্যও এত বেশি যে মেক্সিকো বা হাইতির মতো দেশের সাধারণ সমর্থকদের পক্ষে তা স্রেফ আকাশকুসুম কল্পনা। কানসাস সিটির বিলাসবহুল হোটেলগুলোর ব্যবস্থাপকেরা বলছেন, ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসির আমেরিকান অধ্যায়ও আবাসন খাতে সেই জোয়ার আনতে পারেনি, যা বছর তিনেক আগে পপ তারকা টেইলর সুইফটের কনসার্ট ট্যুর করে দেখিয়েছিল। সুইফটের সে সময়ের শোতে পুরো শহরের হোটেল চোখের পলকে পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল।
অবশ্য আবাসন খাতের এই মন্দার চিত্র মানতে নারাজ আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা ফিফা। তাদের দাবি, বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের অভূতপূর্ব সাড়া মিলেছে এবং ইতিমধ্যেই ৫০ লাখের বেশি টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। অতি মুনাফালোভী কালোবাজারিদের ঠেকাতেই কিছু টিকিটের দাম বেশি রাখা হয়েছে বলে তাদের দাবি। অন্যদিকে বিকল্প আবাসন প্ল্যাটফর্ম এয়ারবিএনবি একে তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আয়োজন বলে উল্লেখ করেছে। বিদেশী দর্শকদের টানতে ও ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করতে হোয়াইট হাউস ইতিমধ্যেই বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করে জামানতের কড়াকড়ি শিথিল করলেও শেষ মুহূর্তে মাঠের পরিস্থিতি কতটা বদলাবে, তা নিয়ে মার্কিন ব্যবসায়ীদের সংশয় থেকেই যাচ্ছে।
2.png)
শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ মে ২০২৬
মাঠের বাইরের চাকচিক্য আর প্রচারণায় বিশ্বযজ্ঞের আমেজ থাকলেও আমেরিকার আবাসন খাতে তার সম্পূর্ণ উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। আগামী জুনে তিন দেশের যৌথ আয়োজনে ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হতে চললেও আমেরিকার বড় শহরগুলোর হোটেল কক্ষ এখনো আশানুরূপ ক্রেতা পাচ্ছে না। বিশ্বমঞ্চের এই আসর ঘিরে কোটি ডলারের বাণিজ্যের যে ছক ব্যবসায়ীরা কষেছিলেন, টুর্নামেন্ট শুরুর মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে এসে তা বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে। মায়ামি, নিউইয়র্ক কিংবা কানসাস সিটির মতো বিশ্বকাপ ভেন্যুগুলোর সড়ক সেজে উঠলেও হোটেলগুলোর বুকিং সফটওয়্যার যেন এক নিথর মরুভূমি।
মার্কিন হোটেল মালিকদের শীর্ষ সংগঠন এএইচএলএ-র সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৮০ শতাংশের বেশি নামী হোটেল গত বছরের সাধারণ গ্রীষ্মকালীন সময়ের চেয়েও কম বুকিং পেয়েছে। টেক্সাসের হিউস্টনের মতো ফুটবল ফ্যান জোন সংলগ্ন বুটিক হোটেলগুলোর অর্ধেকের বেশি কক্ষ এখনো ফাঁকা পড়ে আছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতি, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বব্যাপী জীবনযাত্রার রেকর্ড ব্যয় বৃদ্ধি এবং সর্বোপরি ফিফা নির্ধারিত টিকিটের লাগামহীন মূল্যই সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের স্টেডিয়ামবিমুখ করে তুলছে।
এবারের আসরে টিকিটের বাজারমূল্য সাধারণের নাগালের বাইরে চলে গেছে বলে অভিযোগ খোদ পশ্চিমা দর্শক সংগঠনের। ফাইনাল ম্যাচের অফিশিয়াল টিকিটই যেখানে হাজার হাজার ডলারে বিক্রি হচ্ছে, সেখানে পুনর্বিক্রির বাজারে তা লাখ টাকার অংক ছাড়িয়েছে। সাধারণ ম্যাচগুলোর প্রবেশমূল্যও এত বেশি যে মেক্সিকো বা হাইতির মতো দেশের সাধারণ সমর্থকদের পক্ষে তা স্রেফ আকাশকুসুম কল্পনা। কানসাস সিটির বিলাসবহুল হোটেলগুলোর ব্যবস্থাপকেরা বলছেন, ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসির আমেরিকান অধ্যায়ও আবাসন খাতে সেই জোয়ার আনতে পারেনি, যা বছর তিনেক আগে পপ তারকা টেইলর সুইফটের কনসার্ট ট্যুর করে দেখিয়েছিল। সুইফটের সে সময়ের শোতে পুরো শহরের হোটেল চোখের পলকে পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল।
অবশ্য আবাসন খাতের এই মন্দার চিত্র মানতে নারাজ আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা ফিফা। তাদের দাবি, বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের অভূতপূর্ব সাড়া মিলেছে এবং ইতিমধ্যেই ৫০ লাখের বেশি টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। অতি মুনাফালোভী কালোবাজারিদের ঠেকাতেই কিছু টিকিটের দাম বেশি রাখা হয়েছে বলে তাদের দাবি। অন্যদিকে বিকল্প আবাসন প্ল্যাটফর্ম এয়ারবিএনবি একে তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আয়োজন বলে উল্লেখ করেছে। বিদেশী দর্শকদের টানতে ও ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করতে হোয়াইট হাউস ইতিমধ্যেই বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করে জামানতের কড়াকড়ি শিথিল করলেও শেষ মুহূর্তে মাঠের পরিস্থিতি কতটা বদলাবে, তা নিয়ে মার্কিন ব্যবসায়ীদের সংশয় থেকেই যাচ্ছে।
2.png)