সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 ইরান যুদ্ধইরান যুদ্ধ

ইরান যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতার বড় প্রস্তাব চীনের

হরমুজ প্রণালি সচল রাখার পক্ষে বেইজিং, মার্কিন পণ্য কেনার প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি তাইওয়ান ইস্যুতে ট্রাম্পকে কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন সি চিন পিং।

ইরান যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতার বড় প্রস্তাব চীনের
ছবি -সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে চলমান ইরান যুদ্ধ বন্ধে বৈশ্বিক মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম লাইফলাইন ‘হরমুজ প্রণালি’ সম্পূর্ণ সচল ও সামরিকীকরণমুক্ত রাখার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। বেইজিংয়ে দুই শীর্ষ নেতার ঐতিহাসিক বৈঠকের পর মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘ফক্স নিউজ’-কে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে খোদ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতার স্বার্থেই চীন এই যুদ্ধাবস্থার অবসান চায়। সি চিন পিং দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় স্পষ্ট করেছেন যে, রক্তক্ষয়ী এই সংঘাত থামাতে বেইজিং যেকোনো ধরনের সহায়তা করতে প্রস্তুত। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হওয়ায় জলপথটি উন্মুক্ত রাখা বেইজিংয়ের নিজস্ব স্বার্থেরই অংশ, কারণ চীন নিজেই এই পথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল আমদানি করে।

ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, সি চিন পিং ওয়াশিংটনকে আশ্বস্ত করেছেন যে বেইজিং তেহরানকে কোনো ধরনের সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করবে না। তবে কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরানি তেলের প্রধান ক্রেতা চীন হওয়ায় তেহরানের ওপর বেইজিংয়ের যে বিপুল অর্থনৈতিক প্রভাব রয়েছে, তাকে কাজে লাগিয়ে ইরানকে একটি গ্রহণযোগ্য পারমাণবিক চুক্তিতে রাজি করাতে আশাবাদী হোয়াইট হাউস।

যদিও বেইজিংয়ের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ইরান প্রসঙ্গের সরাসরি উল্লেখ মেলেনি, তবে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরান যাতে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র হাতে না পায়—সে বিষয়ে দুই নেতাই একমত হয়েছেন। উপরন্তু, ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমাতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও বেশি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির আগ্রহ দেখিয়েছে চীন।

এই দ্বিপাক্ষিক সৌহার্দ্যের আবহেও ভূ-রাজনীতির সবচেয়ে সংবেদনশীল ইস্যু ‘তাইওয়ান’ নিয়ে ট্রাম্পকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সি চিন পিং। বেইজিংয়ের ‘গ্রেট হল অব দ্য পিপল’-এ অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, তাইওয়ান ইস্যুটি চীন-মার্কিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বিপজ্জনক স্ফুলিঙ্গ। এই স্পর্শকাতর বিষয়ে সামান্যতম ভুল সিদ্ধান্ত দুই পরাশক্তিকে সরাসরি সামরিক সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

জমকালো সামরিক অভিবাদন ও উষ্ণ অভ্যর্থনার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই সফরে ট্রাম্প চীনা প্রেসিডেন্টকে ‘একজন মহান নেতা’ হিসেবে সম্বোধন করেন। বিপরীতে, সি চিন পিং জোর দেন দুই দেশের ‘কৌশলগত স্থিতিশীলতা’ ও সংঘাত এড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর। বৈঠক শেষে ব্যক্তিগত সম্পর্কের রসায়নকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে রূপ দিয়ে ট্রাম্প ঘোষণা করেন, চীন উড্ডয়ন জায়ান্ট বোয়িং থেকে ২০০টি ‘৭৩৭’ মডেলের উড়োজাহাজ কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যার পাশাপাশি মার্কিন সয়াবিন ও জ্বালানি আমদানির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়াবে বেইজিং।


বিষয় : ডোনাল্ড_ট্রাম্প আন্তর্জাতিক_রাজনীতি ইরান_যুদ্ধ হরমুজ_প্রণালি তাইওয়ান_ইস্যু চীন_মার্কিন_বৈঠক বিশ্ব_অর্থনীতি বোয়িং_চুক্তি

কাল মহাকাল

মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬


ইরান যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতার বড় প্রস্তাব চীনের

প্রকাশের তারিখ : ১৫ মে ২০২৬

featured Image

মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে চলমান ইরান যুদ্ধ বন্ধে বৈশ্বিক মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম লাইফলাইন ‘হরমুজ প্রণালি’ সম্পূর্ণ সচল ও সামরিকীকরণমুক্ত রাখার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। বেইজিংয়ে দুই শীর্ষ নেতার ঐতিহাসিক বৈঠকের পর মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘ফক্স নিউজ’-কে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে খোদ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতার স্বার্থেই চীন এই যুদ্ধাবস্থার অবসান চায়। সি চিন পিং দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় স্পষ্ট করেছেন যে, রক্তক্ষয়ী এই সংঘাত থামাতে বেইজিং যেকোনো ধরনের সহায়তা করতে প্রস্তুত। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হওয়ায় জলপথটি উন্মুক্ত রাখা বেইজিংয়ের নিজস্ব স্বার্থেরই অংশ, কারণ চীন নিজেই এই পথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল আমদানি করে।

ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, সি চিন পিং ওয়াশিংটনকে আশ্বস্ত করেছেন যে বেইজিং তেহরানকে কোনো ধরনের সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করবে না। তবে কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরানি তেলের প্রধান ক্রেতা চীন হওয়ায় তেহরানের ওপর বেইজিংয়ের যে বিপুল অর্থনৈতিক প্রভাব রয়েছে, তাকে কাজে লাগিয়ে ইরানকে একটি গ্রহণযোগ্য পারমাণবিক চুক্তিতে রাজি করাতে আশাবাদী হোয়াইট হাউস।

যদিও বেইজিংয়ের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ইরান প্রসঙ্গের সরাসরি উল্লেখ মেলেনি, তবে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরান যাতে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র হাতে না পায়—সে বিষয়ে দুই নেতাই একমত হয়েছেন। উপরন্তু, ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমাতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও বেশি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির আগ্রহ দেখিয়েছে চীন।

এই দ্বিপাক্ষিক সৌহার্দ্যের আবহেও ভূ-রাজনীতির সবচেয়ে সংবেদনশীল ইস্যু ‘তাইওয়ান’ নিয়ে ট্রাম্পকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সি চিন পিং। বেইজিংয়ের ‘গ্রেট হল অব দ্য পিপল’-এ অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, তাইওয়ান ইস্যুটি চীন-মার্কিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বিপজ্জনক স্ফুলিঙ্গ। এই স্পর্শকাতর বিষয়ে সামান্যতম ভুল সিদ্ধান্ত দুই পরাশক্তিকে সরাসরি সামরিক সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

জমকালো সামরিক অভিবাদন ও উষ্ণ অভ্যর্থনার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই সফরে ট্রাম্প চীনা প্রেসিডেন্টকে ‘একজন মহান নেতা’ হিসেবে সম্বোধন করেন। বিপরীতে, সি চিন পিং জোর দেন দুই দেশের ‘কৌশলগত স্থিতিশীলতা’ ও সংঘাত এড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর। বৈঠক শেষে ব্যক্তিগত সম্পর্কের রসায়নকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে রূপ দিয়ে ট্রাম্প ঘোষণা করেন, চীন উড্ডয়ন জায়ান্ট বোয়িং থেকে ২০০টি ‘৭৩৭’ মডেলের উড়োজাহাজ কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যার পাশাপাশি মার্কিন সয়াবিন ও জ্বালানি আমদানির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়াবে বেইজিং।



কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত