জাতীয়
দীর্ঘ এক বছরের আইনি লড়াই শেষে কারামুক্তির দোরগোড়ায় দাঁড়িয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী। হত্যা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়াসহ তাঁর বিরুদ্ধে করা পৃথক ১০টি মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আদেশ আজ রোববার বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ রাষ্ট্রপক্ষের করা লিভ টু আপিলগুলো খারিজ ও নিষ্পত্তি করে এই আদেশ দেন।
সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানিয়েছেন, আইভীর বিরুদ্ধে মোট ১২টি মামলা ছিল। আজকের আদেশের ফলে ১০টি মামলায় তাঁর জামিন এখন নিষ্কণ্টক। বাকি দুটি মামলায়ও হাইকোর্ট থেকে তিনি জামিন পেয়েছেন, যার ওপর বর্তমানে কোনো স্থগিতাদেশ নেই। ফলে তাঁর কারামুক্তিতে আপাতত আর কোনো আইনি বাধা থাকছে না।
আজকের শুনানিতে মূলত দুই দফার ১০টি মামলা নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রথম দফার ৫ মামলা: হত্যা ও হত্যাচেষ্টার এই পাঁচ মামলায় হাইকোর্ট আগেই জামিন দিয়েছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করলে আজ তা খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ। ফলে এই মামলাগুলোতে আইভীর জামিন চূড়ান্তভাবে বহাল থাকল।
দ্বিতীয় দফার ৫ মামলা: এই মামলাগুলোতে হাইকোর্টের দেওয়া জামিনের ওপর চেম্বার আদালত আগে স্থগিতাদেশ দিয়েছিলেন। আজ আপিল বিভাগ সেই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন এবং হাইকোর্টে থাকা রুল নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন। এর ফলে এই পাঁচটিতেও তাঁর জামিন কার্যকর হলো।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৯ মে ভোরে নারায়ণগঞ্জের নিজ বাসা থেকে আইভীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। প্রথম দিকে তিনটি হত্যা ও দুটি হত্যাচেষ্টা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হলেও পরে পর্যায়ক্রমে মামলার সংখ্যা বাড়তে থাকে। এক বছর পার হয়ে গেলেও কোনো মামলারই তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। নিম্ন আদালতে বারবার জামিন চেয়ে ব্যর্থ হওয়ার পর তিনি উচ্চ আদালতের স্মরণাপন্ন হয়েছিলেন।
আইভীর আইনজীবী এস এম হৃদয় রহমান জানান, "আপিল বিভাগের আজকের আদেশের পর ১০টি মামলায় জামিন বহাল থাকল। আর সবশেষ দুটি মামলায় হাইকোর্ট যে জামিন দিয়েছিলেন, তা স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন করলেও চেম্বার আদালতের কার্যতালিকায় তা এখনো আসেনি। অর্থাৎ, সব মিলিয়ে ১২টি মামলাতেই আইভী এখন জামিনে আছেন। তাঁর মুক্তিতে কোনো বাধা নেই।"
অন্যদিকে, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফাতেমা আক্তারও নিশ্চিত করেছেন যে, রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনগুলো নিষ্পত্তি হওয়ায় আইভীর জামিন এখন চলমান।
কারাগারের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেই নারায়ণগঞ্জবাসীর বহুল পরিচিত এই সাবেক মেয়র আবারও জনসমক্ষে ফিরবেন বলে আশা করছেন তাঁর অনুসারী ও স্বজনরা।
2.png)
শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ মে ২০২৬
দীর্ঘ এক বছরের আইনি লড়াই শেষে কারামুক্তির দোরগোড়ায় দাঁড়িয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী। হত্যা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়াসহ তাঁর বিরুদ্ধে করা পৃথক ১০টি মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আদেশ আজ রোববার বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ রাষ্ট্রপক্ষের করা লিভ টু আপিলগুলো খারিজ ও নিষ্পত্তি করে এই আদেশ দেন।
সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানিয়েছেন, আইভীর বিরুদ্ধে মোট ১২টি মামলা ছিল। আজকের আদেশের ফলে ১০টি মামলায় তাঁর জামিন এখন নিষ্কণ্টক। বাকি দুটি মামলায়ও হাইকোর্ট থেকে তিনি জামিন পেয়েছেন, যার ওপর বর্তমানে কোনো স্থগিতাদেশ নেই। ফলে তাঁর কারামুক্তিতে আপাতত আর কোনো আইনি বাধা থাকছে না।
আজকের শুনানিতে মূলত দুই দফার ১০টি মামলা নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রথম দফার ৫ মামলা: হত্যা ও হত্যাচেষ্টার এই পাঁচ মামলায় হাইকোর্ট আগেই জামিন দিয়েছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করলে আজ তা খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ। ফলে এই মামলাগুলোতে আইভীর জামিন চূড়ান্তভাবে বহাল থাকল।
দ্বিতীয় দফার ৫ মামলা: এই মামলাগুলোতে হাইকোর্টের দেওয়া জামিনের ওপর চেম্বার আদালত আগে স্থগিতাদেশ দিয়েছিলেন। আজ আপিল বিভাগ সেই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন এবং হাইকোর্টে থাকা রুল নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন। এর ফলে এই পাঁচটিতেও তাঁর জামিন কার্যকর হলো।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৯ মে ভোরে নারায়ণগঞ্জের নিজ বাসা থেকে আইভীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। প্রথম দিকে তিনটি হত্যা ও দুটি হত্যাচেষ্টা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হলেও পরে পর্যায়ক্রমে মামলার সংখ্যা বাড়তে থাকে। এক বছর পার হয়ে গেলেও কোনো মামলারই তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। নিম্ন আদালতে বারবার জামিন চেয়ে ব্যর্থ হওয়ার পর তিনি উচ্চ আদালতের স্মরণাপন্ন হয়েছিলেন।
আইভীর আইনজীবী এস এম হৃদয় রহমান জানান, "আপিল বিভাগের আজকের আদেশের পর ১০টি মামলায় জামিন বহাল থাকল। আর সবশেষ দুটি মামলায় হাইকোর্ট যে জামিন দিয়েছিলেন, তা স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন করলেও চেম্বার আদালতের কার্যতালিকায় তা এখনো আসেনি। অর্থাৎ, সব মিলিয়ে ১২টি মামলাতেই আইভী এখন জামিনে আছেন। তাঁর মুক্তিতে কোনো বাধা নেই।"
অন্যদিকে, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফাতেমা আক্তারও নিশ্চিত করেছেন যে, রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনগুলো নিষ্পত্তি হওয়ায় আইভীর জামিন এখন চলমান।
কারাগারের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেই নারায়ণগঞ্জবাসীর বহুল পরিচিত এই সাবেক মেয়র আবারও জনসমক্ষে ফিরবেন বলে আশা করছেন তাঁর অনুসারী ও স্বজনরা।
2.png)