ইসলাম ও জীবন
অঢেল সম্পদ, বিলাসবহুল জীবন কিংবা সামাজিক প্রতিপত্তি—অনেক সময় এসব থাকা সত্ত্বেও মানুষের মনে স্বস্তির অভাব দেখা যায়। আবার এমন অনেকের দেখা মেলে, যাদের আয়ের উৎস সীমিত, কিন্তু তাদের সংসারে সুখের কোনো কমতি নেই। এই দুই বিপরীত অবস্থানের মধ্যকার সেতুবন্ধন হলো ‘বরকত’। ইসলামের ভাষায়, বরকত কেবল অর্থ-সম্পদের সংখ্যাতাত্ত্বিক বৃদ্ধি নয়; বরং এটি আল্লাহর এমন এক বিশেষ অনুগ্রহ, যা জীবনকে অর্থবহ, দীর্ঘস্থায়ী ও কল্যাণময় করে তোলে।
আরবি ব্যাকরণে ‘বরকত’ শব্দের অর্থ স্থায়িত্ব, দৃঢ়তা এবং কল্যাণের ধারাবাহিকতা। যখন কোনো কাজে আল্লাহর বরকত থাকে, তখন অতি সামান্য প্রচেষ্টাও অনেক বড় সাফল্যের জন্ম দেয়। এটি এমন এক অদৃশ্য শক্তি, যা অল্পকে তৃপ্তিদায়ক এবং সীমিত সম্পদকে অভাবমুক্ত করে তোলে। পবিত্র কুরআনের সুরা আল-আন‘আমে আল্লাহ নিজে কুরআনকে ‘বরকতময় কিতাব’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, আল্লাহর বরকত যখন কোনো আমলে যুক্ত হয়, তখন সেটি বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। যেমন, কুরআন তিলাওয়াতের একটি অক্ষর পাঠ করলে দশ গুণ নেকি পাওয়া যায়। এই যে বৃদ্ধির বিশেষ ক্ষমতা, তা মূলত বরকতেরই প্রভাব।
অনেকে জীবনভর সম্পদ অর্জন করেও কেন অশান্তি পান না, তার মূল কারণ জীবনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে বরকতের অনুপস্থিতি। আল্লাহর প্রতি অকৃতজ্ঞতা, গুনাহের চর্চা কিংবা স্রষ্টার স্মরণ থেকে দূরে সরে থাকা জীবনের সেই প্রশান্তিটুকু কেড়ে নেয়। অথচ বরকত অর্জনের পথ অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘তোমরা যদি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের আরও বাড়িয়ে দেব।’ এই কৃতজ্ঞতা কেবল মুখে নয়, বরং আল্লাহর দেওয়া প্রতিটি নিয়ামতকে তার সন্তুষ্টির পথে ব্যবহার করার মধ্যেই নিহিত।
বরকত লাভের উপায় হিসেবে নামাজকেন্দ্রিক সুশৃঙ্খল জীবনযাপনের কোনো বিকল্প নেই। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ কেবল ইবাদত নয়, এটি মানুষকে মন্দ কাজ থেকে দূরে রেখে জীবনের শৃঙ্খলা ফেরায়। এর পাশাপাশি প্রয়োজন সময়ের সঠিক ব্যবহার এবং স্রষ্টার কাছে নিয়মিত প্রার্থনা। সময়, সম্পদ ও স্বাস্থ্যের বরকতের জন্য করা দোয়া মানুষের কর্মদক্ষতা বাড়িয়ে দেয়।
আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করাও বরকত বৃদ্ধির অন্যতম চাবিকাঠি। হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি নিজের রিজিক ও আয়ুতে বরকত কামনা করে, সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক অটুট রাখে। এটি কেবল সামাজিক বাধ্যবাধকতা নয়, বরং আল্লাহর রহমত ও বরকত পাওয়ার এক সহজ মাধ্যম।
পরিশেষে, বরকত এমন কোনো পার্থিব বস্তু নয় যা কেনা যায়, বরং এটি অর্জিত হয় আল্লাহর সন্তুষ্টির মাধ্যমে। জীবন যখন সততা, কৃতজ্ঞতা, ইবাদত ও উত্তম চরিত্রের ছায়ায় পরিচালিত হয়, তখনই বরকত তার ডানা মেলে। প্রকৃত সফল মানুষ তো তারাই, যারা অঢেল পাওয়ার চেয়ে আল্লাহর দেওয়া সামান্য নিয়ামতের মধ্যেও অসীম কল্যাণ খুঁজে পান এবং প্রশান্তিময় জীবন যাপন করেন।
2.png)
শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুন ২০২৬
অঢেল সম্পদ, বিলাসবহুল জীবন কিংবা সামাজিক প্রতিপত্তি—অনেক সময় এসব থাকা সত্ত্বেও মানুষের মনে স্বস্তির অভাব দেখা যায়। আবার এমন অনেকের দেখা মেলে, যাদের আয়ের উৎস সীমিত, কিন্তু তাদের সংসারে সুখের কোনো কমতি নেই। এই দুই বিপরীত অবস্থানের মধ্যকার সেতুবন্ধন হলো ‘বরকত’। ইসলামের ভাষায়, বরকত কেবল অর্থ-সম্পদের সংখ্যাতাত্ত্বিক বৃদ্ধি নয়; বরং এটি আল্লাহর এমন এক বিশেষ অনুগ্রহ, যা জীবনকে অর্থবহ, দীর্ঘস্থায়ী ও কল্যাণময় করে তোলে।
আরবি ব্যাকরণে ‘বরকত’ শব্দের অর্থ স্থায়িত্ব, দৃঢ়তা এবং কল্যাণের ধারাবাহিকতা। যখন কোনো কাজে আল্লাহর বরকত থাকে, তখন অতি সামান্য প্রচেষ্টাও অনেক বড় সাফল্যের জন্ম দেয়। এটি এমন এক অদৃশ্য শক্তি, যা অল্পকে তৃপ্তিদায়ক এবং সীমিত সম্পদকে অভাবমুক্ত করে তোলে। পবিত্র কুরআনের সুরা আল-আন‘আমে আল্লাহ নিজে কুরআনকে ‘বরকতময় কিতাব’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, আল্লাহর বরকত যখন কোনো আমলে যুক্ত হয়, তখন সেটি বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। যেমন, কুরআন তিলাওয়াতের একটি অক্ষর পাঠ করলে দশ গুণ নেকি পাওয়া যায়। এই যে বৃদ্ধির বিশেষ ক্ষমতা, তা মূলত বরকতেরই প্রভাব।
অনেকে জীবনভর সম্পদ অর্জন করেও কেন অশান্তি পান না, তার মূল কারণ জীবনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে বরকতের অনুপস্থিতি। আল্লাহর প্রতি অকৃতজ্ঞতা, গুনাহের চর্চা কিংবা স্রষ্টার স্মরণ থেকে দূরে সরে থাকা জীবনের সেই প্রশান্তিটুকু কেড়ে নেয়। অথচ বরকত অর্জনের পথ অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘তোমরা যদি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের আরও বাড়িয়ে দেব।’ এই কৃতজ্ঞতা কেবল মুখে নয়, বরং আল্লাহর দেওয়া প্রতিটি নিয়ামতকে তার সন্তুষ্টির পথে ব্যবহার করার মধ্যেই নিহিত।
বরকত লাভের উপায় হিসেবে নামাজকেন্দ্রিক সুশৃঙ্খল জীবনযাপনের কোনো বিকল্প নেই। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ কেবল ইবাদত নয়, এটি মানুষকে মন্দ কাজ থেকে দূরে রেখে জীবনের শৃঙ্খলা ফেরায়। এর পাশাপাশি প্রয়োজন সময়ের সঠিক ব্যবহার এবং স্রষ্টার কাছে নিয়মিত প্রার্থনা। সময়, সম্পদ ও স্বাস্থ্যের বরকতের জন্য করা দোয়া মানুষের কর্মদক্ষতা বাড়িয়ে দেয়।
আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করাও বরকত বৃদ্ধির অন্যতম চাবিকাঠি। হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি নিজের রিজিক ও আয়ুতে বরকত কামনা করে, সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক অটুট রাখে। এটি কেবল সামাজিক বাধ্যবাধকতা নয়, বরং আল্লাহর রহমত ও বরকত পাওয়ার এক সহজ মাধ্যম।
পরিশেষে, বরকত এমন কোনো পার্থিব বস্তু নয় যা কেনা যায়, বরং এটি অর্জিত হয় আল্লাহর সন্তুষ্টির মাধ্যমে। জীবন যখন সততা, কৃতজ্ঞতা, ইবাদত ও উত্তম চরিত্রের ছায়ায় পরিচালিত হয়, তখনই বরকত তার ডানা মেলে। প্রকৃত সফল মানুষ তো তারাই, যারা অঢেল পাওয়ার চেয়ে আল্লাহর দেওয়া সামান্য নিয়ামতের মধ্যেও অসীম কল্যাণ খুঁজে পান এবং প্রশান্তিময় জীবন যাপন করেন।
2.png)