রাজনীতি
নব্বইয়ের উত্তাল রাজপথ কাঁপানো সেই ছাত্রনেতা, যিনি সময়ের পরিক্রমায় আজ দেশের অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদদের একজন। বলছিলাম শহিদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির কথা। গতকাল জাতীয় সংসদের অধিবেশনে দাঁড়িয়ে তিনি বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মনের ভাষা যেভাবে তুলে ধরলেন, তাতে মুগ্ধ অনেকেই। স্পষ্ট ভাষায় তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, "রামদা, চাপাতি আর হেলমেট বাহিনীর রাজনীতি ৫ আগস্টেই কবর হয়ে গেছে।"
সাবেক এই ডাকসু নেতা বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপট টেনে বলেন, আজকের তরুণরা আর ক্যাম্পাসে অস্ত্রের ঝনঝনানি দেখতে চায় না। ফ্যাসিবাদী আমলের সেই ভীতি আর পেশিশক্তির মহড়া এখন সেকেলে। তরুণ প্রজন্মের প্রত্যাশা অনুযায়ী রাজনীতি হতে হবে জ্ঞাননির্ভর এবং ছাত্রবান্ধব। তিনি প্রস্তাব করেন, দেশের জ্বালানি খাতের মতো ছাত্ররাজনীতির সংস্কার ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা নির্ধারণেও সংসদে সরকারি ও বিরোধী দল মিলে বিশেষ কমিটি গঠন করা যেতে পারে।
এ্যানির মতে, রাজনীতির আসল সৌন্দর্য হলো ‘ডিবেট’ বা বিতর্ক। যেখানে আলোচনা থাকবে, থাকবে গঠনমূলক সমালোচনাও।
লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শহিদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি থেকে শুরু করে ভারপ্রাপ্ত ভিপি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তরুণ বয়সে সংসদ সদস্য হওয়ার রেকর্ডটি দীর্ঘকাল তার দখলে ছিল (সম্প্রতি যা ভেঙেছেন এনসিপির হান্নান মাসুদ)। তবে এ্যানির বিশেষত্ব কেবল তার পদবিতে নয়, বরং তার কাজ করার ধরনে।
নির্বাচনী প্রচারণাকে তিনি এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। ডোর-টু-ডোর বা বাড়ি বাড়ি গিয়ে সাধারণ মানুষের হাত ধরা, তাদের সমস্যার কথা শোনা—এটাই তার আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তার মূল রহস্য। তিনি প্রমাণ করেছেন, মানুষের হৃদয়ে জায়গা পেতে হলে দামী গাড়ির বহর নয়, বরং সরাসরি মানুষের কাছে পৌঁছানোই সবচেয়ে বড় শক্তি।
বিগত শাসনামলে অসংখ্য হামলা-মামলা আর বাড়িঘর ভাঙচুরের শিকার হয়েও মাথা নত করেননি এই নেতা। দেশবাসীর মনে আজও গেঁথে আছে আদালত প্রাঙ্গণের সেই দৃশ্য—ভুয়া মামলায় হাজিরা দিতে যাওয়ার সময় পরনে স্যুট আর গলায় মাফলার জড়িয়ে চারপাশ ঘিরে থাকা পুলিশের মাঝ দিয়ে তার সেই আত্মবিশ্বাসী পথচলা। যা দেখে সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই তাকে সিনেমার নায়কের সাহসিকতার সাথে তুলনা করেছিলেন।
সংসদে তার এই বক্তব্য মূলত একটি নতুন ইঙ্গিত দিচ্ছে। ছাত্ররাজনীতি মানেই দখলদারিত্ব নয়, বরং সাধারণ ছাত্রদের অধিকার নিয়ে কাজ করাই যে মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত, সেই ধ্রুব সত্যটিই তিনি মনে করিয়ে দিলেন। দেশ যখন নতুন এক শুরুর অপেক্ষায়, তখন এ্যানির মতো অভিজ্ঞ নেতার মুখে তরুণদের মনের কথা আসাটা ইতিবাচক রাজনীতির এক নতুন বার্তা হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।
বিষয় : বাংলাদেশের রাজনীতি ছাত্র রাজনীতি

শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬
নব্বইয়ের উত্তাল রাজপথ কাঁপানো সেই ছাত্রনেতা, যিনি সময়ের পরিক্রমায় আজ দেশের অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদদের একজন। বলছিলাম শহিদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির কথা। গতকাল জাতীয় সংসদের অধিবেশনে দাঁড়িয়ে তিনি বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মনের ভাষা যেভাবে তুলে ধরলেন, তাতে মুগ্ধ অনেকেই। স্পষ্ট ভাষায় তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, "রামদা, চাপাতি আর হেলমেট বাহিনীর রাজনীতি ৫ আগস্টেই কবর হয়ে গেছে।"
সাবেক এই ডাকসু নেতা বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপট টেনে বলেন, আজকের তরুণরা আর ক্যাম্পাসে অস্ত্রের ঝনঝনানি দেখতে চায় না। ফ্যাসিবাদী আমলের সেই ভীতি আর পেশিশক্তির মহড়া এখন সেকেলে। তরুণ প্রজন্মের প্রত্যাশা অনুযায়ী রাজনীতি হতে হবে জ্ঞাননির্ভর এবং ছাত্রবান্ধব। তিনি প্রস্তাব করেন, দেশের জ্বালানি খাতের মতো ছাত্ররাজনীতির সংস্কার ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা নির্ধারণেও সংসদে সরকারি ও বিরোধী দল মিলে বিশেষ কমিটি গঠন করা যেতে পারে।
এ্যানির মতে, রাজনীতির আসল সৌন্দর্য হলো ‘ডিবেট’ বা বিতর্ক। যেখানে আলোচনা থাকবে, থাকবে গঠনমূলক সমালোচনাও।
লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শহিদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি থেকে শুরু করে ভারপ্রাপ্ত ভিপি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তরুণ বয়সে সংসদ সদস্য হওয়ার রেকর্ডটি দীর্ঘকাল তার দখলে ছিল (সম্প্রতি যা ভেঙেছেন এনসিপির হান্নান মাসুদ)। তবে এ্যানির বিশেষত্ব কেবল তার পদবিতে নয়, বরং তার কাজ করার ধরনে।
নির্বাচনী প্রচারণাকে তিনি এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। ডোর-টু-ডোর বা বাড়ি বাড়ি গিয়ে সাধারণ মানুষের হাত ধরা, তাদের সমস্যার কথা শোনা—এটাই তার আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তার মূল রহস্য। তিনি প্রমাণ করেছেন, মানুষের হৃদয়ে জায়গা পেতে হলে দামী গাড়ির বহর নয়, বরং সরাসরি মানুষের কাছে পৌঁছানোই সবচেয়ে বড় শক্তি।
বিগত শাসনামলে অসংখ্য হামলা-মামলা আর বাড়িঘর ভাঙচুরের শিকার হয়েও মাথা নত করেননি এই নেতা। দেশবাসীর মনে আজও গেঁথে আছে আদালত প্রাঙ্গণের সেই দৃশ্য—ভুয়া মামলায় হাজিরা দিতে যাওয়ার সময় পরনে স্যুট আর গলায় মাফলার জড়িয়ে চারপাশ ঘিরে থাকা পুলিশের মাঝ দিয়ে তার সেই আত্মবিশ্বাসী পথচলা। যা দেখে সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই তাকে সিনেমার নায়কের সাহসিকতার সাথে তুলনা করেছিলেন।
সংসদে তার এই বক্তব্য মূলত একটি নতুন ইঙ্গিত দিচ্ছে। ছাত্ররাজনীতি মানেই দখলদারিত্ব নয়, বরং সাধারণ ছাত্রদের অধিকার নিয়ে কাজ করাই যে মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত, সেই ধ্রুব সত্যটিই তিনি মনে করিয়ে দিলেন। দেশ যখন নতুন এক শুরুর অপেক্ষায়, তখন এ্যানির মতো অভিজ্ঞ নেতার মুখে তরুণদের মনের কথা আসাটা ইতিবাচক রাজনীতির এক নতুন বার্তা হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।
