ইরান যুদ্ধ
যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য ও আন্তরিকতা নিয়ে চরম আস্থার সংকটে ভুগছে ইরান। ওয়াশিংটন যদি আসলেই কোনো চুক্তির বিষয়ে সদিচ্ছা দেখায়, তবেই কেবল তেহরান আলোচনা টেবিলে বসতে আগ্রহী। ভারত সফররত ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি নতুন দিল্লিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দুই দেশের চলমান কূটনৈতিক অচলাবস্থা নিয়ে এই মন্তব্য করেন। বর্তমানে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের মাধ্যমে চলতে থাকা শান্তি আলোচনা পুরোপুরি স্থগিত রয়েছে।
ব্রিকস পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে অবস্থান করা আরাগচি স্পষ্ট করে বলেন, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল হরমুজ প্রণালির বর্তমান পরিস্থিতি এখন খুবই জটিল। তবে যেসব রাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে সরাসরি কোনো যুদ্ধে লিপ্ত নয়, তারা এই সমুদ্রপথ ব্যবহার করতে পারবে। সে ক্ষেত্রে অবশ্যই ইরানের নৌবাহিনীর সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় রক্ষা করে চলতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আরাগচি জানান, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকেও তিনি হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তার বিষয়ে ইরানের ঐতিহাসিক ও একক দায়বদ্ধতার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরান ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক আগ্রাসন শুরুর পর এই গুরুত্বপূর্ণ রুট দিয়ে সব ধরনের বাণিজ্যিক নৌযান চলাচল বন্ধ করে দেয় তেহরান, যা বিশ্বের মোট জ্বালানি পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ নিয়ন্ত্রণ করে।
গত মাসে দুই পক্ষ সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলেও স্থায়ী শান্তিচুক্তির রূপরেখা নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর জটিলতা। গত সপ্তাহে ওয়াশিংটন ও তেহরান একে অপরের দেওয়া সর্বশেষ প্রস্তাবগুলো সরাসরি নাকচ করে দেওয়ায় আলোচনার টেবিল এখন স্থবির। আরাগচির মতে, মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে আসা একের পর এক সাংঘর্ষিক বিবৃতির কারণেই তাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে তেহরানের মনে তীব্র সন্দেহের উদ্রেক হয়েছে। তিনি অবশ্য একে আলোচনা প্রক্রিয়ার স্থায়ী ব্যর্থতা না বলে একটি সাময়িক 'অচলাবস্থা' হিসেবে দেখছেন। উল্লেখ্য, গত ১৩ মাসে দুই দফায় আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রতিবারই মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলার কারণে তা ভেস্তে যায়। কূটনৈতিক সমাধানের শেষ সুযোগ দিতে ইরান আপাতত যুদ্ধবিরতি বজায় রাখলেও, পরিস্থিতির প্রয়োজনে আবারও সর্বাত্মক যুদ্ধে জড়াতে তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এই শীর্ষ কূটনীতিক।
এই ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আরাগচির এই বক্তব্যের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ট্রাম্প এক বিবৃতিতে বলেন, ইরানের প্রতি ওয়াশিংটনের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে। এমনকি চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে এক ফোনালাপে তেহরানকে দ্রুত হরমুজ প্রণালির অবরোধ তুলে নেওয়ার চাপ দেওয়ার বিষয়ে তারা একমত হয়েছেন বলেও দাবি করেন ট্রাম্প। বেইজিংয়ের এমন সম্ভাব্য মধ্যস্থতার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে আরাগচি জানান, চীনের সঙ্গে ইরানের কৌশলগত ও অত্যন্ত সুদৃঢ় অংশীদারত্ব রয়েছে। বেইজিংয়ের সদিচ্ছাকে মূল্যায়ন করে যেকোনো ইতিবাচক কূটনৈতিক উদ্যোগকে তেহরান স্বাগত জানাবে। তবে সবকিছুর মূলে রয়েছে হরমুজ প্রণালিকে সম্পূর্ণ নিরাপদ করা এবং আলোচনাকে একটি সুনির্দিষ্ট ও স্থায়ী সমাধানের দিকে এগিয়ে নেওয়া।
2.png)
শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ মে ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য ও আন্তরিকতা নিয়ে চরম আস্থার সংকটে ভুগছে ইরান। ওয়াশিংটন যদি আসলেই কোনো চুক্তির বিষয়ে সদিচ্ছা দেখায়, তবেই কেবল তেহরান আলোচনা টেবিলে বসতে আগ্রহী। ভারত সফররত ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি নতুন দিল্লিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দুই দেশের চলমান কূটনৈতিক অচলাবস্থা নিয়ে এই মন্তব্য করেন। বর্তমানে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের মাধ্যমে চলতে থাকা শান্তি আলোচনা পুরোপুরি স্থগিত রয়েছে।
ব্রিকস পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে অবস্থান করা আরাগচি স্পষ্ট করে বলেন, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল হরমুজ প্রণালির বর্তমান পরিস্থিতি এখন খুবই জটিল। তবে যেসব রাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে সরাসরি কোনো যুদ্ধে লিপ্ত নয়, তারা এই সমুদ্রপথ ব্যবহার করতে পারবে। সে ক্ষেত্রে অবশ্যই ইরানের নৌবাহিনীর সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় রক্ষা করে চলতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আরাগচি জানান, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকেও তিনি হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তার বিষয়ে ইরানের ঐতিহাসিক ও একক দায়বদ্ধতার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরান ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক আগ্রাসন শুরুর পর এই গুরুত্বপূর্ণ রুট দিয়ে সব ধরনের বাণিজ্যিক নৌযান চলাচল বন্ধ করে দেয় তেহরান, যা বিশ্বের মোট জ্বালানি পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ নিয়ন্ত্রণ করে।
গত মাসে দুই পক্ষ সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলেও স্থায়ী শান্তিচুক্তির রূপরেখা নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর জটিলতা। গত সপ্তাহে ওয়াশিংটন ও তেহরান একে অপরের দেওয়া সর্বশেষ প্রস্তাবগুলো সরাসরি নাকচ করে দেওয়ায় আলোচনার টেবিল এখন স্থবির। আরাগচির মতে, মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে আসা একের পর এক সাংঘর্ষিক বিবৃতির কারণেই তাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে তেহরানের মনে তীব্র সন্দেহের উদ্রেক হয়েছে। তিনি অবশ্য একে আলোচনা প্রক্রিয়ার স্থায়ী ব্যর্থতা না বলে একটি সাময়িক 'অচলাবস্থা' হিসেবে দেখছেন। উল্লেখ্য, গত ১৩ মাসে দুই দফায় আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রতিবারই মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলার কারণে তা ভেস্তে যায়। কূটনৈতিক সমাধানের শেষ সুযোগ দিতে ইরান আপাতত যুদ্ধবিরতি বজায় রাখলেও, পরিস্থিতির প্রয়োজনে আবারও সর্বাত্মক যুদ্ধে জড়াতে তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এই শীর্ষ কূটনীতিক।
এই ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আরাগচির এই বক্তব্যের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ট্রাম্প এক বিবৃতিতে বলেন, ইরানের প্রতি ওয়াশিংটনের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে। এমনকি চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে এক ফোনালাপে তেহরানকে দ্রুত হরমুজ প্রণালির অবরোধ তুলে নেওয়ার চাপ দেওয়ার বিষয়ে তারা একমত হয়েছেন বলেও দাবি করেন ট্রাম্প। বেইজিংয়ের এমন সম্ভাব্য মধ্যস্থতার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে আরাগচি জানান, চীনের সঙ্গে ইরানের কৌশলগত ও অত্যন্ত সুদৃঢ় অংশীদারত্ব রয়েছে। বেইজিংয়ের সদিচ্ছাকে মূল্যায়ন করে যেকোনো ইতিবাচক কূটনৈতিক উদ্যোগকে তেহরান স্বাগত জানাবে। তবে সবকিছুর মূলে রয়েছে হরমুজ প্রণালিকে সম্পূর্ণ নিরাপদ করা এবং আলোচনাকে একটি সুনির্দিষ্ট ও স্থায়ী সমাধানের দিকে এগিয়ে নেওয়া।
2.png)