জাতীয়
বাংলাদেশে হামের সংক্রমণ এখন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। গত আড়াই দশকের সব রেকর্ড ভেঙে এ বছর আক্রান্তের সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৫১ হাজার ৫৬৭ জন ‘সন্দেহভাজন’ রোগী শনাক্ত হয়েছেন, যাদের মধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন ৪২৫ জন। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, আক্রান্ত ও মৃতদের প্রায় সবাই শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, নিশ্চিতভাবে হাম সংক্রমণ প্রমাণিত হয়েছে ৭ হাজার ২৪ জনের শরীরে। গত ২৫ বছরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০০৫ সালে দেশে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার ৯৩৪ জন রোগী পাওয়া গিয়েছিল। এরপর সংক্রমণের হার অনেকটা নিয়ন্ত্রণে চলে এলেও ২০২৬ সালের এই প্রাদুর্ভাব জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বে গত এক দশকে মাত্র চারটি দেশে বছরে ৫০ হাজারের বেশি হাম রোগী শনাক্তের রেকর্ড রয়েছে, যেখানে এবার বাংলাদেশের নাম যুক্ত হলো।
জনস্বাস্থ্যবিদ অধ্যাপক বে-নজীর আহমেদ এই পরিস্থিতির জন্য সরাসরি টিকাদান কর্মসূচির ব্যর্থতাকে দায়ী করেছেন। তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সময়মতো টিকা দিতে না পারার চড়া মাসুল দিচ্ছে আজকের শিশুরা। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “রোগীর সংখ্যা যখন ৫০ হাজার ছাড়িয়ে যায়, তখন তাকে ‘মহামারি’ না বলার কোনো কারণ নেই। সরকার একে মহামারি ঘোষণা করতে দ্বিধা করছে। অথচ স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে জাতীয় গাইডলাইন মেনে চিকিৎসা দিলে এত মৃত্যু হয়তো এড়ানো যেত।”
আইইডিসিআর-এর সাবেক প্রধান অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান এই পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে বলেন, মাত্র দুই মাসের কম সময়ের মধ্যে এত বিশাল সংখ্যক মানুষের আক্রান্ত হওয়া সত্যিই মারাত্মক। গত ২৪ ঘণ্টাতেও ৯ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং নতুন করে ১ হাজার ১০৫ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। সংক্রমণের এই ঊর্ধ্বগতির পেছনে কেবল টিকার অভাব নয়, বরং শিশুদের পুষ্টির ঘাটতিকেও অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন চিকিৎসকরা।
অন্যতম জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. মুশতাক হোসেন মনে করেন, বর্তমান সরকারেরও এই মৃত্যুর দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। তার মতে, চিকিৎসাব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরণ এবং প্রাথমিক স্তরে সঠিক সেবা নিশ্চিত করা গেলে শিশুমৃত্যুর হার অনেকটা রোধ করা সম্ভব ছিল। বর্তমানে আক্রান্তের হার যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিষয় : হাম মহামারী শিশু মৃত্যু
2.png)
শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ মে ২০২৬
বাংলাদেশে হামের সংক্রমণ এখন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। গত আড়াই দশকের সব রেকর্ড ভেঙে এ বছর আক্রান্তের সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৫১ হাজার ৫৬৭ জন ‘সন্দেহভাজন’ রোগী শনাক্ত হয়েছেন, যাদের মধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন ৪২৫ জন। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, আক্রান্ত ও মৃতদের প্রায় সবাই শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, নিশ্চিতভাবে হাম সংক্রমণ প্রমাণিত হয়েছে ৭ হাজার ২৪ জনের শরীরে। গত ২৫ বছরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০০৫ সালে দেশে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার ৯৩৪ জন রোগী পাওয়া গিয়েছিল। এরপর সংক্রমণের হার অনেকটা নিয়ন্ত্রণে চলে এলেও ২০২৬ সালের এই প্রাদুর্ভাব জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বে গত এক দশকে মাত্র চারটি দেশে বছরে ৫০ হাজারের বেশি হাম রোগী শনাক্তের রেকর্ড রয়েছে, যেখানে এবার বাংলাদেশের নাম যুক্ত হলো।
জনস্বাস্থ্যবিদ অধ্যাপক বে-নজীর আহমেদ এই পরিস্থিতির জন্য সরাসরি টিকাদান কর্মসূচির ব্যর্থতাকে দায়ী করেছেন। তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সময়মতো টিকা দিতে না পারার চড়া মাসুল দিচ্ছে আজকের শিশুরা। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “রোগীর সংখ্যা যখন ৫০ হাজার ছাড়িয়ে যায়, তখন তাকে ‘মহামারি’ না বলার কোনো কারণ নেই। সরকার একে মহামারি ঘোষণা করতে দ্বিধা করছে। অথচ স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে জাতীয় গাইডলাইন মেনে চিকিৎসা দিলে এত মৃত্যু হয়তো এড়ানো যেত।”
আইইডিসিআর-এর সাবেক প্রধান অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান এই পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে বলেন, মাত্র দুই মাসের কম সময়ের মধ্যে এত বিশাল সংখ্যক মানুষের আক্রান্ত হওয়া সত্যিই মারাত্মক। গত ২৪ ঘণ্টাতেও ৯ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং নতুন করে ১ হাজার ১০৫ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। সংক্রমণের এই ঊর্ধ্বগতির পেছনে কেবল টিকার অভাব নয়, বরং শিশুদের পুষ্টির ঘাটতিকেও অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন চিকিৎসকরা।
অন্যতম জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. মুশতাক হোসেন মনে করেন, বর্তমান সরকারেরও এই মৃত্যুর দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। তার মতে, চিকিৎসাব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরণ এবং প্রাথমিক স্তরে সঠিক সেবা নিশ্চিত করা গেলে শিশুমৃত্যুর হার অনেকটা রোধ করা সম্ভব ছিল। বর্তমানে আক্রান্তের হার যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
2.png)