জাতীয়
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা স্বস্তিদায়ক ও নিরাপদ করতে একগুচ্ছ পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। পোশাক কারখানায় ধাপে ধাপে ছুটি কার্যকর, মহাসড়কের পাশে পশুর হাট নিয়ন্ত্রণ, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ এবং যানজট মোকাবিলায় বিশেষ নজরদারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১১ মে) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত ঈদযাত্রা প্রস্তুতি সভা শেষে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানান সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
মন্ত্রী বলেন, গত ঈদে যেসব দুর্ভোগ ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল, সেগুলো থেকে শিক্ষা নিয়েই এবার আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে গার্মেন্টস শ্রমিকদের একসঙ্গে ছুটি হওয়ায় যে বাড়তি চাপ তৈরি হয়, তা কমাতে ধাপে ধাপে ছুটির বিষয়ে মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।
তিনি জানান, সরকার তিন বা চার ধাপে ছুটি কার্যকরের পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছে। মালিকপক্ষও এ বিষয়ে ইতিবাচক আশ্বাস দিয়েছে। তবে আগেরবার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না হওয়ায় এবারও পুরোপুরি নিশ্চিন্ত হতে পারছেন না বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী।
সভা শেষে মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে ২০ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত বিআরটিএ সদর দপ্তরে ২৪ ঘণ্টার কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালু থাকবে। এই নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক, টোলপ্লাজা ও যানজটপ্রবণ এলাকার পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হবে।
অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, অতিরিক্ত যাত্রী বহন এবং অনিয়ম ঠেকাতে রাজধানীর গাবতলী, সায়েদাবাদ, মহাখালী ও ফুলবাড়িয়াসহ দেশের সব বড় বাস টার্মিনালে বিশেষ মনিটরিং ও ভিজিল্যান্স টিম মোতায়েন করা হবে।
ঈদকে কেন্দ্র করে সারা দেশে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রমও জোরদার করা হচ্ছে। বিআরটিএর ১৯ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের পাশাপাশি আরও ৫০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করবেন।
যানজট ও নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণে ঈদের সাত দিন আগে থেকে ঈদের পরবর্তী তিন দিন পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ টোলপ্লাজা ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিজিবি মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও রোভার স্কাউট সদস্যদেরও দায়িত্ব পালন করতে দেখা যাবে সড়কে।
সাধারণ যাত্রীদের চাপ সামাল দিতে বিআরটিসি ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় বিশেষ ঈদ সার্ভিস চালাবে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত বাস প্রস্তুত রাখার কথাও জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে মেট্রোরেলের ‘পিক আওয়ার’ ব্যবস্থাপনাও নতুনভাবে সমন্বয় করা হবে।
সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে দুর্ঘটনাপ্রবণ মহাসড়কে ‘কনভেক্স ব্লাইন্ড স্পট মিরর’ স্থাপন, ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পেশাদার চালকদের ডোপ টেস্ট কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের ১০টি বিশেষজ্ঞ দল এই কার্যক্রমে অংশ নেবে।
সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় রেলপথ মন্ত্রণালয় ও সড়ক পরিবহন সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং পরিবহন খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
2.png)
শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ মে ২০২৬
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা স্বস্তিদায়ক ও নিরাপদ করতে একগুচ্ছ পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। পোশাক কারখানায় ধাপে ধাপে ছুটি কার্যকর, মহাসড়কের পাশে পশুর হাট নিয়ন্ত্রণ, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ এবং যানজট মোকাবিলায় বিশেষ নজরদারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১১ মে) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত ঈদযাত্রা প্রস্তুতি সভা শেষে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানান সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
মন্ত্রী বলেন, গত ঈদে যেসব দুর্ভোগ ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল, সেগুলো থেকে শিক্ষা নিয়েই এবার আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে গার্মেন্টস শ্রমিকদের একসঙ্গে ছুটি হওয়ায় যে বাড়তি চাপ তৈরি হয়, তা কমাতে ধাপে ধাপে ছুটির বিষয়ে মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।
তিনি জানান, সরকার তিন বা চার ধাপে ছুটি কার্যকরের পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছে। মালিকপক্ষও এ বিষয়ে ইতিবাচক আশ্বাস দিয়েছে। তবে আগেরবার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না হওয়ায় এবারও পুরোপুরি নিশ্চিন্ত হতে পারছেন না বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী।
সভা শেষে মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে ২০ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত বিআরটিএ সদর দপ্তরে ২৪ ঘণ্টার কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালু থাকবে। এই নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক, টোলপ্লাজা ও যানজটপ্রবণ এলাকার পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হবে।
অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, অতিরিক্ত যাত্রী বহন এবং অনিয়ম ঠেকাতে রাজধানীর গাবতলী, সায়েদাবাদ, মহাখালী ও ফুলবাড়িয়াসহ দেশের সব বড় বাস টার্মিনালে বিশেষ মনিটরিং ও ভিজিল্যান্স টিম মোতায়েন করা হবে।
ঈদকে কেন্দ্র করে সারা দেশে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রমও জোরদার করা হচ্ছে। বিআরটিএর ১৯ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের পাশাপাশি আরও ৫০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করবেন।
যানজট ও নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণে ঈদের সাত দিন আগে থেকে ঈদের পরবর্তী তিন দিন পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ টোলপ্লাজা ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিজিবি মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও রোভার স্কাউট সদস্যদেরও দায়িত্ব পালন করতে দেখা যাবে সড়কে।
সাধারণ যাত্রীদের চাপ সামাল দিতে বিআরটিসি ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় বিশেষ ঈদ সার্ভিস চালাবে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত বাস প্রস্তুত রাখার কথাও জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে মেট্রোরেলের ‘পিক আওয়ার’ ব্যবস্থাপনাও নতুনভাবে সমন্বয় করা হবে।
সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে দুর্ঘটনাপ্রবণ মহাসড়কে ‘কনভেক্স ব্লাইন্ড স্পট মিরর’ স্থাপন, ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পেশাদার চালকদের ডোপ টেস্ট কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের ১০টি বিশেষজ্ঞ দল এই কার্যক্রমে অংশ নেবে।
সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় রেলপথ মন্ত্রণালয় ও সড়ক পরিবহন সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং পরিবহন খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
2.png)