সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান

 জাতীয়জাতীয়

নিজ হাতে গড়া আইনেই ফেঁসে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ

সিরাজ শিকদার হত্যা সহ মানবতাবিরোধী অপরাধ ও সন্ত্রাসের অভিযোগে দলটির বিরুদ্ধে চলছে তদন্ত। ১৯৭৫ সাল থেকে সাম্প্রতিক সময়ের সব অপরাধের বিচারের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে দলটি।

নিজ হাতে গড়া আইনেই ফেঁসে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ
ছবি -সংগৃহীত

এ যেন ইতিহাসের এক অদ্ভুত পরিহাস, যে আইন নিজেদের প্রয়োজনে বিরোধীদের দমনে ব্যবহার করেছিল আওয়ামী লীগ, এখন সেই আইনই তাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং সন্ত্রাসে জড়িত থাকার অভিযোগে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে এখন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তদন্ত চলছে। তদন্তে অপরাধ প্রমাণিত হলে দলটির করা আইনের বলেই দলটি নিষিদ্ধ হতে পারে এবং বাজেয়াপ্ত হতে পারে তাদের সব সম্পদ।

১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগ সরকারই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন প্রণয়ন করেছিল। পরবর্তীতে ২০১৩ সালে এই আইনের ২ নম্বর ধারায় ‘অরগানাইজেশন’ বা ‘সংগঠন’ শব্দটি যুক্ত করে দলটি। অথচ আজ সেই একই আইনি মারপ্যাঁচে দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার প্রক্রিয়া এগোচ্ছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার সমন্বয়ক আনসার উদ্দিন খান পাঠান জানিয়েছেন, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) আবেদনের প্রেক্ষিতে এই তদন্ত শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। ১৯৭৫ সালে সিরাজ শিকদার হত্যাকাণ্ড থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগের পুরো শাসনামলে যেসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড হয়েছে, তার সবকিছুই এখন তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে।” তবে দীর্ঘ সময়ের ঘটনা হওয়ায় তদন্ত শেষ করতে কিছুটা সময় লাগতে পারে বলেও জানান তিনি।

এদিকে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম মনে করেন, বিদ্যমান আইনেই আওয়ামী লীগের বিচার করা সম্ভব। তিনি উল্লেখ করেন, বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতায় থেকে আওয়ামী লীগই সংগঠন হিসেবে কোনো দলকে নিষিদ্ধ করার আইনগুলো শক্তিশালী করেছিল। তিনি বলেন, “তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রসিকিউশনের কাছে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের পূর্ণ সুযোগ রয়েছে।” এছাড়া সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, ২০২৫ সাল থেকেই আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তদন্তের প্রক্রিয়া চলছে। আইনের বিধান অনুযায়ী, দোষী সাব্যস্ত হলে দল হিসেবে আওয়ামী লীগের নিবন্ধন বাতিল, কার্যক্রম স্থগিত এবং সম্পদ জব্দ করার মতো কঠোর সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

এই বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে আইনি অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়াও রয়েছে। সুপ্রিমকোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ মনে করেন, এটি একটি বড় আইনি চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, “দলীয় সিদ্ধান্ত হিসেবে এসব অপরাধ করা হয়েছে কি না, তা প্রমাণ করা কঠিন। তবে কেউ কেউ মনে করছেন, রাজনৈতিকভাবে চাপে রাখতে বা নির্বাচনের দৌড় থেকে সরাতেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।”

উল্লেখ্য, মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের হিসাব অনুযায়ী, গত ১৫ বছরে বন্দুকযুদ্ধ বা ক্রসফায়ারের নামে অন্তত ১ হাজার ৯২৬ জন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। এছাড়া ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে নিহত হয়েছেন প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ। এর আগে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে দেড় হাজার মানুষকে হত্যা এবং ২৫ হাজার মানুষকে আহত করার নির্দেশদাতা হিসেবে ট্রাইব্যুনাল পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। এখন দেখার বিষয়, দল হিসেবে বিচারের কাঠগড়ায় শেষ পর্যন্ত কী রায় আসে।

বিষয় : আওয়ামী_লীগ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সিরাজ শিকদার বিচার

নিজ হাতে গড়া আইনেই ফেঁসে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ
0:00 0:00
1.0x
কাল মহাকাল

বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬


নিজ হাতে গড়া আইনেই ফেঁসে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ

প্রকাশের তারিখ : ০৯ জুলাই ২০২৬

featured Image

এ যেন ইতিহাসের এক অদ্ভুত পরিহাস, যে আইন নিজেদের প্রয়োজনে বিরোধীদের দমনে ব্যবহার করেছিল আওয়ামী লীগ, এখন সেই আইনই তাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং সন্ত্রাসে জড়িত থাকার অভিযোগে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে এখন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তদন্ত চলছে। তদন্তে অপরাধ প্রমাণিত হলে দলটির করা আইনের বলেই দলটি নিষিদ্ধ হতে পারে এবং বাজেয়াপ্ত হতে পারে তাদের সব সম্পদ।

১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগ সরকারই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন প্রণয়ন করেছিল। পরবর্তীতে ২০১৩ সালে এই আইনের ২ নম্বর ধারায় ‘অরগানাইজেশন’ বা ‘সংগঠন’ শব্দটি যুক্ত করে দলটি। অথচ আজ সেই একই আইনি মারপ্যাঁচে দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার প্রক্রিয়া এগোচ্ছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার সমন্বয়ক আনসার উদ্দিন খান পাঠান জানিয়েছেন, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) আবেদনের প্রেক্ষিতে এই তদন্ত শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। ১৯৭৫ সালে সিরাজ শিকদার হত্যাকাণ্ড থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগের পুরো শাসনামলে যেসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড হয়েছে, তার সবকিছুই এখন তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে।” তবে দীর্ঘ সময়ের ঘটনা হওয়ায় তদন্ত শেষ করতে কিছুটা সময় লাগতে পারে বলেও জানান তিনি।

এদিকে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম মনে করেন, বিদ্যমান আইনেই আওয়ামী লীগের বিচার করা সম্ভব। তিনি উল্লেখ করেন, বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতায় থেকে আওয়ামী লীগই সংগঠন হিসেবে কোনো দলকে নিষিদ্ধ করার আইনগুলো শক্তিশালী করেছিল। তিনি বলেন, “তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রসিকিউশনের কাছে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের পূর্ণ সুযোগ রয়েছে।” এছাড়া সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, ২০২৫ সাল থেকেই আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তদন্তের প্রক্রিয়া চলছে। আইনের বিধান অনুযায়ী, দোষী সাব্যস্ত হলে দল হিসেবে আওয়ামী লীগের নিবন্ধন বাতিল, কার্যক্রম স্থগিত এবং সম্পদ জব্দ করার মতো কঠোর সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

এই বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে আইনি অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়াও রয়েছে। সুপ্রিমকোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ মনে করেন, এটি একটি বড় আইনি চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, “দলীয় সিদ্ধান্ত হিসেবে এসব অপরাধ করা হয়েছে কি না, তা প্রমাণ করা কঠিন। তবে কেউ কেউ মনে করছেন, রাজনৈতিকভাবে চাপে রাখতে বা নির্বাচনের দৌড় থেকে সরাতেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।”

উল্লেখ্য, মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের হিসাব অনুযায়ী, গত ১৫ বছরে বন্দুকযুদ্ধ বা ক্রসফায়ারের নামে অন্তত ১ হাজার ৯২৬ জন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। এছাড়া ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে নিহত হয়েছেন প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ। এর আগে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে দেড় হাজার মানুষকে হত্যা এবং ২৫ হাজার মানুষকে আহত করার নির্দেশদাতা হিসেবে ট্রাইব্যুনাল পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। এখন দেখার বিষয়, দল হিসেবে বিচারের কাঠগড়ায় শেষ পর্যন্ত কী রায় আসে।


কাল মহাকাল

সম্পাদকঃ  ফখরুল ইসলাম রাজীব 
প্রকাশকঃ এম কে আই কানন খান


কপিরাইট © ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত