জাতীয়
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে উন্নয়ন প্রকল্পের নামে নজিরবিহীন লুটপাটের চিত্র তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর অভিযোগ, বিগত সরকারের সময় কোনো বাস্তব কাজ না করেই শুধু কাগজপত্রের কারসাজিতে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। সোমবার (১১ মে) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ‘পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশের প্রতিটি খাতের রুগ্ণ দশার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আমরা এক বিধ্বস্ত ও ভঙ্গুর অর্থনীতি উত্তরাধিকার হিসেবে পেয়েছি। অডিটর জেনারেলের রিপোর্টে যে দুর্নীতির চিত্র উঠে এসেছে, তা রীতিমতো আঁতকে ওঠার মতো।" রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, "বিদেশিদের ভবনের জন্য একেকটি বালিশের দাম ধরা হয়েছে ৮০ হাজার টাকা, আর ড্রেসিং টেবিলের দাম ৪ থেকে ৫ লাখ! প্রতিবেশী দেশে সমমানের একটি প্রকল্প যেখানে ১৪ হাজার কোটি টাকায় শেষ হয়, সেখানে রূপপুরে ১ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের হিসাব দেখানো হয়েছে।"
উন্নয়ন প্রকল্পের নামে হরিলুটের আরও কিছু উদাহরণ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, কর্ণফুলী টানেলের ওপারে অপ্রয়োজনীয় বিলাসবহুল ভবনে শত শত কোটি টাকা ঢালা হয়েছে। এমনকি গাছ লাগানোর নামে ৫০ কোটি টাকা তুলে নেওয়া হলেও বাস্তবে কোনো গাছের অস্তিত্ব মেলেনি। পিরোজপুরে এলজিআরডির ৩৫০০ কোটি টাকা স্রেফ কাগজ দেখিয়ে লোপাট করার তথ্যও তিনি সভায় প্রকাশ করেন।
পদ্মা সেতুর নির্মাণ ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তুলে তারেক রহমান বলেন, "ভূপেন হাজারিকা সেতুর তুলনায় পদ্মা সেতুর ব্যয় কয়েক গুণ বেশি দেখানো হয়েছে। এই যে অপ্রয়োজনীয় ঋণের বোঝা, তা আজ দেশের ২০ কোটি মানুষের ঘাড়ে চেপে বসেছে। এই অর্থ সাশ্রয় হলে আজ পুলিশ, সেনাবাহিনী কিংবা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে আমরা অনেক বড় বিনিয়োগ করতে পারতাম।"
রাষ্ট্রীয় ব্যয় কমাতে বর্তমান সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, মন্ত্রিসভার সদস্যদের জ্বালানি তেলের বরাদ্দ ৩০ শতাংশ কমানো হয়েছে। তবে জনস্বার্থে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস বা জরুরি স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে এই কৃচ্ছ্রসাধন নীতি শিথিল থাকবে।
উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী পেশাদারিত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, "অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই। পোস্টিং বা পদোন্নতির মোহে পড়ে কোনো দলের দাসে পরিণত হওয়া যাবে না। আপনাদের মনে রাখতে হবে, আপনারা কোনো দলের নয়, বরং আইনের রক্ষক।" জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে একটি বৈষম্যহীন ও উন্নত বাংলাদেশ গড়তে 'আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ' স্লোগানকে হৃদয়ে ধারণ করার পরামর্শ দেন তিনি।
2.png)
শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ মে ২০২৬
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে উন্নয়ন প্রকল্পের নামে নজিরবিহীন লুটপাটের চিত্র তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর অভিযোগ, বিগত সরকারের সময় কোনো বাস্তব কাজ না করেই শুধু কাগজপত্রের কারসাজিতে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। সোমবার (১১ মে) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ‘পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশের প্রতিটি খাতের রুগ্ণ দশার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আমরা এক বিধ্বস্ত ও ভঙ্গুর অর্থনীতি উত্তরাধিকার হিসেবে পেয়েছি। অডিটর জেনারেলের রিপোর্টে যে দুর্নীতির চিত্র উঠে এসেছে, তা রীতিমতো আঁতকে ওঠার মতো।" রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, "বিদেশিদের ভবনের জন্য একেকটি বালিশের দাম ধরা হয়েছে ৮০ হাজার টাকা, আর ড্রেসিং টেবিলের দাম ৪ থেকে ৫ লাখ! প্রতিবেশী দেশে সমমানের একটি প্রকল্প যেখানে ১৪ হাজার কোটি টাকায় শেষ হয়, সেখানে রূপপুরে ১ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের হিসাব দেখানো হয়েছে।"
উন্নয়ন প্রকল্পের নামে হরিলুটের আরও কিছু উদাহরণ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, কর্ণফুলী টানেলের ওপারে অপ্রয়োজনীয় বিলাসবহুল ভবনে শত শত কোটি টাকা ঢালা হয়েছে। এমনকি গাছ লাগানোর নামে ৫০ কোটি টাকা তুলে নেওয়া হলেও বাস্তবে কোনো গাছের অস্তিত্ব মেলেনি। পিরোজপুরে এলজিআরডির ৩৫০০ কোটি টাকা স্রেফ কাগজ দেখিয়ে লোপাট করার তথ্যও তিনি সভায় প্রকাশ করেন।
পদ্মা সেতুর নির্মাণ ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তুলে তারেক রহমান বলেন, "ভূপেন হাজারিকা সেতুর তুলনায় পদ্মা সেতুর ব্যয় কয়েক গুণ বেশি দেখানো হয়েছে। এই যে অপ্রয়োজনীয় ঋণের বোঝা, তা আজ দেশের ২০ কোটি মানুষের ঘাড়ে চেপে বসেছে। এই অর্থ সাশ্রয় হলে আজ পুলিশ, সেনাবাহিনী কিংবা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে আমরা অনেক বড় বিনিয়োগ করতে পারতাম।"
রাষ্ট্রীয় ব্যয় কমাতে বর্তমান সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, মন্ত্রিসভার সদস্যদের জ্বালানি তেলের বরাদ্দ ৩০ শতাংশ কমানো হয়েছে। তবে জনস্বার্থে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস বা জরুরি স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে এই কৃচ্ছ্রসাধন নীতি শিথিল থাকবে।
উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী পেশাদারিত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, "অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই। পোস্টিং বা পদোন্নতির মোহে পড়ে কোনো দলের দাসে পরিণত হওয়া যাবে না। আপনাদের মনে রাখতে হবে, আপনারা কোনো দলের নয়, বরং আইনের রক্ষক।" জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে একটি বৈষম্যহীন ও উন্নত বাংলাদেশ গড়তে 'আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ' স্লোগানকে হৃদয়ে ধারণ করার পরামর্শ দেন তিনি।
2.png)