জাতীয়
দেশের একমাত্র জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র রাঙামাটির কাপ্তাইয়ের কর্ণফুলী বিদ্যুৎকেন্দ্রের দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা অবশেষে কাটতে চলেছে। আন্তর্জাতিক দরপত্র ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় দীর্ঘ সাত বছরেরও বেশি সময় ধরে ঝুলে থাকা ৪ ও ৫ নম্বর ইউনিটের বড় ধরনের সংস্কারকাজে অর্থায়নের আগ্রহ দেখিয়েছে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) এবং বিদ্যুৎকেন্দ্র সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জাইকার এই সবুজ সংকেতের পর এখন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) চূড়ান্ত করার কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে।
দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় কাপ্তাইয়ের এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটের উৎপাদন সক্ষমতা যেমন আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে, তেমনি তৈরি হয়েছে বড় ধরনের পরিচালন ও নিরাপত্তা ঝুঁকি। ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রতিটি ইউনিট থেকে এখন সর্বোচ্চ ৪০ মেগাওয়াট করে বিদ্যুৎ মিলছে, যার ফলে কেন্দ্রটির মোট উৎপাদন সক্ষমতা এরই মধ্যে কমে গেছে প্রায় ২০ মেগাওয়াট। বিদ্যুৎকেন্দ্রের নথিপত্র অনুযায়ী, জেনারেটর ধারণকারী ধাতব কাঠামোয় ফাটল দেখা দেওয়ায় প্রতি সপ্তাহে জোড়াতালি বা ওয়েল্ডিং করে চরম ঝুঁকির মধ্যে ইউনিট দুটি চালু রাখা হয়েছে। জাপানি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘তোশিবা’র একটি বিশেষজ্ঞ দল আগেই সতর্ক করেছিল যে, বড় ধরনের ওভারহোলিং ছাড়া এগুলো চালানো মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। সাধারণত প্রতি ১০ বছর পর পূর্ণাঙ্গ সংস্কারের নিয়ম থাকলেও ইউনিট দুটি সর্বশেষ ২০১০ ও ২০১১ সালে সংস্কার করা হয়েছিল।
মূলত ২০১৮ সাল থেকে এই দুটি ইউনিট মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা আন্তর্জাতিক দরপত্র ও আইনি বেড়াজালে আটকে যায়। তোশিয়ার নিজস্ব প্রযুক্তিতে নির্মিত হওয়ায় উন্মুক্ত দরপত্রে অংশ নিতে স্থানীয় ঠিকাদারদের আপত্তি এবং ত্রুটিপূর্ণ প্রতিযোগিতার অজুহাতে তিন-তিনবার আন্তর্জাতিক টেন্ডার প্রক্রিয়া বাতিল করতে হয়। ফলে দীর্ঘ সময় প্রকল্পটি সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়ে ছিল। ২০১৮ সালে এই সংস্কারকাজের প্রাক্কলিত ব্যয় ১০০ কোটি টাকা ধরা হলেও বর্তমান বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতিতে এই ব্যয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কৌশলগত ও পরিবেশগত দিক থেকে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের গুরুত্ব অপরিসীম। নবায়নযোগ্য জ্বালানির এই উৎসে কোনো জ্বালানি খরচ না থাকায় প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যয় পড়ে এক টাকারও কম। বিপিডিবির প্রকল্প পরিকল্পনা বিভাগের পরিচালক ডেইজি পারভীন এবং কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. মাহমুদ হাসান জানিয়েছেন, নতুন উন্নয়ন প্রস্তাবে শুধু জেনারেটর নয়, টারবাইনসহ পুরো সিস্টেমকে আধুনিকায়নের আওতায় আনা হচ্ছে। ১৯৬২ সালে চালু হওয়া ২৩০ মেগাওয়াট ক্ষমতার এই ঐতিহাসিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি জাইকার অর্থায়নে আবার তার পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরবে বলে আশাবাদী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
SEO Meta Tags:
#কাপ্তাই_জলবিদ্যুৎ #কর্ণফুলী_বিদ্যুৎকেন্দ্র #জাইকা_অর্থায়ন #বিপিডিবি #বিদ্যুৎ_সংকট #নবায়নযোগ্য_জ্বালানি #রাঙামাতি_কাপ্তাই #বাংলাদেশ_বিদ্যুৎ #তোশিবা
2.png)
শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ মে ২০২৬
দেশের একমাত্র জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র রাঙামাটির কাপ্তাইয়ের কর্ণফুলী বিদ্যুৎকেন্দ্রের দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা অবশেষে কাটতে চলেছে। আন্তর্জাতিক দরপত্র ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় দীর্ঘ সাত বছরেরও বেশি সময় ধরে ঝুলে থাকা ৪ ও ৫ নম্বর ইউনিটের বড় ধরনের সংস্কারকাজে অর্থায়নের আগ্রহ দেখিয়েছে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) এবং বিদ্যুৎকেন্দ্র সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জাইকার এই সবুজ সংকেতের পর এখন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) চূড়ান্ত করার কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে।
দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় কাপ্তাইয়ের এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটের উৎপাদন সক্ষমতা যেমন আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে, তেমনি তৈরি হয়েছে বড় ধরনের পরিচালন ও নিরাপত্তা ঝুঁকি। ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রতিটি ইউনিট থেকে এখন সর্বোচ্চ ৪০ মেগাওয়াট করে বিদ্যুৎ মিলছে, যার ফলে কেন্দ্রটির মোট উৎপাদন সক্ষমতা এরই মধ্যে কমে গেছে প্রায় ২০ মেগাওয়াট। বিদ্যুৎকেন্দ্রের নথিপত্র অনুযায়ী, জেনারেটর ধারণকারী ধাতব কাঠামোয় ফাটল দেখা দেওয়ায় প্রতি সপ্তাহে জোড়াতালি বা ওয়েল্ডিং করে চরম ঝুঁকির মধ্যে ইউনিট দুটি চালু রাখা হয়েছে। জাপানি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘তোশিবা’র একটি বিশেষজ্ঞ দল আগেই সতর্ক করেছিল যে, বড় ধরনের ওভারহোলিং ছাড়া এগুলো চালানো মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। সাধারণত প্রতি ১০ বছর পর পূর্ণাঙ্গ সংস্কারের নিয়ম থাকলেও ইউনিট দুটি সর্বশেষ ২০১০ ও ২০১১ সালে সংস্কার করা হয়েছিল।
মূলত ২০১৮ সাল থেকে এই দুটি ইউনিট মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা আন্তর্জাতিক দরপত্র ও আইনি বেড়াজালে আটকে যায়। তোশিয়ার নিজস্ব প্রযুক্তিতে নির্মিত হওয়ায় উন্মুক্ত দরপত্রে অংশ নিতে স্থানীয় ঠিকাদারদের আপত্তি এবং ত্রুটিপূর্ণ প্রতিযোগিতার অজুহাতে তিন-তিনবার আন্তর্জাতিক টেন্ডার প্রক্রিয়া বাতিল করতে হয়। ফলে দীর্ঘ সময় প্রকল্পটি সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়ে ছিল। ২০১৮ সালে এই সংস্কারকাজের প্রাক্কলিত ব্যয় ১০০ কোটি টাকা ধরা হলেও বর্তমান বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতিতে এই ব্যয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কৌশলগত ও পরিবেশগত দিক থেকে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের গুরুত্ব অপরিসীম। নবায়নযোগ্য জ্বালানির এই উৎসে কোনো জ্বালানি খরচ না থাকায় প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যয় পড়ে এক টাকারও কম। বিপিডিবির প্রকল্প পরিকল্পনা বিভাগের পরিচালক ডেইজি পারভীন এবং কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. মাহমুদ হাসান জানিয়েছেন, নতুন উন্নয়ন প্রস্তাবে শুধু জেনারেটর নয়, টারবাইনসহ পুরো সিস্টেমকে আধুনিকায়নের আওতায় আনা হচ্ছে। ১৯৬২ সালে চালু হওয়া ২৩০ মেগাওয়াট ক্ষমতার এই ঐতিহাসিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি জাইকার অর্থায়নে আবার তার পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরবে বলে আশাবাদী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
SEO Meta Tags:
#কাপ্তাই_জলবিদ্যুৎ #কর্ণফুলী_বিদ্যুৎকেন্দ্র #জাইকা_অর্থায়ন #বিপিডিবি #বিদ্যুৎ_সংকট #নবায়নযোগ্য_জ্বালানি #রাঙামাতি_কাপ্তাই #বাংলাদেশ_বিদ্যুৎ #তোশিবা
2.png)