জাতীয়
কক্সবাজারের উখিয়ায় অবস্থিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ধরা পড়ল মোহাম্মদ তোহা নামে এক ব্যক্তি। তার কাছে পাওয়া গেল জাল জাতীয় পরিচয়পত্র, ডলার, রিঙ্গিতসহ নানা দেশের মুদ্রা। শুধু তাই নয়, তার কাছে মিলেছে বাংলাদেশিদের মতো নানা সরকারি সনদ। এই ঘটনাটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং ক্যাম্পের ভেতর গড়ে ওঠা এক ভয়ংকর অপরাধের জালের ছোট্ট একটি নমুনা মাত্র। একের পর এক এমন ঘটনার পরও থামানো যাচ্ছে না জালিয়াতির এই কারবার।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গত ১৫ মে ধরা পড়ার পর তোহার ব্যাপারে বেরিয়ে আসছে নানা তথ্য। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার ঠিকানা ব্যবহার করে তিনি জালিয়াতি করে এনআইডি বানিয়েছিলেন। এই পরিচয়পত্র ব্যবহার করে তিনি ব্যাংক লেনদেন থেকে শুরু করে বিদেশ যাওয়ার পাসপোর্ট তৈরির চেষ্টাও করছিলেন। বর্তমানে তিনি পুলিশের হেফাজতে রিমান্ডে আছেন। তার মোবাইল ফোন যাচাই করলেই হয়তো বেরিয়ে আসবে, তার পেছনে কারা কাজ করছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কিছু অসাধু চক্র দীর্ঘ দিন ধরে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি পরিচয় দেওয়ার কাজ করছে। এর মাধ্যমে তারা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলছে, সিম কিনছে, এমনকি অবৈধ পথে বিদেশে পাড়ি দেওয়ার ব্যবস্থাও করে দিচ্ছে। তোহার ঘটনাটি নতুন হলেও অপরাধের এই ধরনটি বেশ পুরোনো। এর আগে ২০২১ সালে চকরিয়ায় ওসমান গনি নামে একজনকে ধরা হয়েছিল, যার কাছে পাওয়া গিয়েছিল সাতটি জাল পাসপোর্ট আর এনআইডি তৈরির নানা সরঞ্জাম। এমন জালিয়াতি যে শুধু কাগজে কলমে সীমাবদ্ধ নয়, তার প্রমাণ মিলেছে সম্প্রতি টেকনাফে। সেখানে বিজিবি প্রায় এক কোটি টাকার জাল নোটসহ একটি চক্রকে ধরেছে, যাদের মধ্যে রোহিঙ্গারাও ছিল।
গোয়েন্দা তথ্যে জানা গেছে, ক্যাম্পভিত্তিক এই অপরাধী চক্রগুলো মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা। শুধু জালিয়াতি নয়, ক্যাম্পের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বড় ধরনের শঙ্কা তৈরি হচ্ছে। মাঝেমধ্যেই উদ্ধার হচ্ছে অস্ত্র, ধরা পড়ছে সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্য। গত বছরও উখিয়ার ক্যাম্প থেকে অত্যাধুনিক উজি সাবমেশিনগানসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, এনআইডি ও জন্মনিবন্ধন ব্যবস্থা ঠিকঠাক যাচাই না করলে এই জালিয়াতি বন্ধ করা সম্ভব নয়। ক্যাম্পের ভেতরে গড়ে ওঠা এই অপরাধী নেটওয়ার্ক কেবল স্থানীয়দের জন্যই নয়, জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার পাশাপাশি পুরো ব্যবস্থাটি আরও কড়া নজরদারিতে আনা এখন সময়ের দাবি।
2.png)
শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুন ২০২৬
কক্সবাজারের উখিয়ায় অবস্থিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ধরা পড়ল মোহাম্মদ তোহা নামে এক ব্যক্তি। তার কাছে পাওয়া গেল জাল জাতীয় পরিচয়পত্র, ডলার, রিঙ্গিতসহ নানা দেশের মুদ্রা। শুধু তাই নয়, তার কাছে মিলেছে বাংলাদেশিদের মতো নানা সরকারি সনদ। এই ঘটনাটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং ক্যাম্পের ভেতর গড়ে ওঠা এক ভয়ংকর অপরাধের জালের ছোট্ট একটি নমুনা মাত্র। একের পর এক এমন ঘটনার পরও থামানো যাচ্ছে না জালিয়াতির এই কারবার।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গত ১৫ মে ধরা পড়ার পর তোহার ব্যাপারে বেরিয়ে আসছে নানা তথ্য। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার ঠিকানা ব্যবহার করে তিনি জালিয়াতি করে এনআইডি বানিয়েছিলেন। এই পরিচয়পত্র ব্যবহার করে তিনি ব্যাংক লেনদেন থেকে শুরু করে বিদেশ যাওয়ার পাসপোর্ট তৈরির চেষ্টাও করছিলেন। বর্তমানে তিনি পুলিশের হেফাজতে রিমান্ডে আছেন। তার মোবাইল ফোন যাচাই করলেই হয়তো বেরিয়ে আসবে, তার পেছনে কারা কাজ করছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কিছু অসাধু চক্র দীর্ঘ দিন ধরে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি পরিচয় দেওয়ার কাজ করছে। এর মাধ্যমে তারা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলছে, সিম কিনছে, এমনকি অবৈধ পথে বিদেশে পাড়ি দেওয়ার ব্যবস্থাও করে দিচ্ছে। তোহার ঘটনাটি নতুন হলেও অপরাধের এই ধরনটি বেশ পুরোনো। এর আগে ২০২১ সালে চকরিয়ায় ওসমান গনি নামে একজনকে ধরা হয়েছিল, যার কাছে পাওয়া গিয়েছিল সাতটি জাল পাসপোর্ট আর এনআইডি তৈরির নানা সরঞ্জাম। এমন জালিয়াতি যে শুধু কাগজে কলমে সীমাবদ্ধ নয়, তার প্রমাণ মিলেছে সম্প্রতি টেকনাফে। সেখানে বিজিবি প্রায় এক কোটি টাকার জাল নোটসহ একটি চক্রকে ধরেছে, যাদের মধ্যে রোহিঙ্গারাও ছিল।
গোয়েন্দা তথ্যে জানা গেছে, ক্যাম্পভিত্তিক এই অপরাধী চক্রগুলো মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা। শুধু জালিয়াতি নয়, ক্যাম্পের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বড় ধরনের শঙ্কা তৈরি হচ্ছে। মাঝেমধ্যেই উদ্ধার হচ্ছে অস্ত্র, ধরা পড়ছে সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্য। গত বছরও উখিয়ার ক্যাম্প থেকে অত্যাধুনিক উজি সাবমেশিনগানসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, এনআইডি ও জন্মনিবন্ধন ব্যবস্থা ঠিকঠাক যাচাই না করলে এই জালিয়াতি বন্ধ করা সম্ভব নয়। ক্যাম্পের ভেতরে গড়ে ওঠা এই অপরাধী নেটওয়ার্ক কেবল স্থানীয়দের জন্যই নয়, জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার পাশাপাশি পুরো ব্যবস্থাটি আরও কড়া নজরদারিতে আনা এখন সময়ের দাবি।
2.png)