সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 আন্তর্জাতিকআন্তর্জাতিক

তামিল রাজনীতিতে বিজয়ের নতুন সূর্যোদয়

শপথ নিয়েই জনকল্যাণে বড় তিন সিদ্ধান্তে সই করলেন মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়; বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও নারী নিরাপত্তায় বিশেষ জোর।

তামিল রাজনীতিতে বিজয়ের নতুন সূর্যোদয়
ছবি -সংগৃহীত

দশকের পর দশক ধরে তামিলনাড়ুর মসনদ ভাগাভাগি করে নিয়েছে ডিএমকে কিংবা এআইএডিএমকে। দীর্ঘ ৬০ বছরের সেই চেনা সমীকরণ ভেঙে দিয়ে চেন্নাইয়ের রাজপথে আজ এক নতুন ইতিহাসের রাজতিলক পরলেন অভিনেতা থেকে রাজনীতিক হয়ে ওঠা সি জোসেফ বিজয়। তবে কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই কলমের এক খোঁচায় নিজের রাজনৈতিক দিশা স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি। জনকল্যাণ ও জননিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে তিনটি অতি গুরুত্বপূর্ণ ফাইলে স্বাক্ষর করে বিজয় বুঝিয়ে দিয়েছেন, তিনি কেবল গ্ল্যামারের জোরে নয়, বরং কাজের মাধ্যমেই মানুষের মনের গভীরে ঠাঁই নিতে এসেছেন।

রবিবার বর্ণাঢ্য আয়োজনে শপথ নেওয়ার পর বিজয়ের প্রথম বড় ঘোষণাটি আসে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে। রাজ্যের প্রতিটি পরিবারের জন্য ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিনামূল্যে অথবা বিশেষ সাশ্রয়ী মূল্যে দেওয়ার ফাইলে তিনি সই করেছেন। এছাড়া যুবসমাজকে রক্ষায় মাদকের বিরুদ্ধে 'জিরো টলারেন্স' নীতি এবং রাজ্যের নারীদের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে একটি বিশেষায়িত বাহিনী গঠনেরও নির্দেশ দিয়েছেন নবনিযুক্ত এই মুখ্যমন্ত্রী।

চেন্নাইয়ের সেই জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে যখন তিনি তার চিরাচরিত আবেগ দিয়ে বলে উঠলেন— *'এন নেঞ্জিল কুদিয়িরুক্কুম'* (আমার হৃদয়ে বসবাসকারী প্রিয়জনরা), তখন জনতা যেন তাদের প্রিয় নায়ককে এক নতুন ত্রাতা হিসেবে বরণ করে নিল। সিনেমার পর্দা থেকে রাজনীতির ময়দান— বিজয়ের এই সেতুবন্ধনটি ছিল দেখার মতো।

উল্লেখ্য, গত মাসের বিধানসভা নির্বাচনে বিজয়ের দল ১০৮টি আসনে জয় পেলেও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার ম্যাজিক ফিগার ১১৮ থেকে কিছুটা দূরে ছিল। তবে রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও মিত্রদের সাথে নিবিড় আলোচনার পর রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকারের কাছে প্রয়োজনীয় সমর্থন পেশ করেন তিনি। এখন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিধানসভায় এই সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের চ্যালেঞ্জ থাকলেও সমর্থকদের উচ্ছ্বাস বলছে, তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে সত্যিই এক নতুন যুগের সূচনা হয়েছে।

বিষয় : শপথ মুখ্যমন্ত্রী থালাপাতি বিজয়

তামিল রাজনীতিতে বিজয়ের নতুন সূর্যোদয়
0:00 0:00
1.0x
কাল মহাকাল

শনিবার, ৩০ মে ২০২৬


তামিল রাজনীতিতে বিজয়ের নতুন সূর্যোদয়

প্রকাশের তারিখ : ১০ মে ২০২৬

featured Image


দশকের পর দশক ধরে তামিলনাড়ুর মসনদ ভাগাভাগি করে নিয়েছে ডিএমকে কিংবা এআইএডিএমকে। দীর্ঘ ৬০ বছরের সেই চেনা সমীকরণ ভেঙে দিয়ে চেন্নাইয়ের রাজপথে আজ এক নতুন ইতিহাসের রাজতিলক পরলেন অভিনেতা থেকে রাজনীতিক হয়ে ওঠা সি জোসেফ বিজয়। তবে কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই কলমের এক খোঁচায় নিজের রাজনৈতিক দিশা স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি। জনকল্যাণ ও জননিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে তিনটি অতি গুরুত্বপূর্ণ ফাইলে স্বাক্ষর করে বিজয় বুঝিয়ে দিয়েছেন, তিনি কেবল গ্ল্যামারের জোরে নয়, বরং কাজের মাধ্যমেই মানুষের মনের গভীরে ঠাঁই নিতে এসেছেন।

রবিবার বর্ণাঢ্য আয়োজনে শপথ নেওয়ার পর বিজয়ের প্রথম বড় ঘোষণাটি আসে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে। রাজ্যের প্রতিটি পরিবারের জন্য ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিনামূল্যে অথবা বিশেষ সাশ্রয়ী মূল্যে দেওয়ার ফাইলে তিনি সই করেছেন। এছাড়া যুবসমাজকে রক্ষায় মাদকের বিরুদ্ধে 'জিরো টলারেন্স' নীতি এবং রাজ্যের নারীদের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে একটি বিশেষায়িত বাহিনী গঠনেরও নির্দেশ দিয়েছেন নবনিযুক্ত এই মুখ্যমন্ত্রী।

চেন্নাইয়ের সেই জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে যখন তিনি তার চিরাচরিত আবেগ দিয়ে বলে উঠলেন— *'এন নেঞ্জিল কুদিয়িরুক্কুম'* (আমার হৃদয়ে বসবাসকারী প্রিয়জনরা), তখন জনতা যেন তাদের প্রিয় নায়ককে এক নতুন ত্রাতা হিসেবে বরণ করে নিল। সিনেমার পর্দা থেকে রাজনীতির ময়দান— বিজয়ের এই সেতুবন্ধনটি ছিল দেখার মতো।

উল্লেখ্য, গত মাসের বিধানসভা নির্বাচনে বিজয়ের দল ১০৮টি আসনে জয় পেলেও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার ম্যাজিক ফিগার ১১৮ থেকে কিছুটা দূরে ছিল। তবে রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও মিত্রদের সাথে নিবিড় আলোচনার পর রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকারের কাছে প্রয়োজনীয় সমর্থন পেশ করেন তিনি। এখন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিধানসভায় এই সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের চ্যালেঞ্জ থাকলেও সমর্থকদের উচ্ছ্বাস বলছে, তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে সত্যিই এক নতুন যুগের সূচনা হয়েছে।




কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত