তাইওয়ান ইস্যুতে আবারও কঠোর অবস্থান নিল চীন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সাতটি বড় প্রতিষ্ঠানের ওপর রফতানি নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির এই দেশটি। শুক্রবার চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, এসব প্রতিষ্ঠানের কাছে এখন থেকে ‘দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য’ (Dual-use) কোনো পণ্য বা প্রযুক্তি রফতানি করা যাবে না।
কেন এই নিষেধাজ্ঞা?
চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, মূলত তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রি এবং এ সংক্রান্ত সামরিক সহযোগিতায় জড়িত থাকার অভিযোগে এই সাতটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো— এফএন হেরস্টাল, অমনিপোল এ.এস, হেনসোল্ড এজি, এক্সক্যালিবার আর্মি এবং এফএন ব্রাউনিং-এর মতো নামী সব সংস্থা।
চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, দেশের জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার্থেই এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর আগে বিষয়টি নিয়ে ইউরোপীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনাও করেছে বেইজিং।
‘দ্বৈত ব্যবহার’ বলতে কী বোঝায়?
সহজ কথায়, যেসব পণ্য বা প্রযুক্তি একই সাথে সাধারণ বেসামরিক কাজ এবং সামরিক উদ্দেশ্যে (যেমন: মারণাস্ত্র তৈরি বা সরবরাহ) ব্যবহার করা যায়, সেগুলোকে ‘দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য’ পণ্য বলা হয়। চীন সরকার সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তালিকাভুক্ত এসব প্রতিষ্ঠানের সাথে এখন থেকে কোনো ধরনের প্রযুক্তি বিনিময় বা সরঞ্জাম সরবরাহ করা যাবে না। এমনকি চলমান কোনো চুক্তি থাকলে তাও অবিলম্বে বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্বাভাবিক বাণিজ্যে কোনো প্রভাব পড়বে কি?
এই নিষেধাজ্ঞার ফলে ইউরোপের সাথে চীনের সামগ্রিক বাণিজ্যে কোনো বড় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে কি না—এমন প্রশ্নে আশ্বস্ত করেছে বেইজিং। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, এই পদক্ষেপটি নির্দিষ্টভাবে কেবল ওই সাতটি প্রতিষ্ঠানের ওপর কার্যকর হবে যারা সরাসরি বিতর্কিত সামরিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত। সাধারণ বা আইন মেনে চলা ইউরোপীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যকার নিয়মিত অর্থনৈতিক আদান-প্রদান আগের মতোই স্বাভাবিক থাকবে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তাইওয়ান ইস্যুতে পশ্চিমা দেশগুলোর প্রভাব কমাতেই চীন অর্থনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে এই ধরণের রফতানি নিয়ন্ত্রণ আইন প্রয়োগ করছে। বেইজিংয়ের এই সিদ্ধান্ত বিশ্ব রাজনীতি ও সামরিক বাণিজ্যের সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
বিষয় : চায়না, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন

শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬
তাইওয়ান ইস্যুতে আবারও কঠোর অবস্থান নিল চীন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সাতটি বড় প্রতিষ্ঠানের ওপর রফতানি নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির এই দেশটি। শুক্রবার চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, এসব প্রতিষ্ঠানের কাছে এখন থেকে ‘দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য’ (Dual-use) কোনো পণ্য বা প্রযুক্তি রফতানি করা যাবে না।
কেন এই নিষেধাজ্ঞা?
চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, মূলত তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রি এবং এ সংক্রান্ত সামরিক সহযোগিতায় জড়িত থাকার অভিযোগে এই সাতটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো— এফএন হেরস্টাল, অমনিপোল এ.এস, হেনসোল্ড এজি, এক্সক্যালিবার আর্মি এবং এফএন ব্রাউনিং-এর মতো নামী সব সংস্থা।
চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, দেশের জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার্থেই এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর আগে বিষয়টি নিয়ে ইউরোপীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনাও করেছে বেইজিং।
‘দ্বৈত ব্যবহার’ বলতে কী বোঝায়?
সহজ কথায়, যেসব পণ্য বা প্রযুক্তি একই সাথে সাধারণ বেসামরিক কাজ এবং সামরিক উদ্দেশ্যে (যেমন: মারণাস্ত্র তৈরি বা সরবরাহ) ব্যবহার করা যায়, সেগুলোকে ‘দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য’ পণ্য বলা হয়। চীন সরকার সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তালিকাভুক্ত এসব প্রতিষ্ঠানের সাথে এখন থেকে কোনো ধরনের প্রযুক্তি বিনিময় বা সরঞ্জাম সরবরাহ করা যাবে না। এমনকি চলমান কোনো চুক্তি থাকলে তাও অবিলম্বে বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্বাভাবিক বাণিজ্যে কোনো প্রভাব পড়বে কি?
এই নিষেধাজ্ঞার ফলে ইউরোপের সাথে চীনের সামগ্রিক বাণিজ্যে কোনো বড় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে কি না—এমন প্রশ্নে আশ্বস্ত করেছে বেইজিং। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, এই পদক্ষেপটি নির্দিষ্টভাবে কেবল ওই সাতটি প্রতিষ্ঠানের ওপর কার্যকর হবে যারা সরাসরি বিতর্কিত সামরিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত। সাধারণ বা আইন মেনে চলা ইউরোপীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যকার নিয়মিত অর্থনৈতিক আদান-প্রদান আগের মতোই স্বাভাবিক থাকবে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তাইওয়ান ইস্যুতে পশ্চিমা দেশগুলোর প্রভাব কমাতেই চীন অর্থনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে এই ধরণের রফতানি নিয়ন্ত্রণ আইন প্রয়োগ করছে। বেইজিংয়ের এই সিদ্ধান্ত বিশ্ব রাজনীতি ও সামরিক বাণিজ্যের সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
