খেলা
রাওয়ালপিন্ডির সেই মহাকাব্যিক জয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার মিরপুরের আঙিনায় পাকিস্তানের বিপক্ষে ইতিহাসের নতুন অধ্যায় রচনা করল বাংলাদেশ। শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম টেস্টে ১০৪ রানের দাপুটে জয়ে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল টাইগাররা। সাদা পোশাকে নিজেদের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে এটিই বাংলাদেশের প্রথম জয়, যা দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।
চতুর্থ ও পঞ্চম দিনের স্নায়ুক্ষয়ী লড়াই শেষে মঙ্গলবার পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংস থমকে যায় মাত্র ১৬৩ রানে। জয়ের জন্য ২৬৮ রানের লক্ষ্যে খেলতে নামা সফরকারীরা এক পর্যায়ে ৪ উইকেটে ১১৯ রান তুলে প্রতিরোধ গড়ার আভাস দিচ্ছিল। তবে তরুণ পেসার নাহিদ রানার আগুনে বোলিংয়ের সামনে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে শান মাসুদের দলের মিডল ও লোয়ার অর্ডার। মাত্র ৪৪ রানের ব্যবধানে শেষ ৭ উইকেট হারিয়ে লড়াই থেকে ছিটকে যায় পাকিস্তান।
নিজের টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম ‘ফাইফার’ বা ৫ উইকেট শিকার করে জয়ের নায়ক বনে যান নাহিদ রানা। মাত্র ৪০ রান খরচায় তিনি পাকিস্তানের ব্যাটিং মেরুদণ্ড ভেঙে দেন। তাকে যোগ্য সঙ্গ দিয়েছেন অভিজ্ঞ তাইজুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদ; উভয়েই নিয়েছেন দুটি করে উইকেট। পাকিস্তানের পক্ষে আব্দুল্লাহ ফজল ৬৬ রানের লড়াকু ইনিংস খেললেও বাকিদের ব্যর্থতায় তা কেবল হারের ব্যবধানই কমিয়েছে।
এর আগে ৩ উইকেটে ১৫২ রান নিয়ে পঞ্চম দিনের খেলা শুরু করা বাংলাদেশ ৯ উইকেটে ২৪০ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও ছিলেন অনবদ্য। তবে মাত্র ১৩ রানের জন্য ব্যাক-টু-ব্যাক সেঞ্চুরির এক বিরল রেকর্ড হাতছাড়া হয় তার। ৮৭ রানের ঝকঝকে ইনিংস খেলে সাজঘরে ফেরেন তিনি। এছাড়া মমিনুল হকের ৫৬ এবং শেষ দিকে মেহেদি মিরাজ ও তাসকিনের ছোট কিন্তু কার্যকর ইনিংসগুলো পাকিস্তানকে বড় লক্ষ্য দেওয়ার কাজ সহজ করে দেয়।
এর আগে ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের সেরা সাফল্য ছিল ২০১৫ সালের খুলনা টেস্টের ড্র। দীর্ঘ ১১ বছর পর সেই আক্ষেপ মিটিয়ে জয়ের উৎসবে মাতল মিরপুর। ম্যাচজয়ী ইনিংস ও সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ায় ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। আগামী টেস্টে এই ছন্দ ধরে রেখে সিরিজ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে বাংলাদেশ।
সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড বাংলাদেশ: ১ম ইনিংস ৪১৩/১০ এবং ২য় ইনিংস ২৪০/৯ (ডিক্লে.) (নাজমুল ৮৭, মুমিনুল ৫৬; হাসান ৩/৫২, নোমান ৩/৭৬)। পাকিস্তান: ১ম ইনিংস ৩৮৬/১০ এবং ২য় ইনিংস ১৬৩/১০ (ফজল ৬৬, সালমান ২৬; নাহিদ রানা ৫/৪০, তাইজুল ২/২২)। ফল: বাংলাদেশ ১০৪ রানে জয়ী। ম্যাচসেরা: নাজমুল হোসেন শান্ত।
2.png)
শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ মে ২০২৬
রাওয়ালপিন্ডির সেই মহাকাব্যিক জয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার মিরপুরের আঙিনায় পাকিস্তানের বিপক্ষে ইতিহাসের নতুন অধ্যায় রচনা করল বাংলাদেশ। শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম টেস্টে ১০৪ রানের দাপুটে জয়ে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল টাইগাররা। সাদা পোশাকে নিজেদের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে এটিই বাংলাদেশের প্রথম জয়, যা দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।
চতুর্থ ও পঞ্চম দিনের স্নায়ুক্ষয়ী লড়াই শেষে মঙ্গলবার পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংস থমকে যায় মাত্র ১৬৩ রানে। জয়ের জন্য ২৬৮ রানের লক্ষ্যে খেলতে নামা সফরকারীরা এক পর্যায়ে ৪ উইকেটে ১১৯ রান তুলে প্রতিরোধ গড়ার আভাস দিচ্ছিল। তবে তরুণ পেসার নাহিদ রানার আগুনে বোলিংয়ের সামনে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে শান মাসুদের দলের মিডল ও লোয়ার অর্ডার। মাত্র ৪৪ রানের ব্যবধানে শেষ ৭ উইকেট হারিয়ে লড়াই থেকে ছিটকে যায় পাকিস্তান।
নিজের টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম ‘ফাইফার’ বা ৫ উইকেট শিকার করে জয়ের নায়ক বনে যান নাহিদ রানা। মাত্র ৪০ রান খরচায় তিনি পাকিস্তানের ব্যাটিং মেরুদণ্ড ভেঙে দেন। তাকে যোগ্য সঙ্গ দিয়েছেন অভিজ্ঞ তাইজুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদ; উভয়েই নিয়েছেন দুটি করে উইকেট। পাকিস্তানের পক্ষে আব্দুল্লাহ ফজল ৬৬ রানের লড়াকু ইনিংস খেললেও বাকিদের ব্যর্থতায় তা কেবল হারের ব্যবধানই কমিয়েছে।
এর আগে ৩ উইকেটে ১৫২ রান নিয়ে পঞ্চম দিনের খেলা শুরু করা বাংলাদেশ ৯ উইকেটে ২৪০ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও ছিলেন অনবদ্য। তবে মাত্র ১৩ রানের জন্য ব্যাক-টু-ব্যাক সেঞ্চুরির এক বিরল রেকর্ড হাতছাড়া হয় তার। ৮৭ রানের ঝকঝকে ইনিংস খেলে সাজঘরে ফেরেন তিনি। এছাড়া মমিনুল হকের ৫৬ এবং শেষ দিকে মেহেদি মিরাজ ও তাসকিনের ছোট কিন্তু কার্যকর ইনিংসগুলো পাকিস্তানকে বড় লক্ষ্য দেওয়ার কাজ সহজ করে দেয়।
এর আগে ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের সেরা সাফল্য ছিল ২০১৫ সালের খুলনা টেস্টের ড্র। দীর্ঘ ১১ বছর পর সেই আক্ষেপ মিটিয়ে জয়ের উৎসবে মাতল মিরপুর। ম্যাচজয়ী ইনিংস ও সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ায় ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। আগামী টেস্টে এই ছন্দ ধরে রেখে সিরিজ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে বাংলাদেশ।
সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড বাংলাদেশ: ১ম ইনিংস ৪১৩/১০ এবং ২য় ইনিংস ২৪০/৯ (ডিক্লে.) (নাজমুল ৮৭, মুমিনুল ৫৬; হাসান ৩/৫২, নোমান ৩/৭৬)। পাকিস্তান: ১ম ইনিংস ৩৮৬/১০ এবং ২য় ইনিংস ১৬৩/১০ (ফজল ৬৬, সালমান ২৬; নাহিদ রানা ৫/৪০, তাইজুল ২/২২)। ফল: বাংলাদেশ ১০৪ রানে জয়ী। ম্যাচসেরা: নাজমুল হোসেন শান্ত।
2.png)