জাতীয়
দেশজুড়ে মারাত্মক আকার ধারণ করেছে হামের প্রাদুর্ভাব। প্রতিদিন গড়ে প্রায় চার হাজার আক্রান্ত শিশু সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাধীন থাকছে, যা স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করছে। সর্বশেষ প্রাপ্ত সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশজুড়ে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪০ হাজার ১৭৬ জন। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছেন ৩৬ হাজার ৫৫ জন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৪ হাজার ১২১ জন রোগী, যার বাইরেও একটি বড় অংশ বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় হাসপাতালগুলোতে শয্যা সংকটের পাশাপাশি নানামুখী ব্যবস্থাপনার ঘাটতি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, চলতি মে মাসের শুরু থেকেই হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। গত ১ মে যেখানে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৪৫০ জন, ঠিক দুই সপ্তাহের ব্যবধানে তা বেড়ে ৪ হাজার পেরিয়ে গেছে। অথচ কোন হাসপাতালে কতটি শয্যা বা আইসিইউ খালি রয়েছে, সেই সম্পর্কিত সুনির্দিষ্ট তথ্য করোনা মহামারির সময়ের মতো প্রকাশ করা হচ্ছে না। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস) শাখা জেলা ও সিটি করপোরেশন থেকে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ করলেও সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের তথ্য আলাদাভাবে উপস্থাপন করছে না, যা সুসমন্বিত রোগী ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে অন্তরায় হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
রাজধানীর বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোতে রোগীর উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে চলতি বছরের সাড়ে চার মাসে প্রায় সাড়ে ছয়শত শিশু ভর্তি হয়েছে, যার মধ্যে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র বা আইসিইউর ওপর চাপ সবচেয়ে বেশি। অন্যদিকে, সরকারি সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে মাত্র ১০টি শয্যার বিপরীতে গতকাল রোগী ভর্তি ছিল ৫৪ জন। গত ৫ এপ্রিল থেকে দেশের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হওয়ায় সেখানে সংক্রমণ কিছুটা কমলেও, আসন্ন কোরবানি ঈদের ছুটিতে মানুষের অবাধ চলাচল ও মেলামেশার কারণে দেশজুড়ে সংক্রমণ পুনরায় বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকেরা।
এই সংকটজনক পরিস্থিতিতে কেবল টিকাদানের ওপর নির্ভর না করে সমন্বিত প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। আইইডিসিআরের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান জানিয়েছেন, মৃদু উপসর্গযুক্ত রোগীদের হাসপাতালে না এনে বাড়িতে আইসোলেশনে রাখার ব্যাপারে উৎসাহিত করতে হবে। একই সঙ্গে সংক্রমণ ছড়ানো রোধে প্রতিটি হাসপাতালে রোগী প্রবেশের মুখেই স্ক্রিনিং করে হামের জন্য পৃথক কর্নার তৈরি করা, প্রাকৃতিক বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা রাখা, চিকিৎসক ও অভিভাবকদের মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং হাসপাতালে দর্শনার্থীদের ভিড় কমানো জরুরি।
এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ১২টি শিশুর প্রাণ কেড়ে নিয়েছে এই সংক্রামক ব্যাধি। এর মধ্যে চারজনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছিল এবং বাকি আটজন উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রাম, বরিশাল, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগ থেকে এই মৃত্যুর খবর এসেছে। এ নিয়ে গত দুই মাসে হাম এবং হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ৪৫১ জনে, যা জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতির বর্তমান ভয়াবহতাকে নির্দেশ করছে।
2.png)
শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ মে ২০২৬
দেশজুড়ে মারাত্মক আকার ধারণ করেছে হামের প্রাদুর্ভাব। প্রতিদিন গড়ে প্রায় চার হাজার আক্রান্ত শিশু সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাধীন থাকছে, যা স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করছে। সর্বশেষ প্রাপ্ত সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশজুড়ে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪০ হাজার ১৭৬ জন। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছেন ৩৬ হাজার ৫৫ জন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৪ হাজার ১২১ জন রোগী, যার বাইরেও একটি বড় অংশ বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় হাসপাতালগুলোতে শয্যা সংকটের পাশাপাশি নানামুখী ব্যবস্থাপনার ঘাটতি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, চলতি মে মাসের শুরু থেকেই হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। গত ১ মে যেখানে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৪৫০ জন, ঠিক দুই সপ্তাহের ব্যবধানে তা বেড়ে ৪ হাজার পেরিয়ে গেছে। অথচ কোন হাসপাতালে কতটি শয্যা বা আইসিইউ খালি রয়েছে, সেই সম্পর্কিত সুনির্দিষ্ট তথ্য করোনা মহামারির সময়ের মতো প্রকাশ করা হচ্ছে না। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস) শাখা জেলা ও সিটি করপোরেশন থেকে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ করলেও সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের তথ্য আলাদাভাবে উপস্থাপন করছে না, যা সুসমন্বিত রোগী ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে অন্তরায় হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
রাজধানীর বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোতে রোগীর উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে চলতি বছরের সাড়ে চার মাসে প্রায় সাড়ে ছয়শত শিশু ভর্তি হয়েছে, যার মধ্যে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র বা আইসিইউর ওপর চাপ সবচেয়ে বেশি। অন্যদিকে, সরকারি সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে মাত্র ১০টি শয্যার বিপরীতে গতকাল রোগী ভর্তি ছিল ৫৪ জন। গত ৫ এপ্রিল থেকে দেশের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হওয়ায় সেখানে সংক্রমণ কিছুটা কমলেও, আসন্ন কোরবানি ঈদের ছুটিতে মানুষের অবাধ চলাচল ও মেলামেশার কারণে দেশজুড়ে সংক্রমণ পুনরায় বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকেরা।
এই সংকটজনক পরিস্থিতিতে কেবল টিকাদানের ওপর নির্ভর না করে সমন্বিত প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। আইইডিসিআরের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান জানিয়েছেন, মৃদু উপসর্গযুক্ত রোগীদের হাসপাতালে না এনে বাড়িতে আইসোলেশনে রাখার ব্যাপারে উৎসাহিত করতে হবে। একই সঙ্গে সংক্রমণ ছড়ানো রোধে প্রতিটি হাসপাতালে রোগী প্রবেশের মুখেই স্ক্রিনিং করে হামের জন্য পৃথক কর্নার তৈরি করা, প্রাকৃতিক বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা রাখা, চিকিৎসক ও অভিভাবকদের মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং হাসপাতালে দর্শনার্থীদের ভিড় কমানো জরুরি।
এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ১২টি শিশুর প্রাণ কেড়ে নিয়েছে এই সংক্রামক ব্যাধি। এর মধ্যে চারজনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছিল এবং বাকি আটজন উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রাম, বরিশাল, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগ থেকে এই মৃত্যুর খবর এসেছে। এ নিয়ে গত দুই মাসে হাম এবং হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ৪৫১ জনে, যা জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতির বর্তমান ভয়াবহতাকে নির্দেশ করছে।
2.png)