জাতীয়
স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এবার এক নতুন ও কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। দীর্ঘ ১৫ বছরের পুরোনো সংস্কৃতি বদলে এবার ভোটের মাঠে বড় পরিবর্তনের আভাস মিলছে। একদিকে নির্বাচনে থাকছে না দলীয় প্রতীক, অন্যদিকে পুলিশ ও প্রশাসনের সহায়তায় জেতার চিরাচরিত পথ বন্ধ করে দিয়েছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সোজা কথায়, এবার আর টেবিল কাস্টিং নয়, সরাসরি জনগণের দুয়ারে গিয়ে ভোট ভিক্ষা করেই জিততে হবে প্রার্থীদের।
শনিবার বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের সাথে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, নির্বাচনে কোনো রকম প্রশাসনিক প্রভাব খাটানো চলবে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থাকবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ। তার এই কঠোর বার্তা তৃণমূল নেতাদের জন্য একাধারে সতর্কবাণী এবং বড় চ্যালেঞ্জ। বিগত দেড় দশকে শেখ হাসিনার আমলে প্রশাসন ও দল একাট্টা হয়ে ভোট করার যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, তা থেকে বেরিয়ে আসার লড়াইটা এখন বিএনপির নিজেরই।
এবারের নির্বাচনে বিএনপির জন্য মাঠ খালি নেই। দলীয় প্রতীক না থাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগের ‘ক্লিন ইমেজ’ সম্পন্ন প্রভাবশালীরা স্বতন্ত্র পরিচয়ে মাঠে নামতে পারেন। তবে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। জামায়াত অনেক আগে থেকেই তাদের প্রার্থী চূড়ান্ত করে নির্বাচনি তৎপরতা শুরু করেছে। অন্যদিকে, এনসিপি ইতোমধ্যে ১০০টি উপজেলা ও পৌরসভায় তাদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে চমক দিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জাতীয় রাজনীতি আর স্থানীয় নির্বাচনের সমীকরণ আলাদা। এখানে প্রার্থীর ব্যক্তিগত ভাবমূর্তির গুরুত্ব বেশি। ফলে প্রতিপক্ষ যখন সুশৃঙ্খলভাবে মাঠে আছে, তখন বিএনপিকে ঘরোয়া কোন্দল মেটাতেই অনেকটা সময় ব্যয় করতে হচ্ছে।
বিএনপির ভেতরে এখন সবচেয়ে বড় ভয় ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী নিয়ে। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনেও দলের প্রধানের কঠোর নির্দেশনা সত্ত্বেও অর্ধশতাধিক জায়গায় নিজ দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহীরা দাঁড়িয়েছিলেন, যার মাশুল দিতে হয়েছে অনেক আসন হারিয়ে। স্থানীয় নির্বাচনেও যদি এক পদে একাধিক নেতা অনড় থাকেন, তবে ভোট ভাগাভাগির সুবিধা নেবে জামায়াত বা এনসিপির মতো দলগুলো।
অবশ্য বিএনপির নীতিনির্ধারকরা এই চ্যালেঞ্জকে বিশেষ কিছু মনে করছেন না। দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছেন, জয়-পরাজয় মুখ্য নয়, বরং গণতন্ত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ পরিবেশ নিশ্চিত করাই বিএনপির মূল কাজ। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, জোর করে জেতার দিন শেষ।
স্থানীয় সরকার ও নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ড. বদিউল আলম মজুমদার মনে করেন, নির্বাচন যত দেরি হবে, ক্ষমতাসীনদের প্রতিদ্বন্দ্বী তত বাড়বে। তাঁর মতে, এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করা। সরকারের নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই শুরু হতে পারে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন।
সব মিলিয়ে, দীর্ঘ ১৫ বছর পর একটি প্রতিযোগিতামূলক ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে নিজেদের জনপ্রিয়তা প্রমাণের দায় এখন বিএনপির কাঁধে। দল কি পারবে অভ্যন্তরীণ কোন্দল মিটিয়ে একাট্টা হয়ে মাঠ দখলে রাখতে? নাকি প্রশাসনিক সুবিধা ছাড়া লড়তে গিয়ে ধাক্কা খাবে তৃণমূলের অনেক নেতা? উত্তরটা হয়তো ডিসেম্বরের ভোটেই পাওয়া যাবে।
2.png)
শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ মে ২০২৬
স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এবার এক নতুন ও কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। দীর্ঘ ১৫ বছরের পুরোনো সংস্কৃতি বদলে এবার ভোটের মাঠে বড় পরিবর্তনের আভাস মিলছে। একদিকে নির্বাচনে থাকছে না দলীয় প্রতীক, অন্যদিকে পুলিশ ও প্রশাসনের সহায়তায় জেতার চিরাচরিত পথ বন্ধ করে দিয়েছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সোজা কথায়, এবার আর টেবিল কাস্টিং নয়, সরাসরি জনগণের দুয়ারে গিয়ে ভোট ভিক্ষা করেই জিততে হবে প্রার্থীদের।
শনিবার বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের সাথে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, নির্বাচনে কোনো রকম প্রশাসনিক প্রভাব খাটানো চলবে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থাকবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ। তার এই কঠোর বার্তা তৃণমূল নেতাদের জন্য একাধারে সতর্কবাণী এবং বড় চ্যালেঞ্জ। বিগত দেড় দশকে শেখ হাসিনার আমলে প্রশাসন ও দল একাট্টা হয়ে ভোট করার যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, তা থেকে বেরিয়ে আসার লড়াইটা এখন বিএনপির নিজেরই।
এবারের নির্বাচনে বিএনপির জন্য মাঠ খালি নেই। দলীয় প্রতীক না থাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগের ‘ক্লিন ইমেজ’ সম্পন্ন প্রভাবশালীরা স্বতন্ত্র পরিচয়ে মাঠে নামতে পারেন। তবে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। জামায়াত অনেক আগে থেকেই তাদের প্রার্থী চূড়ান্ত করে নির্বাচনি তৎপরতা শুরু করেছে। অন্যদিকে, এনসিপি ইতোমধ্যে ১০০টি উপজেলা ও পৌরসভায় তাদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে চমক দিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জাতীয় রাজনীতি আর স্থানীয় নির্বাচনের সমীকরণ আলাদা। এখানে প্রার্থীর ব্যক্তিগত ভাবমূর্তির গুরুত্ব বেশি। ফলে প্রতিপক্ষ যখন সুশৃঙ্খলভাবে মাঠে আছে, তখন বিএনপিকে ঘরোয়া কোন্দল মেটাতেই অনেকটা সময় ব্যয় করতে হচ্ছে।
বিএনপির ভেতরে এখন সবচেয়ে বড় ভয় ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী নিয়ে। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনেও দলের প্রধানের কঠোর নির্দেশনা সত্ত্বেও অর্ধশতাধিক জায়গায় নিজ দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহীরা দাঁড়িয়েছিলেন, যার মাশুল দিতে হয়েছে অনেক আসন হারিয়ে। স্থানীয় নির্বাচনেও যদি এক পদে একাধিক নেতা অনড় থাকেন, তবে ভোট ভাগাভাগির সুবিধা নেবে জামায়াত বা এনসিপির মতো দলগুলো।
অবশ্য বিএনপির নীতিনির্ধারকরা এই চ্যালেঞ্জকে বিশেষ কিছু মনে করছেন না। দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছেন, জয়-পরাজয় মুখ্য নয়, বরং গণতন্ত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ পরিবেশ নিশ্চিত করাই বিএনপির মূল কাজ। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, জোর করে জেতার দিন শেষ।
স্থানীয় সরকার ও নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ড. বদিউল আলম মজুমদার মনে করেন, নির্বাচন যত দেরি হবে, ক্ষমতাসীনদের প্রতিদ্বন্দ্বী তত বাড়বে। তাঁর মতে, এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করা। সরকারের নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই শুরু হতে পারে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন।
সব মিলিয়ে, দীর্ঘ ১৫ বছর পর একটি প্রতিযোগিতামূলক ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে নিজেদের জনপ্রিয়তা প্রমাণের দায় এখন বিএনপির কাঁধে। দল কি পারবে অভ্যন্তরীণ কোন্দল মিটিয়ে একাট্টা হয়ে মাঠ দখলে রাখতে? নাকি প্রশাসনিক সুবিধা ছাড়া লড়তে গিয়ে ধাক্কা খাবে তৃণমূলের অনেক নেতা? উত্তরটা হয়তো ডিসেম্বরের ভোটেই পাওয়া যাবে।
2.png)