জাতীয়
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলের বিশাল এক জনপদের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন অবশেষে বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। পানি সংকটে ধুঁকতে থাকা ২৪টি জেলার মানুষের ভাগ্যবদলে ৩৫ হাজার কোটি টাকার ‘পদ্মা ব্যারাজ’ প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। বুধবার শেরে বাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় জনগুরুত্বপূর্ণ এই মেগা প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়।
সভা শেষে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি সাংবাদিকদের জানান, এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের এক-তৃতীয়াংশ অঞ্চলের প্রায় ৭ কোটি মানুষ সরাসরি এর সুফল ভোগ করবেন। তিনি একে একটি ‘মাস্টারমাইন্ড প্রকল্প’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, “ফারাক্কা বাঁধের বিরূপ প্রভাবে আমাদের নদ-নদীগুলো প্রতি বছর শুকিয়ে মরুভূমি হয়ে যায়। সৃষ্টি হয় তীব্র খরা, লবণাক্ততা ও ভয়াবহ জলাবদ্ধতা। এই সংকট থেকে উত্তরণ এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর রক্ষায় পদ্মা ব্যারাজ একটি স্থায়ী ও বৈপ্লবিক সমাধান।”
মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, এই ব্যারাজ নির্মাণ ছিল বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান নির্বাচনী অঙ্গীকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনী জনসভাগুলোতে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, আজকের অনুমোদনের মাধ্যমে তা পূর্ণতার পথে একধাপ এগিয়ে গেল।
প্রকল্পের কারিগরি দিক তুলে ধরে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় পদ্মার বুকে ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ মূল ব্যারাজটি নির্মিত হবে। এই বিশাল অবকাঠামোর মাধ্যমে প্রায় ২৯০ কোটি ঘনমিটার পানি সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে, যা শুষ্ক মৌসুমে দেশের পাঁচটি মরাপ্রায় নদ-নদীকে নতুন প্রাণ দান করবে। পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, সংরক্ষিত পানি থেকে শুষ্ক মৌসুমে নদীগুলোতে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৮০০ ঘনমিটার পানি সরবরাহ করা যাবে। সেচ সুবিধার পাশাপাশি এই প্রকল্প থেকে ১১৩ মেগাওয়াট সক্ষমতার একটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনেরও পরিকল্পনা রয়েছে, যা জাতীয় গ্রিডে বাড়তি বিদ্যুৎ যোগ করবে।
উল্লেখ্য, ২০০৯ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে এই প্রকল্পের প্রথম সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড এর বিস্তারিত নকশা প্রণয়ন সম্পন্ন করে। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই মেগা প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখায় অবহেলিত জনপদগুলোতে এখন নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। প্রকল্পটির মাধ্যমে কেবল কৃষি নয়, মৎস্য চাষ ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায়ও যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিষয় : তারেক রহমান পদ্মা ব্যারেজ
2.png)
শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ মে ২০২৬
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলের বিশাল এক জনপদের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন অবশেষে বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। পানি সংকটে ধুঁকতে থাকা ২৪টি জেলার মানুষের ভাগ্যবদলে ৩৫ হাজার কোটি টাকার ‘পদ্মা ব্যারাজ’ প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। বুধবার শেরে বাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় জনগুরুত্বপূর্ণ এই মেগা প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়।
সভা শেষে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি সাংবাদিকদের জানান, এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের এক-তৃতীয়াংশ অঞ্চলের প্রায় ৭ কোটি মানুষ সরাসরি এর সুফল ভোগ করবেন। তিনি একে একটি ‘মাস্টারমাইন্ড প্রকল্প’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, “ফারাক্কা বাঁধের বিরূপ প্রভাবে আমাদের নদ-নদীগুলো প্রতি বছর শুকিয়ে মরুভূমি হয়ে যায়। সৃষ্টি হয় তীব্র খরা, লবণাক্ততা ও ভয়াবহ জলাবদ্ধতা। এই সংকট থেকে উত্তরণ এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর রক্ষায় পদ্মা ব্যারাজ একটি স্থায়ী ও বৈপ্লবিক সমাধান।”
মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, এই ব্যারাজ নির্মাণ ছিল বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান নির্বাচনী অঙ্গীকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনী জনসভাগুলোতে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, আজকের অনুমোদনের মাধ্যমে তা পূর্ণতার পথে একধাপ এগিয়ে গেল।
প্রকল্পের কারিগরি দিক তুলে ধরে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় পদ্মার বুকে ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ মূল ব্যারাজটি নির্মিত হবে। এই বিশাল অবকাঠামোর মাধ্যমে প্রায় ২৯০ কোটি ঘনমিটার পানি সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে, যা শুষ্ক মৌসুমে দেশের পাঁচটি মরাপ্রায় নদ-নদীকে নতুন প্রাণ দান করবে। পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, সংরক্ষিত পানি থেকে শুষ্ক মৌসুমে নদীগুলোতে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৮০০ ঘনমিটার পানি সরবরাহ করা যাবে। সেচ সুবিধার পাশাপাশি এই প্রকল্প থেকে ১১৩ মেগাওয়াট সক্ষমতার একটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনেরও পরিকল্পনা রয়েছে, যা জাতীয় গ্রিডে বাড়তি বিদ্যুৎ যোগ করবে।
উল্লেখ্য, ২০০৯ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে এই প্রকল্পের প্রথম সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড এর বিস্তারিত নকশা প্রণয়ন সম্পন্ন করে। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই মেগা প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখায় অবহেলিত জনপদগুলোতে এখন নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। প্রকল্পটির মাধ্যমে কেবল কৃষি নয়, মৎস্য চাষ ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায়ও যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
2.png)