জাতীয়
দেশের আনাচে-কানাচে গড়ে ওঠা মোবাইল টাওয়ারগুলো থেকে নিঃসৃত বিকিরণ বা রেডিয়েশন জনস্বাস্থ্যের জন্য কতটা হুমকিস্বরূপ, তা নিয়ে এবার নিবিড় গবেষণার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) বিশেষজ্ঞদের সরাসরি তত্ত্বাবধানে এই গবেষণা সম্পন্ন করে আগামী ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি)।
বুধবার বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমদ ভূঞার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ জনস্বার্থের এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই গুরুত্বপূর্ণ আদেশ দেন। আদালতের এই নির্দেশনার ফলে মোবাইল টাওয়ারের বিকিরণ নিয়ে দীর্ঘদিনের জনউদ্বেগ এবার বৈজ্ঞানিক পর্যালোচনার আওতায় আসছে।
আদালতের এই আদেশ মূলত এক দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা। ২০১২ সালে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে দুই আইনজীবী এই রিটটি করেছিলেন। এর আগে ২০১৯ সালে হাইকোর্টের এক রায়ে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা, হাসপাতাল, উপাসনালয় এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাদ থেকে টাওয়ার সরিয়ে নেওয়ার গাইডলাইন তৈরির পাশাপাশি বিকিরণের মাত্রা নিয়ে নিয়মিত তদারকির নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
সম্প্রতি আদালতের আহ্বানে বুয়েটের অধ্যাপক কামরুল হাসান রেডিয়েশন সংক্রান্ত একটি লিখিত প্রতিবেদন জমা দেন। সেখানে তিনি মোবাইল টাওয়ার থেকে নির্গত তেজস্ক্রিয়ার মাত্রা কমানোর জোরালো সুপারিশ করার পাশাপাশি এর দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে নিবিড় গবেষণার প্রস্তাব করেন। আদালত বিশেষজ্ঞের সেই অভিমতকে গুরুত্ব দিয়ে বিটিআরসিকে সুনির্দিষ্ট প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন।
রিট আবেদনকারীর পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ শুনানিতে বলেন, "টাওয়ারের বিকিরণে মানুষের শরীরে দীর্ঘমেয়াদী কী প্রভাব পড়ছে, তা বৈজ্ঞানিকভাবে নিরূপণ করা এখন সময়ের দাবি। আদালত আজ বুয়েটের মাধ্যমে সেই ঝুঁকি নির্ণয়ের সুনির্দিষ্ট পথনকশা তৈরি করে দিয়েছেন।"
আগামী ২ ডিসেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে বুয়েটের বিশেষজ্ঞ দল দেশের বিভিন্ন প্রান্তের টাওয়ারের বিকিরণ মাত্রা ও তার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে সরেজমিন অনুসন্ধান চালাবেন বলে জানা গেছে।
2.png)
শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ মে ২০২৬
দেশের আনাচে-কানাচে গড়ে ওঠা মোবাইল টাওয়ারগুলো থেকে নিঃসৃত বিকিরণ বা রেডিয়েশন জনস্বাস্থ্যের জন্য কতটা হুমকিস্বরূপ, তা নিয়ে এবার নিবিড় গবেষণার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) বিশেষজ্ঞদের সরাসরি তত্ত্বাবধানে এই গবেষণা সম্পন্ন করে আগামী ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি)।
বুধবার বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমদ ভূঞার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ জনস্বার্থের এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই গুরুত্বপূর্ণ আদেশ দেন। আদালতের এই নির্দেশনার ফলে মোবাইল টাওয়ারের বিকিরণ নিয়ে দীর্ঘদিনের জনউদ্বেগ এবার বৈজ্ঞানিক পর্যালোচনার আওতায় আসছে।
আদালতের এই আদেশ মূলত এক দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা। ২০১২ সালে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে দুই আইনজীবী এই রিটটি করেছিলেন। এর আগে ২০১৯ সালে হাইকোর্টের এক রায়ে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা, হাসপাতাল, উপাসনালয় এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাদ থেকে টাওয়ার সরিয়ে নেওয়ার গাইডলাইন তৈরির পাশাপাশি বিকিরণের মাত্রা নিয়ে নিয়মিত তদারকির নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
সম্প্রতি আদালতের আহ্বানে বুয়েটের অধ্যাপক কামরুল হাসান রেডিয়েশন সংক্রান্ত একটি লিখিত প্রতিবেদন জমা দেন। সেখানে তিনি মোবাইল টাওয়ার থেকে নির্গত তেজস্ক্রিয়ার মাত্রা কমানোর জোরালো সুপারিশ করার পাশাপাশি এর দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে নিবিড় গবেষণার প্রস্তাব করেন। আদালত বিশেষজ্ঞের সেই অভিমতকে গুরুত্ব দিয়ে বিটিআরসিকে সুনির্দিষ্ট প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন।
রিট আবেদনকারীর পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ শুনানিতে বলেন, "টাওয়ারের বিকিরণে মানুষের শরীরে দীর্ঘমেয়াদী কী প্রভাব পড়ছে, তা বৈজ্ঞানিকভাবে নিরূপণ করা এখন সময়ের দাবি। আদালত আজ বুয়েটের মাধ্যমে সেই ঝুঁকি নির্ণয়ের সুনির্দিষ্ট পথনকশা তৈরি করে দিয়েছেন।"
আগামী ২ ডিসেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে বুয়েটের বিশেষজ্ঞ দল দেশের বিভিন্ন প্রান্তের টাওয়ারের বিকিরণ মাত্রা ও তার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে সরেজমিন অনুসন্ধান চালাবেন বলে জানা গেছে।
2.png)