আন্তর্জাতিক
চীনের জ্বালানি ও বাণিজ্যের ওপর ওয়াশিংটনের খবরদারি রুখতে এবার সরাসরি আইনি রণকৌশল হাতে নিয়েছে বেইজিং। দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গত ২ মে একটি কঠোর প্রশাসনিক নির্দেশ জারি করেছে, যা সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে আমেরিকার 'সেকেন্ডারি স্যাংশন' বা পরোক্ষ নিষেধাজ্ঞার ওপর। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, চীনের সার্বভৌমত্ব ও অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যে বিদেশি কোনো অযৌক্তিক আইন আর গ্রাহ্য করা হবে না।
নিষেধাজ্ঞার মূল লক্ষ্য ছিল চীনের পাঁচটি বৃহৎ তেল শোধনাগার বা রিফাইনারি। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, হেংলি পেট্রোকেমিক্যাল ও শানডং জিনচেংয়ের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো ইরান থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি করে মার্কিনিদের 'কালোতালিকা' লঙ্ঘন করছে। তবে বেইজিংয়ের নতুন এই নীতিমালায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, নিজ ভূখণ্ডে আমেরিকার এই নিষেধাজ্ঞা কেউ মেনে চললে বা কার্যকর করার চেষ্টা করলে তাকে হিতে বিপরীত পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। অর্থাৎ, ওয়াশিংটনের আইন মানাটাই এখন চীনের মাটিতে বেআইনি বলে গণ্য হতে পারে।
মূলত ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমল থেকে শুরু হওয়া ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের নীতি বর্তমান বাইডেন প্রশাসনও অনেকটা বজায় রেখেছে। লক্ষ্য একটাই—ইরানের অর্থনীতির মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া। তবে চীনের জন্য ইরানের তেল কেবল একটি রাজনৈতিক বিষয় নয়, বরং এটি জ্বালানি নিরাপত্তার এক অপরিহার্য অংশ। সস্তা দামে তেল পাওয়ার সুযোগ এবং ডলারের বিকল্প মুদ্রায় লেনদেনের সুবিধা বেইজিংকে দীর্ঘ মেয়াদে স্বস্তি দিচ্ছে।
চীনের এই পাল্টা চালে বিশ্ব রাজনীতিতে একটি নতুন সমীকরণ উঠে এসেছে। আগে যেখানে বেইজিং কেবল কূটনৈতিক প্রতিবাদ জানিয়েই ক্ষান্ত হতো, এখন সেখানে তারা আইনি সুরক্ষা কবচ তৈরি করছে। এর ফলে চীনা কোম্পানিগুলো যেমন মার্কিন চাপের মুখেও ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার সাহস পাবে, তেমনি আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোকেও সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। যদি কোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠান মার্কিন আইন মেনে চীনা কোম্পানির সাথে চুক্তি বাতিল করে, তবে বেইজিংয়ের আদালতে তাদের জরিমানার মুখে পড়ার শঙ্কা রয়েছে।
এটি শুধু জ্বালানি খাতের লড়াই নয়, বরং ডলারকেন্দ্রিক বিশ্ব ব্যবস্থার ওপর এক নীরব চপেটাঘাত। বেইজিংয়ের এই কৌশলী অবস্থান প্রমাণ করছে যে, একতরফা নিষেধাজ্ঞার দিন ফুরিয়ে আসছে এবং বিশ্ব অর্থনীতির মঞ্চে বেইজিং এখন নিজের শর্তে খেলতে প্রস্তুত।
2.png)
শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ মে ২০২৬
চীনের জ্বালানি ও বাণিজ্যের ওপর ওয়াশিংটনের খবরদারি রুখতে এবার সরাসরি আইনি রণকৌশল হাতে নিয়েছে বেইজিং। দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গত ২ মে একটি কঠোর প্রশাসনিক নির্দেশ জারি করেছে, যা সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে আমেরিকার 'সেকেন্ডারি স্যাংশন' বা পরোক্ষ নিষেধাজ্ঞার ওপর। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, চীনের সার্বভৌমত্ব ও অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যে বিদেশি কোনো অযৌক্তিক আইন আর গ্রাহ্য করা হবে না।
নিষেধাজ্ঞার মূল লক্ষ্য ছিল চীনের পাঁচটি বৃহৎ তেল শোধনাগার বা রিফাইনারি। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, হেংলি পেট্রোকেমিক্যাল ও শানডং জিনচেংয়ের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো ইরান থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি করে মার্কিনিদের 'কালোতালিকা' লঙ্ঘন করছে। তবে বেইজিংয়ের নতুন এই নীতিমালায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, নিজ ভূখণ্ডে আমেরিকার এই নিষেধাজ্ঞা কেউ মেনে চললে বা কার্যকর করার চেষ্টা করলে তাকে হিতে বিপরীত পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। অর্থাৎ, ওয়াশিংটনের আইন মানাটাই এখন চীনের মাটিতে বেআইনি বলে গণ্য হতে পারে।
মূলত ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমল থেকে শুরু হওয়া ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের নীতি বর্তমান বাইডেন প্রশাসনও অনেকটা বজায় রেখেছে। লক্ষ্য একটাই—ইরানের অর্থনীতির মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া। তবে চীনের জন্য ইরানের তেল কেবল একটি রাজনৈতিক বিষয় নয়, বরং এটি জ্বালানি নিরাপত্তার এক অপরিহার্য অংশ। সস্তা দামে তেল পাওয়ার সুযোগ এবং ডলারের বিকল্প মুদ্রায় লেনদেনের সুবিধা বেইজিংকে দীর্ঘ মেয়াদে স্বস্তি দিচ্ছে।
চীনের এই পাল্টা চালে বিশ্ব রাজনীতিতে একটি নতুন সমীকরণ উঠে এসেছে। আগে যেখানে বেইজিং কেবল কূটনৈতিক প্রতিবাদ জানিয়েই ক্ষান্ত হতো, এখন সেখানে তারা আইনি সুরক্ষা কবচ তৈরি করছে। এর ফলে চীনা কোম্পানিগুলো যেমন মার্কিন চাপের মুখেও ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার সাহস পাবে, তেমনি আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোকেও সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। যদি কোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠান মার্কিন আইন মেনে চীনা কোম্পানির সাথে চুক্তি বাতিল করে, তবে বেইজিংয়ের আদালতে তাদের জরিমানার মুখে পড়ার শঙ্কা রয়েছে।
এটি শুধু জ্বালানি খাতের লড়াই নয়, বরং ডলারকেন্দ্রিক বিশ্ব ব্যবস্থার ওপর এক নীরব চপেটাঘাত। বেইজিংয়ের এই কৌশলী অবস্থান প্রমাণ করছে যে, একতরফা নিষেধাজ্ঞার দিন ফুরিয়ে আসছে এবং বিশ্ব অর্থনীতির মঞ্চে বেইজিং এখন নিজের শর্তে খেলতে প্রস্তুত।
2.png)